শিরোনাম:

রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ সহজ হবে কি?

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ১২:৫৮
অ-অ+
রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের কাজ সহজ হবে কি?

ঢাকা: সেনা অভিযানের মুখে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিবন্ধনের কাজ শুরু করেছে সরকার। বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তাদের নাম ও ঠিকানার সাথে সাথে ছবি ও আঙুলের ছাপও সংগ্রহ করা হচ্ছে। গতকাল সোমবার থেকে এ প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তবে রোহিঙ্গাদের জনস্রোতে এই পদ্ধতি কতটা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা যায় তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে জনমনে। 

গেল ০৮ সেপ্টেম্বর বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের বিষয়টি সাংবাদিকদের প্রথমবারের মতো জানান কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট খালেদ মাহমুদ। দেশে অবস্থানরত প্রায় ৬ লাখ রোহিঙ্গাকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি তারা যাতে কোনওভাবেই ভোটার তালিকায় উঠে আসতে না পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্টদের সর্তক অবস্থানের কথাও জানান খালেদ মাহমুদ। 

একই সময়ে যেহেতু সারা দেশে ভোটার তালিকা হালনাগাদের কাজ চলছে তাই রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন এক্ষেত্রে একটি জটিলতা তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গাদের নিবন্ধনের আওতায় আনা কতটুকু সম্ভব তা নিয়ে আশঙ্কা রয়েই গিয়েছে। শুধু তাই নয়, রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের কাজটি বেশ কঠিন হবে বলে মনে করছেন খোদ নিবন্ধনের কাজ করে যাওয়া নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারাও।

নতুন-পুরনো মিলিয়ে লাখ লাখ রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন অনেক বড় চ্যালেঞ্জিং হবে উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের সংখ্যা নিরূপণ, কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে ডেটাবেইজ তৈরি এবং রোহিঙ্গা পরিবারগুলো খুঁজে বের করাই বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের বড় চ্যালেঞ্জ। কেননা বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা এদেশে প্রবেশ করে নির্দিষ্ট এক জায়গায় বসে নেই। অনেকেই বাঙালি জনগোষ্ঠির সঙ্গে মিশে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যাচ্ছে। দেশের নাগরিকদের নিয়েই বায়োমেট্রিকের এই কারিগরি কাজটি করতে যেখানে ইসিকে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা মিয়ানমারের এই নাগরিকদের সুশঙ্খলভাবে বায়োমেট্রিক নিবন্ধনের আওতায় আনাতো বিশাল কর্মযজ্ঞ।

রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন নিয়ে গত ২৯ জুলাই ব্রেকিংনিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। যাতে রোহিঙ্গা ঠেকাতে কী করবে ইসি এমন প্রশ্নও উঠে আসে।

সংশ্লিষ্টদের থেকে জানা যায়, গত তিন দশকে সীমান্ত অতিক্রম করে কি পরিমাণ রোহিঙ্গা এ দেশে এসেছে তার সঠিক পরিসংখ্যান সরকারের কাছে নেই। শুধুমাত্র প্রথম দিকে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মাধ্যমে কিছু রোহিঙ্গার নিবন্ধন করা হয়েছিলো। তাদেরকে রাখা হয়েছিলো নিবন্ধিত শরণার্থী শিবিরে।

কিন্তু গত এক দশকে রোহিঙ্গা আসার পরিমাণ বাড়লেও হয়নি কোনো নিবন্ধন। এর মাঝে কয়েক লাখ রোহিঙ্গা যেমন বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে মিশে গেছে। তেমনি জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় ঢুকে পড়েছে হাজার হাজার রোহিঙ্গা।

এ বিষয়ে কক্সবাজার রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন প্রতিরোধ কমিটির প্রতিষ্ঠাতা আদিল উদ্দিন চৌধুরী বলেন, 'রোহিঙ্গারা নানা উপায়ে আমাদের মধ্যে জায়গা করে নিয়ে মিশে যাচ্ছে। এদেরকে শনাক্ত করে এক জায়গায় নিয়ে আসতে হবে।'

গত ২৩শে আগষ্ট থেকে নতুন করে তিন লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারের টেকনাফ এবং উখিয়া সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছে।

কিভাবে নিবন্ধনের কাজ সম্পন্ন করা হবে জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট একে এম লুৎফর রহমান ব্রেকিংনিউজকে বলেন, ‘আমাদের টেকনিক্যাল লোক যন্ত্রপাতি নিয়ে আসছে। সেসবের মাধ্যমে আঙুলের ছাপ নিয়ে নিবন্ধন করা হবে।  এরপর হাতের ১০ আঙুল ও চোখের আইরিশের ছাপ নেয়া হবে।’



প্রাথমিকভাবে টেকনাফ এবং উখিয়াকে ২০টি জোনে ভাগ করে রোহিঙ্গাদের নিবন্ধন করা হবে। এক্ষেত্রে প্রযুক্তির পাশাপাশি জনবল দিয়ে নিবন্ধন কার্যক্রম সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ৩৪ বিজিবি অধিনায়ক লে. কর্নেল মঞ্জুরুল হাসান খান।

রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তি ঠেকানোয় রোহিঙ্গা অধ্যুষিত দেশের চার জেলার ৩০টি উপজেলার দিকে বিশেষ নজর রাখেছে ইসি। এসব বিশেষ এলাকার মধ্যে কক্সবাজার জেলার ৮টি, বান্দরবানের ৭টি, রাঙামাটির ৮টি ও চট্টগ্রামের ৭টি উপজেলা রয়েছে।

উপজেলাগুলো হলো- কক্সবাজার সদর, চকোরিয়া, টেকনাফ, রামু, পেকুয়া, উখিয়া, মহেশখালী ও কুতুবদিয়া। বান্দরবান সদর, রুমা, থানচি,বোয়াংছড়ি, আলীকদম, লামা ও নাইক্ষ্যংছড়ি। রাঙামাটি সদর, লংগদু, রাজস্থলী, বিলাইছড়ি, কাপ্তাই, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বরকল। চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগড়া ও বাঁশখালী।

ইসি সূত্র ব্রেকিংনিউজকে জানায়, আগে রোহিঙ্গা অধ্যুষিত বিশেষ উপজেলা ছিল ২০টি। এবার আরও ১০টি উপজেলা চিহ্নিত করা হয়েছে। এই ৩০টি এলাকার জন্য বিশেষ কমিটি করা রয়েছে। রোহিঙ্গাদের ভোটার হওয়া ঠেকাতে এসব এলাকায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এসব এলাকায় কেউ ভোটার হতে চাইলে তাকে কমিটির কাছে মা-বাবা, ফুফু-চাচার এনআইডি দেখাতে হবে। এসব না থাকলে কিংবা বিদেশি নাগরিকত্বের প্রমাণ পেলে তাকে ভোটার করা হবে না।

রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকায় বিশেষ কমিটি:
রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকার বিশেষ কমিটির ১৪ জন সদস্য হলেন- উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা, সহকারী কমিশনার(ভূমি), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিনিধি, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের প্রতিনিধি,প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি, স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রতিনিধি, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ(পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে), হেড ম্যান (পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে), কারবারি (পার্বত্য জেলার ক্ষেত্রে) ও ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান।

ব্রেকিংনিউজ/এজেডখান/এমআর