শিরোনাম:

আরো পারমাণবিক স্থাপনা চান বিশেষজ্ঞরা

রাশেদ শাওন
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ০৭ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৩:২৬
অ-অ+
আরো পারমাণবিক স্থাপনা চান বিশেষজ্ঞরা

ঢাকা: রূপপুরে প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের যাত্রা শুরু হওয়ার পর দেশে পরমাণু গবেষণার জন্য ল্যাবরেটরি স্থাপন, আরো পারমাণবিক স্থাপনা তৈরি এবং এর পরিসর বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের (বিএইসি) সাবেক চেয়ারম্যান এম আলী জুলকার নাঈন বলেন, পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো খুবই স্পর্শকাতর। আর এ কারণে এখানে প্রচলিত নিয়মে গবেষণা চালানো ঠিক হবে না।

তিনি আরো বলেন, ‘বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য। গবেষণার জন্য এটা কোনো আদর্শ স্থান নয়। বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনায় গতানুগতিক গবেষণা সমস্যা তৈরি করতে পারে। পরমাণু বিষয়ক গবেষণায় তাই আলাদা স্থাপনা দরকার।’

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয় ১৯৬১-৬২ সালে। তবে ২০১১ সালের ২ নভেম্বর রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের আন্তঃসরকার সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর এই প্রকল্পের কাজ গতি পায়। এর ছয় বছর পর প্রকল্পের মূল নির্মাণ পর্বের কাজ শুরু হলো।

এর মাধ্যমে বাংলাদেশ পৃথিবীর পারমাণবিক ক্লাবের ৩২তম সদস্যদেশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলো। একই সঙ্গে বাংলাদেশ এশিয়ার মধ্যে ষষ্ঠ এবং সার্কের তৃতীয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বাস্তবায়নকারী দেশের তালিকায় ঢুকল।

জুলকার নাঈন একে দেশের অর্থনীতির জন্য ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবেও আখ্যায়িত করেন।

প্রায় একই কথা বলেছেন বাংলাদেশ ফিজিক্স সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ইশতিয়াক এম সৈয়দ। তার ভাষায়, ‘পর্যাপ্ত জ্বালানি ও বিদ্যুৎ ছাড়া দেশ উন্নতি লাভ করতে পারবে না। শিল্পায়ন বাধাগ্রস্ত হবে। ইতিমধ্যে গার্মেন্টস শিল্প আমাদের হাতছাড়া হচ্ছে। এক কথায়, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ নিরাপত্তা একটি অত্যাবশ্যকীয় বিষয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা ইউরেনিয়াম ব্যবহারের পথে যাচ্ছি। এটা সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত। এক কেজি ‘ইউরেনিয়াম-২৩৫’ থেকে দুই থেকে তিন মিলিয়ন গুণ কয়লার সমান জ্বালানি পাওয়া যায়। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ খুবই উপযুক্ত সিদ্ধান্ত।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘গতানুগতিক অন্যান্য শক্তির চেয়ে পরমাণু শক্তির বিশেষ সুবিধা আছে। এর জন্য ন্যূনতম অবকাঠামোগত উন্নয়ন দরকার। এছাড়া পরিবেশের ওপরও প্রচলিত বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার মারাত্মক প্রভাব আছে, যেখানে পারমাণবিক প্রকল্পগুলো পরিবেশবান্ধব।’

ব্রেকিংনিউজ/ আরএস