শিরোনাম:

২০১৭: শিশু-নারী ধর্ষণ ৭৮৩, বিচারবহির্ভূত হত্যা ১৫৪

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮, ১২:০১
অ-অ+
২০১৭: শিশু-নারী ধর্ষণ ৭৮৩, বিচারবহির্ভূত হত্যা ১৫৪

২০১৭ সালে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মোট ৭৮৩ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ১৫৪ জন। এছাড়া গেল বছরটিতে ৮৬ জন গুম ও রাজনৈতিক সহিংসতায় ৭৭ জন প্রাণ হারিয়েছেন বলে এক বার্ষিক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বেসরকারি মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার’।

শুক্রবার সংস্থাটির প্রকাশ করা ‘বার্ষিক মানবাধিকার প্রতিবেদন ২০১৭’-তে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক বছরে ১৪ জ ‍নারী-শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে, গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৯৩ জন এবং ৪ জন নারী আত্মহত্যা করেছেন। এই সময়কালে আরও ৮১ জন নারীকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়েছে, গত বছর আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ৬৬ জন নিহত ও ৩ হাজার ৩২৭ জন আহত হয়েছেন। বিএনপির অভ্যন্তরীণ সংঘাতে ২২৫ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করা হয়।

সংস্থাটির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও দায়মুক্তির কারণে ২০১৭ সালেও গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার হেফাজতে নির্যাতন এবং কারাগারে মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত ছিল।

২০০৯ সাল থেকে গুমের প্রবণতা যেমন অস্বাভাবিকভাবে শুরু হয়েছিল তেমনি ২০১৭ সালে একটি নতুন প্রবণতা শুরু হয়, যেমন হঠাৎ করেই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ‘নিখোঁজ’ হয়ে যাওয়া। ফলে তারা কী গুমের শিকার নাকি সাধারণ অপহরণের শিকার তা জানা কঠিন হয়ে পড়ে; যারা ফেরত এসেছেন তারাও স্পষ্ট করে কিছুই জানাননি।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড:
অধিকার জানায়, ২০১৭ সালে নিহত ১৫৪ জনের মধ্যে ১৩৯ জন ‘ক্রসফায়ার/এনকাউন্টার/বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে পুলিশের হাতে ১১৬ জন, র‌্যাবের হাতে ৩৩জন, ডিবি পুলিশের হাতে ২ জন এবং অন্যান্য বাহিনীর হাতে ৩জন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়াও পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও অন্যান্য বাহিনীর হাতে নির্যাতনে নিহত হয়েছেন ১২ জন। এর মধ্যে পুলিশের হাতে ৯, র‌্যাবের হাতে ১, বিজিবির হাতে ১ ও অন্যান্য বাহিনীর হাতে ১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ১ জন পুলিশের গুলিতে ও ২জন পুলিশের পিটুনিতে মারা গেছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নিহতদের পরিচয়:
অধিকার জানায়, নিহত ১৫৪ জনের মধ্যে ২ জন বিএনপি নেতা, ১ জন শিবির কর্মী, ১ জন পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের নানিয়ারচর শাখার সাধারণ সম্পাদক, ১ জন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সদস্য, ১ জন নিউ বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টি (মৃণাল বাহিনী)’র সদস্য, ১ জন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য, ২জন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (লাল পতাকা)’র সদস্য, ১ জন পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি (এমএল জনযুদ্ধ)’র সদস্য, ১ জন সর্বহারা পার্টির সদস্য, ৫ জন জেএমবি’র সদস্য, ১ জন হরকাতুল জিহাদ-আল-ইসলামী’র সদস্য, ১ জন গরু ব্যবসায়ী, ১ জন গ্রামবাসী, ২ জন ব্যবসায়ী, ১ জন কাঠমিস্ত্রী, ১ জন কৃষক, ১ জন ড্রাইভার, ১ জন চতুর্থ শ্রেণির সরকারি কর্মচারী, ২ জন বিভিন্ন মামলার আসামি, ১ জন সাজাপ্রাপ্ত আসামি রয়েছেন।

গুম ৮৬ জন:
অধিকার’র প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০১৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮৬ জনকে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য পরিচয়ে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর থেকে তাদের গুম হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে ৯ জনের লাশ পাওয়া গেছে এবং ৪৫ জনকে গুম করার পর পরবর্তীতে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ১৬ জনকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এখনও পর্যন্ত বাকি ১৬ জনের কোনও খোঁজ পাওয়া যায়নি।

সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা:
অধিকার জানায়, ২০১৭ সালে ১ জন সাংবাদিক নিহত, ২৪ জন আহত, ৯ জন লাঞ্ছিত, ১১ জন হুমকির সম্মুখীন ও ৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

বিএসএফ’র হাতে নির্যাতন ও হত্যা:
অধিকার জানায়, ২০১৭ সালে বিএসএফ ২৫ জন বাংলাদেশি নাগরিককে হত্যা করেছে। এদের মধ্যে ১৮ জনকে গুলিতে, ৪ জনকে নির্যাতন করে, ১ জনকে পাথর ছুঁড়ে, ১ জন বিএসএফ’র ধাওয়া খেয়ে পদ্মা নদীতে পড়ে গিয়ে ডুবে মারা যান এবং ১জনকে বোমা ও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করা হয়েছে। 

এছাড়া ৩৯ জন বাংলাদেশিকে বিএসএফ আহত করেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এদের মধ্যে ১৫ জন বিএসএফ’র গুলিতে, ১৫ জন নির্যাতনে, ৬ জন পাথর নিক্ষেপের কারণে এবং ৩ জন সাউন্ড গ্রেনেড বিস্ফোরণে আহত হয়েছেন। এই সময়ে বিএসএফ অপহরণ করে ২৮ বাংলাদেশিকে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআরএস/এমআর

সম্পর্কিত বিষয়ঃ   বিএনপি