শিরোনাম:

শব্দের কাজিয়া

জিয়াউদ্দিন সাইমুম
প্রকাশিত : মঙ্গলবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০১৮, ১১:০৪
অ-অ+
শব্দের কাজিয়া

বাংলা বানানবিধির মানদণ্ড কি হওয়া উচিত তা নিয়ে ভাষাবিদরা তাদের মতামত দিয়ে গেছেন, কেউ কেউ এখনো দিচ্ছেন। এ ব্যাপারে পঞ্চাশের দশকেই সংস্কৃত পণ্ডিত ক্ষিতীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তাঁর ‘শব্দকথা’ গ্রন্থে একটি আকর্ষণীয় গাইডলাইন দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘বাঙ্গালা ভাষায় পাঠক ও লেখকের সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে অভিনব বিচিত্র শব্দের সংখ্যাও প্রতিদিন বৃদ্ধি পাইতেছে। ফলে ভাষাতত্ত্বের দিক দিয়া এই সকল শব্দের আলোচনার অবসর উপস্থিত হইয়াছে। কোন শব্দ অপাণিনীয় হইলেই যে উহা বিষবৎ, পরিত্যাজ্য (দোহাই কম্পোজিটর পরিত্যজ্য করিও না!) ইহা এক্ষণে কেহই বলিতে সাহস করিবেন না, আবার পাণিনির প্রতিকূলতাচরণই যে পরম পুরুষার্থ তাহাও কেহই স্বীকার করিতে সম্মত হইবেন না। একদিকে যেমন ‘সৃজন’ শব্দকে ভাষার রাজ্য হইতে নির্ব্বাসিত করা সম্ভব হইবে না অপর দিকে তেমনই আপত্তিকে পৌরাধিকার প্রদান করা সম্ভব হইবে না।’ 
 
রবীন্দ্রনাথের মতে, যথার্থ বাংলা ভাষা প্রাকৃত ভাষা, সংস্কৃত ভাষা নয়। তিনি এটাও বলেছেন, ‘বাংলা শব্দ ভাষার ভূষণ নহে, ভাষার অঙ্গ- সুতরাং তাহাকে বোপদেবের সূত্রে মোচড় দিলে চলিবে না।’
 
এট ঠিক, ভাষা সজীব হলে এবং অন্যভাষার সংস্পর্শে এলে, নানা কারণে ভাষার নতুন উপাদান আসে, যুক্ত হয় নতুন বৈশিষ্ট্য। বাংলা ভাষা সজীব হবার কারণেই নতুন নতুন শব্দ গ্রহণ করেত পারছে, হোক না তা বিদেশী। কিন্তু বানান সংস্কারের নামে বাছবিচারহীনভাবে যেখানে সেখানে কোদাল চালানো যায় না। ভাষা চলিষ্ণু জিনিস, ওটা কারো মায়াবী মর্জির ফসল নয়; প্রাতিস্বিক খামখেয়ালীর বিচরণক্ষেত্রও নয়। সময়ের নিয়মে স্বাভাবিকভাবেই এতে নতুন শব্দ যোগ হবে, বিয়োগও হবে। কিন্তু ‘সময়-সম্মানিত’ বা গৃহীত শব্দের অবয়বে যুক্তির লেবেল সেঁটে রাতারাতি পাল্টাতে যাওয়া মোটেই বৈজ্ঞানিক চিন্তাধারার ফসল বিবেচিত হতে পারে না। কারণ পৃথিবীতে কোনো ভাষাতেই বানান সংস্কার রাতারাতি সম্পন্ন হয়নি। নিচে এক হালি ‘বিতর্কিত’ শব্দ নিয়ে আলোকপাত করা হলো।
 
ইতিমধ্যে না ইতঃমধ্যে
ইতি শব্দের মূল অর্থ ‘এই’ বা ‘এই প্রকার’। সংস্কৃত ইতঃ মানেও এই বা এই প্রকার। কিন্তু চিঠির শেষে ‘ইতি’ লেখার প্রচলন থেকেই ভুলক্রমে ‘ইতি’ শব্দের অর্থ ‘শেষ’ হয়ে গেছে এবং তা গৃহীতও হয়েছে (পড়ল ঘুমের দফায় ইতি- দ্বিজেন্দ্রলাল রায়)।  প্রকৃতপক্ষে চিঠির শেষে ‘ইতি’ লাগানো হতো ‘এই’ অর্থে। এটা দিয়ে বোঝাতো ‘এই পর্যন্ত, আর নয়’।
 
সংস্কৃতেও এটার সাক্ষ্য মেলে। যেমন ‘ইতি উপক্রমণিকা সমাপ্তা’ ‘ইতি ত্রিকা- শেষ’; ‘ইতি অব্যয়বর্গ: সমাপ্ত’। এই কথা কয়টিতে ‘ইতি’ মানে ‘শেষ’ নয়। বরং ‘সমাপ্তা’, ‘শেষ’ ও ‘সমাপ্ত’ মানে শেষ।
 
ইতি শব্দের অর্থ যে প্রকৃতপক্ষে ‘শেষ’ নয়, তার প্রমাণ পাওয়া যায় ‘ইতিমধ্যে’ আর ‘ইতিপূর্বে’ শব্দ দুটির মাঝে। তারপরও কেউ কেউ ইতিমধ্যে আর ইতিপূর্বের পরিবর্তে ‘ইতোমধ্যে’ ও ‘ইতঃপূর্বে’ চালুর জন্য উঠে পড়ে লেগেছেন। এটা নিতান্তই অপ্রয়োজনীয়। কারণ এসব শব্দকে সংস্কৃতের নিক্তি দিয়ে মেপে ঠিক করতে গেলে ‘নিন্দুক’, হিংসুক, ‘অবহেলা’, ‘সহায়ক’, ‘পদাতিক’ ‘দশমিক’সহ অনেক শব্দই শুদ্ধ করে নিতে হবে। কারণ সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী এসব শব্দ হবে যথাক্রমে ‘নিন্দক, হিংসক, অবহেল, সাহায়ক, পাদাতিক, দাশমিক। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সুনীতিকুমার, ললিতকুমার আর ক্ষিতিশচন্দ্রের মতো সংস্কৃতপ্রাজ্ঞরা ‘ইতিমধ্যে’ আর ‘ইতিপূর্বে’ মেনে নিয়েছেন।
 
বিজনবিহারী ভট্টাচার্য তাঁর ‘বঙ্গভাষা ও বঙ্গসংস্কৃতি’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘আমরা অনেক সময় রক্ষণশীলতাবশত ব্যাকরণকে যতটা আঁকড়ে থাকতে চাই ততটা উচিত কিনা তা ভাবার সময় এসেছে। ঊনবিংশ শতাব্দীর গোড়া থেকে তথাকথিত অশুদ্ধ শব্দ দুটি (ইতিমধ্যে; ‘ইতিপূর্বে’) ভাষায় স্থান পেয়ে গেছে। শতাব্দীর চতুর্থ দশকে আমরা শিক্ষকের আসনে বসে ছাত্রদের বলেছি, ‘ইতঃপূর্বে’, ‘ইতোমধ্যে’ চলিত ভাষায় ব্যবহার করা যাবে না। সাধু ভাষাতেও নিতান্ত দরকার না হলে প্রয়োগ না করাই ভাল।’ (পৃষ্ঠা ১২১-১২৪)। অন্যদিকে জ্যোতিভূষণ চাকী তাঁর বাগর্থকৌতুকীতে লিখেছেন ‘ইতিপূর্বে ইতিমধ্যে দোষ করল কী? আর এই দুটি শব্দই তো ব্যাকরণসম্মত। ইতি’র মধ্যেই ‘ইত’ লুকিয়ে আছে।’
 
আর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁর ‘বাংলা শব্দতত্ত্ব’ গ্রন্থে লিখেছেন, ‘অনেক পণ্ডিত ‘ইতিমধ্যে’ কথাটা চালিয়েছেন, ‘ইতোমধ্যে’ কথাটার ওকালতি উপলক্ষে আইনের বই ঘাঁটবার প্রয়োজন দেখিনে- অর্থাৎ এখন ঐ ইতোমধ্যে শব্দটার ব্যবহার সম্বন্ধে দায়িত্ব বিচারের দিন আমাদের হাত থেকে চলে গেছে।’
 
ভাষায় শব্দের বিকল্প থাকে। বাংলায়ও আছে। অথচ বাংলায় বিকল্প শব্দগুলি স্বাভাবিক নিয়মে আসছে না; বানান সংস্কারের নামে বিকল্প শব্দগুলিকে ডেকে আনা হচ্ছে। এটা সংস্কার নয়; ‘সংহার’। সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুযায়ী বিকল্পে ‘যুবতি’ বানানটিও শুদ্ধ। তাই বলে প্রচলিত ‘যুবতী’র মাথা থেকে দীর্ঘ ঈ-কারের ঘোমটা এতোদিন পর টেনে খুলে তার বুকে হ্রস্ব ই-কারের একচিলতে ওড়না চাপিয়ে দিলেই কি তার শালীনতা বেড়ে যাবে?

 
অতলস্পর্শ, অতলস্পর্শী
বাংলা ভাষায় ‘অগাধ বা তল স্পর্শ করা যায় না’ অর্থে বিশেষণ হিসেবে অতলস্পর্শ শব্দটি যেমন চালু, তেমনি অতলস্পর্শী শব্দটিও চালু। দুটিই শুদ্ধ। তবে অতলস্পর্শী শব্দটিতে দীর্ঘ-ঈ কারের ব্যবহার নিয়ে কেউ কেউ আপত্তি করেছেন। দীর্ঘ-ঈ কার প্রয়োগে আপত্তির ব্যাপারে তাঁরা হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেন। হরিচরণ তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে অতলস্পর্শের ব্যাখ্যায় লিখেছেন ‘ন তল স্পর্শ যাহার’- নঞ বহুব্রীহি। তিনি অতলস্পর্শের স্ত্রীলিঙ্গ হিসেবে অতলস্পর্শা নির্দেশ করেছেন। কিন্তু বাংলায় অতলস্পর্শা শব্দের প্রচলন নেই। প্রচলন রয়েছে অতলস্পর্শ ও অতলস্পর্শীর। মজার ব্যাপার হচ্ছে অতলস্পর্শের চেয়ে অতলস্পর্শীর প্রয়োগ বাংলায় বেশি।
 
প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘অনু-হিন্দুস্থান’-এ লিখেছেন, ‘আর সে সব হ্রদ এত গভীর যে তাদের অতলস্পর্শী বললে অত্যুক্তি হয় না।’ অন্যদিকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তার শ্রীকান্ত উপন্যাসে লিখেছেন ‘এই গভীরতা যে কিরূপ অতলস্পর্শী সে কথা যাহার জানা নাই, তাহাকে লিখিয়া বুঝানো যায় না।’ আর বুদ্ধদেব বসু তাঁর ‘কবি রবীন্দ্রনাথ’-এ লিখেছেন, ‘যা একাধারে ধৃষ্টতা ও অজ্ঞতায় অতলস্পর্শী’।
 
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ‘অতলস্পর্শ’ই ব্যবহার করতেন। যেমন বঙ্কিমচন্দ্র লিখেছেন ‘অনন্ত সমুদ্রের অতলস্পর্শ জল মধ্যে যে আণুবীক্ষণিক জীব’। অবশ্য বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় অতলস্পর্শীও লিখতেন ‘এই উপকূলেশ্বরী সীতাকে রামচন্দ্র নিদ্রিতাবস্থায় ঐ অতলস্পর্শী আন্ধারসাগরে ডুবাইলেন- উত্তরচরিত।’ অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ‘অনুত্তরঙ্গ সমুদ্র আপন অতলস্পর্শ গভীরতায় স্থি’র হয়ে আছে।’
 
অনুবাদিত, অনূদিত
‘অনূদিত’ অর্থে এক সময় ‘অনুবাদিত’ শব্দটি ব্যবহৃত হত (এক্ষণে যিনি বোম্বাই হাইকোর্টের জজ, তিনি ইহা ইংরেজিতে অনুবাদিত করিয়াছেন- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়; তাহার মনে ইংরাজী বৈজ্ঞানিক গ্রন্থসকল সংস্কৃত ভাষাতে অনুবাদিত করিবার বাসনা প্রবল হয়- শিবনাথ শাস্ত্রী)। অনুবাদিত শব্দটিকে অনেকে অশুদ্ধ বললেও শব্দটি ‘অন্যের দ্বারা অনূদিত’ অর্থে ঠিকই চলছে (কালীপ্রসন্ন সিংহ কর্তৃক অনুবাদিত)। এটার অর্থ কালীপ্রসন্ন সিংহ এটা নিজে অনুবাদ করেননি, অন্যকে দিয়ে অনুবাদ করিয়ে নিয়েছেন।
 
প্রকৃতপক্ষে ভাষান্তরিত অর্থে বাংলায় ‘অনুবাদিত’ শব্দটিকে ভুল বলার সুযোগ নেই (ইংরেজিতে অনুবাদিত হইয়া ইংলণ্ডে যায়- বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)। কিন্তু সংস্কৃতে বাংলা অনুবাদিত শব্দের সমতুল হচ্ছে ‘অনূদিত’। মনিয়ের উইলিয়ামসে ‘অনুবাদিত’-কে অসাধু বলা হয়েছে। গণ্ডগোলের শুরু এখানেই। আবার সংস্কৃতে অনূদিত অর্থে ‘পশ্চাৎ কথিত’ও চালু রয়েছে।
 
চিন্তাহরণ চক্রবর্তী তাঁর ‘ভাষা সাহিত্য সংস্কৃতি’ গ্রন্থের ৭ পৃষ্ঠায় লিখেছেন, ‘ক্ত-প্রত্যয় ব্যবহারে বাংলায় যে বৈচিত্র্য লক্ষিত হয়, তাহার মধ্যে বাংলা শব্দে ধ্বনিগৌরববৃদ্ধির উদ্দেশ্য প্রচ্ছন্ন রহিয়াছে মনে হয়। তাই মূল ধাতুকে অকারণে ণিজন্ত করা হয় এবং প্রত্যয়ের পূর্বে ই-কার যুক্ত হয়। ফলে বিস্তৃত স্থলে বিস্তারিত, প্রস্তুত স্থলে প্রস্তাবিত, অনূদিত স্থলে অনুবাদিত, খাত স্থলে খনিত, স্পৃষ্ট স্থলে স্পর্শিত, কৃষ্ট স্থলে কর্ষিত, ব্যুঢ় স্থলে বিবাহিত, আবৃত স্থলে আবরিত, আহৃত স্থলে আহরিত, ক্ষীণ স্থলে ক্ষয়িত, বিবৃত স্থলে বিবরিত, সিক্ত স্থলে সিঞ্চিত, বিতীর্ণ স্থলে বিতরিত প্রভৃতি প্রয়োগ দেখিতে পাওয়া যায়।’
 
অন্যদিকে শ্রীবীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস তাঁর ‘রবীন্দ্রশব্দকোষ’ গ্রন্থের ১৫ পৃষ্ঠায় (দি ইউনিভার্সাল প্রেস, ১৯৭১) লিখেছেন, ‘ণিজন্ত প্রবণতা অন্যতম বৈশিষ্ট্য। রবীন্দ্ররচনায় এই ণিজন্তকৃত শব্দগুলি দেখা যায়: অনুবাদিত, আবরিত, আস্ফালিত, আহরিত, উদ্বর্তিত, উদ্বারিত, উদ্বোধিত, উদ্ভাবিত, উন্মেষিত, খনিত, নর্তিত, পোষিত, বিকাশিত, বিদারিত, বিরহিত, বিসর্জিত, মর্জিত, সম্ভাবিত।’
 
অস্তমান, অস্তায়মান
অস্তমান শব্দটির বিরুদ্ধে অনেকের আপত্তি আছে। তারা মনে করেন, শব্দটি শুদ্ধ নয়। এ কাতারে রয়েছেন রাজশেখর বসু, কবি কালিদাস রায়। আবার হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, নবীনচন্দ্র সেন ও রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাংলা কাব্যে শব্দটিকে সাবলীলভাবে ব্যবহার করেছেন। জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাস তাঁর অভিধানে শব্দটিকে জায়গাই দেননি। তাঁর মতে, ‘অস্তায়মান’ শুদ্ধ। এ মতের অনুসারী বেশি।
 
অন্যদিকে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, শব্দটি উদীয়মানের অনুকরণে গঠিত। মজার ব্যাপার হচ্ছে তাঁর বঙ্গীয় শব্দকোষে ‘অস্তায়মান’ শব্দটি নেই। সংস্কৃত ব্যাকরণের বিধান অনুযায়ী শব্দটি গঠিত নয় বলেই অনেকেই শব্দটির বিরোধিতা করেন। কিন্তু শব্দটি বাংলা ভাষার প্রকৃতি বিরোধী নয়। বাংলা ভাষায় শব্দ দুটিই চালু। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ‘সন্ধ্যামণি’ গল্পে লিখেছেন ‘অস্তায়মান সূর্যের সঙ্গে যে যাহার পথ চলিয়া যায়।’ অন্যদিকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শুধু কাব্যেই নয় গদ্যতেও শব্দটি ব্যবহার করেছেন (কখনো অস্তমান চন্দ্রের মতো অনিমেষ ভাবে চাহিয়া থাকে)।
 
এদিকে চলন্তিকা ও সংসদ অভিধান রায় দিয়েছে ‘অস্তমান’ অশুদ্ধ। অভিধান দুটোতেই বলা হয়েছে, অস্তমান শব্দের শুদ্ধরূপ হচ্ছে ‘অস্তায়মান’। অথচ অস্তমান শব্দটি যে সংস্কৃত নিয়মে গঠিত হয়নি, তা হরিচরণের বঙ্গীয় শব্দকোষে দেখানো হয়েছে। হরিচরণের মত সংস্কৃতপ্রাজ্ঞ দাবি করেছেন, উদীয়মান শব্দের অনুকরণে অস্তমান শব্দটি গঠিত। তবে তিনি এটাও দাবি করেছেন, শব্দটি পদ্যে ব্যবহৃত হয় (শেষ যৌবনের ভরে দেহ ঢল ঢল করে, অস্তমান ভানুর তুলনা- হেমচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়)। কিন্তু শব্দটি গদ্যপদ্যে ব্যবহৃত হচ্ছে (কখনো অস্তমান চন্দ্রের মতো অনিমেষভাবে চাহিয়া থাকে- শোভা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; সাক্ষী করি পশ্চিমের সূর্য অস্তমান তোমারে সঁপিয়াছিনু আমার পরান- পদ্মা, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর; সুন্দর ও সুদীর্ঘ পথের সর্বত্রই তাহাদের সাজসজ্জা ও বিচিত্র পরিধেয় অস্তমান রবিকরে অপরূপ হইয়া উঠিয়াছে- শেষ প্রশ্ন, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়)।
 
লেখক: সাংবাদিক ও গবেষক
 
ব্রেকিংনিউজ/জিসা