শিরোনাম:

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জাতি উদ্বিগ্ন: ফখরুল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বৃহস্পতিবার, ১৭ অগাস্ট ২০১৭, ০১:১৮
অ-অ+
রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে জাতি উদ্বিগ্ন: ফখরুল

ঢাকা: রাষ্ট্রপতির সাথে আইনমন্ত্রী ও এ্যাটর্নী জেনারেলকে নিয়ে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাতে সমগ্র জাতি উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সাবেক মহাসচিব ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদারের ১৮তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে ব্যারিস্টার আব্দুস সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ পরিষদ।

তিনি বলেন, সুপ্রীম কোট যে রায় দিয়েছে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে গিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাৎ করা হয়েছে। যেটা হওয়ার কথা নয়, নজীর বিহীন। তাই রাষ্ট্রপতির সাথে প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ নিঃসন্দেহে সমগ্র জাতিকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। শুধু তাই নয় সম্প্রতি আওয়ামী লীগের দলের সাধারণ সম্পাদক প্রধান বিচারপতির সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, নৈশ্যভোজ করেছেন। সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এবং আওয়ামী লীগের ছোট ছোট পাতি নেতারা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্বে কুৎসা রটিয়ে যাচ্ছেন। এবং সুপ্রীম কোর্ট সর্ম্পকে যেভাবে মন্তব্য করছে তা কোনো গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় চলতে পারে না। বিএনপির যার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান যে সরকার আছে সেই সরকার বৈধভাবে নির্বাচিত সরকার নয়। অনৈতিকভাবে তো বটেই। তারা জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি সংসদে নেই। ১৫৩ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত। শতকরা ৫% ভোটও হয়নি। তাই এই সংসদকে জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সংসদ বলতে পারি না।

দেশে বর্তমানে নতুন করে উদ্বেগ-আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে দাবি করে দলটির মহাসচিব বলেন, হাইকোর্টে রায়ের পরে, সরকারের আপিল করার পরে সুপ্রীম কোর্টের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতভাবে রায় দিয়েছে যে ষোড়শ সংশোধনী বেআইনি। সংবিধানের সাথে সামঞ্জ্যপূর্ণ এবং তাকে কোনও মতেই আইন করা যেতে পারে না। এই রায়ে কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়া হয়েছে। দেশের মানুষের জন্য, ন্যায় বিচার, আইনের শাসন, সংবিধান সমন্বিত রাখার জন্য এই ষোড়শ সংশোধনীর রায় একটি যুগান্তরকারি রায়। 

তিনি বলেন, বিচার বিভাগ নিজেরোই বলছে তারা স্বাধীন নয়। তারা বলছে সরকার বিচার বিভাগ নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করছে। শুধু চেষ্টা করছে না, গতকালও দেখলাম এই সরকারের স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তিনি আইনমন্ত্রী ও এ্যাটর্নী জেনারেলকে নিয়ে রাষ্ট্রপতির সাথে দেখা করেছেন মিটিং করেছেন। বিষয় ষোড়শ সংশোধনী রায়ের উপরে।

যারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও ক্ষমতা হরণে ষড়যন্ত্র করবে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাড়াতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

আব্দুস সালাম তালুকদারের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, তিনি (আব্দুস সালাম) দলকে পুর্নগঠিত করতে সক্ষম হয়েছিল। এবং আন্দোলনের মাধ্যমে স্বৈরচার সরকারকে পরাজিত করে জনগণের সরকার বিএনপির সরকার প্রতিষ্টা করেছিল।

ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আজকে যারা দেশ ধ্বংস করতে,গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে চাচ্ছে ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। এটা নিঃসন্দেহে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের মধ্যে পড়ে। আর কথায় কথায় বলেন আমরা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করছি। অথচ আপনারা প্রকাশ্যে রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করছেন। সংবিধানকে ছিন্নভিন্ন করছেন। সেগুলো তো ভাবেন না। একটি কথা স্পষ্ট প্রত্যেকের বিচার হয়। একদিন এর বিচার হবে।’
 
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দিনের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, কেন্দ্রীয় নেতা নিলুফার চৌধুরী মনি, আনোয়ার হোসেইন, শফিউল বারী বাবু প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি/ এম/ এসএ/ এমএইচ