শিরোনাম:

​জিয়ার শাসনামল অবৈধ হলে আ.লীগও অবৈধ: ফখরুল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট,
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭, ১২:১৮
অ-অ+
​জিয়ার শাসনামল অবৈধ হলে আ.লীগও অবৈধ: ফখরুল
ফাইল ছবি; ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি

ঢাকা: শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামল অবৈধ হলে আওয়ামী লীগও অবৈধ বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘জিয়াউর রহমানের শাসনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্নই আসে না। বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের কথা বলার অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ফিরিয়ে দেয়া অবৈধ হতে পারে না। শুধু তাই নয়, জিয়াউর রহমানের সময়ে বিধিমালা অনুসরণ করেই আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন করেছে। পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগ সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত সকল রাজনৈতিক কার্যক্রম করে যাচ্ছে। ফলে জিয়ার শাসন অবৈধ হয়ে থাকলে আজকের আওয়ামী লীগও অবৈধ। মূলত আওয়ামী লীগের স্বভাবজাত কৌশল মূল বিষয়ে উল্টাপাল্টা কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করা।’

শনিবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে ফুলেল শ্রদ্ধাঞ্জলি জানাতে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি। জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের ৩৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এ শ্রদ্ধাঞ্জলি জানান।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য ফেরানো ইসি’র কাজ নয়- সিইসি’র এমন মন্তব্যের সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজ কী? তাদের কাজ কী শুধু সরকার যা চাইবে সেই কাজ করা, নিশ্চয়ই নয়। সংবিধানে বলা আছে- সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণের মাধ্যমে, সকল ভোটারের ভোট প্রদানের মাধ্যমে, একটা সুন্দর সহায়ক পরিবেশের মধ্যে ভোট নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশনের।’ 

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের কাজ হচ্ছে সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে নিয়ে আসা। এটা শুধু আমার কথা নয়, পত্রপত্রিকায়ও এসেছে এটা দেশের সকল শ্রেণি পেশার মানুষের মতামত।’

দেশে একটা সংকট আছে মন্তব্য করে ফখরুল বলেন, ‘দেশে একটা রাজনৈতিক সংকট আছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে নিরপেক্ষ নির্বাচন হওয়া সম্ভব নয়। বিশেষ করে এই সরকারের অধীনে। আর সেই জন্যই তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। অথচ দুর্ভাগ্যজনক ভাবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দিয়েছে। দলীয় সরকারের অধীনে তাদের প্রয়োজনে নির্বাচন ব্যবস্থা চালু করেছে। আমরা (বিএনপি) সব সময় এর বিরোধীতা করে এসেছি। বলে এসেছি নির্বাচনকালীন সময়ে যদি নিরপেক্ষ সরকার না হয়, সেক্ষেত্রে নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব নয়। আর এজন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের দাবি করে আসছেন।’ 

সংলাপের ভবিষ্যত এবং বিএনপি মূল এজেন্টা কী হবে জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংলাপের ভবিষ্যত কী হবে তা সহজেই বুঝা যাচ্ছে। প্রধান নির্বাচন কমিশন তো বলেই দিয়েছেন তিনি শুধু শুনবেন, তারপর সিদ্ধান্ত নেবেন। আর বিএনপি সংলাপে কী ধরনের প্রস্তাব দেয় তা সংলাপকালীন সময়ে জানতে পারবেন।’ 

বন্যা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘বিএনপি বন্যা দুর্গতের ত্রাণ দিচ্ছে না বলে ক্ষমতাসীনদের এই কথা কেউ বিশ্বাস করবে না। কারণ বিএনপিই প্রথম বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ শুরু করেছে। ইতোমধ্যে আমরা ত্রাণ কমিটি গঠন করেছি এবং আমাদের পক্ষে যতটা সম্ভব বন্যা দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছি। বরং সরকার কাজ না করে তাদের যে মুখের জোর আছে সেই দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। এটা বিএনপির কথা নয়; এটা বন্যার্ত এলাকার মানুষের কথা এবং যে সকল সংগঠন বন্যার্তদের পাশে দাঁড়িয়েছে তাদের কথা। একটি কথা স্পষ্ট- সরকার এই বন্যা মোকাবেলায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। তাদের ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অত্যন্ত অপ্রতুল।’ 

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ (সরকার) ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে রিভিউ অবশ্যই করতে পারে, সেই অধিকার তাদের আছে। সেটা বড় প্রশ্ন নয়, প্রশ্ন হচ্ছে ষোড়শ সংশোধনীর রায়কে নিয়ে তারা (সরকার) একটা ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। ফলে রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র বিপদগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। বিচার বিভাগের রায় নিয়ে এ ধরনের অবস্থা আগে কখনও দেখিনি। তারা সরকারি দল সংক্ষুব্ধ। তারা জোর করে প্রধান বিচারপতির সাথে দেখা করেছেন এবং রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করেছেন। শুধু তাই নয়, আইনমন্ত্রী ও অ্যাটর্নি জেনারেলকে সাথে নিয়ে প্রধানমন্ত্রীও রাষ্ট্রপতির সাথে সাক্ষাত করেছেন যাতে সমগ্র জাতি উদ্বিগ্ন। তারা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ধ্বংস করতে চায়। আসলে সরকার চায় এই রাষ্ট্রের সকল গণতান্ত্রিক স্তম্ভ ধ্বংস করে আবার সেই একদলীয় শাসন ব্যবস্থায় ফিরে যাওয়া।’ 

বিএনপির সহায়ক সরকারের রুপরেখায় ষোড়শ সংশোধনী রায়ের প্রতিফলন থাকবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন সহায়ক সরকারের রুপরেখা প্রকাশ হবে তখন জানতে পারবেন।’ 

এসময় বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক এবি এম মোশাররফ হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি শফিউল বারী বাবু, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের ভূইয়া জুয়েল, সাংগঠনিক ইয়াসিন আলীসহ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।

 ব্রেকিংনিউজ/ এম/ এসএ