শিরোনাম:

‘রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর লোক দেখানো’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : বুধবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৭:৫০
অ-অ+
‘রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রীর লোক দেখানো’
ছবি: ব্রেকিংনিউজ

ঢাকা: কক্সবাজারে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেখতে যাওয়া প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার লোক দেখানো বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন,‘রোহিঙ্গাদের মাঝে বিএনপির ত্রাণ বিতরণে বাধা সৃষ্টিতে প্রমাণ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রোহিঙ্গাদের দেখতে যাওয়া ও ত্রাণ বিতরণের উদ্দেশ্য ছিলো লোক দেখানো। কারণ মিয়ানমার থেকে প্রাণের ভয়ে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও ক্ষমতাসীন সরকার যদি আন্তরিক হতো তাহলে অন্তত বিএনপির পক্ষ থেকে যাওয়া উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দলের ত্রাণ বিতরণে বাধা দেয়া হতো না।’

বুধবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ১০ম কারামুক্তি দিবস উপলক্ষে এ আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপি। এসময় বিএনপির ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রমে বাধা দেয়ার ঘটনায় নিন্দা জানান মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন,  ‘আমি বিএনপির প্রতিনিধি দলের ত্রাণসামগ্রী বিতরণে বাধা দেয়ার জন্য  প্রধানমন্ত্রী ও সরকারের প্রতি ধিক্কার দেই, ঘৃণা প্রকাশ করছি।’

ফখরুল বলেন, ‘অসহায় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় বিএনপির কেন্দ্রীয় ত্রাণ বিতরণকারী দলকে কক্সবাজারের উখিয়া যেতে বাধা দেয়ার ঘটনায় সরকারের মুখোশ উন্মোচিত হয়েছে। এই মাত্র আমাদের কাছে খবর এসেছে কক্সবাজারে আমাদের  যে  কেন্দ্রীয় রিলিফ টিম ২২টি ট্রাক নিয়ে গিয়েছিলো জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের নেতৃত্বে। তাদেরকে উখিয়াতে প্রশাসন যেতে দিচ্ছে না, পুলিশ ট্রাক আটকিয়ে দিয়েছে।  শুধু তাই নয়,কক্সবাজারে আমাদের বিএনপি অফিস পুলিশ ঘিরে রেখেছে। আমাদের শীর্ষস্থানীয় নেতারা অফিস ঘরে আটকা পড়ে আছেন।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমি সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের মাঝে বিএনপির ত্রাণসামগ্রী বিতরণে সকল প্রতিবন্ধকতা দূর করা হউক। অনাহারে দিনযাপন করা রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণে বিএনপিকে সুযোগ দেয়া হউক।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরাও নির্বাচন চাই। তবে সেই নির্বাচনের আগে নির্বাচনী পরিবেশ ও পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে হবে। সর্বপ্রথম বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ সকল রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। নির্বাচনকালীন নিরপেক্ষ সহায়ক সরকারের অধীনে সকল দলের অংশগ্রহণে একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করে জনগণের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। অন্যথায় আপনারা (সরকার) যেভাবে গুম খুন মিথ্যা মামলা দিয়ে নির্যাতন নিপীড়ন চালাচ্ছেন তার জন্য একদিন জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে, জনগণের কাছে জবাব দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ভুলে গেলে চলবে না যে, ১/১১ সরকার বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে কলঙ্কময় অধ্যায়। তারা বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে হত্যা করার উদ্দেশ্য নিয়ে মূলত প্রথমে গ্রেফতার পরবর্তীতে নির্যাতন চালায়। আর এখন তাদের কুশীলবদের সাথে আতাত করে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার জোর করে ক্ষমতায় বসে আছে। তাদেরকে সরাতে হবে একটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন প্রক্রিয়ায়। একটি গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করে আওয়ামী লীগকে জনগণের হাতে ক্ষমতা হস্তাস্তরের জন্য বাধ্য করা হবে, যা বিএনপির দায়িত্ব।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ক্ষমতায় এসে তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। আজকে তারা বিচারবিভাগকে প্রতিপক্ষ বানিয়েছে। সংসদকে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে লাগিয়ে দিয়েছে। সংসদে একটি প্রস্তাব আনা হচ্ছে ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে প্রধান বিচারপতির দেয়া রায়ের পর্যবেক্ষণ বাতিল বলে গণ্য করা হউক। এটা সুনির্র্দিষ্টভাবে সংসদকে বিচারবিভাগের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করানো। আমরা এর নিন্দা জানাচ্ছি। শুধু তাই নয়, প্রধান বিচারপতিসহ অন্যান্য বিচারকদের হেয় করে রাষ্ট্রের মূল ভিত্তিকে নষ্ট করে ফেলা হচ্ছে।  উদ্দেশ্য এই রাষ্ট্রকে তারা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে রাখতে চায় না, এটাকে একটা পুরোপুরিভাবে পরনির্ভরশীল দুর্বল জাতি হিসেবে রাখতে চায়। সেজন্য তারা এই প্রতিষ্ঠান ও স্তম্বকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।’

প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘ক্ষমতাসীন সরকার আবারও গায়ের জোরে একতরফা নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসতে নানান ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। উদ্দেশ্য জনগণ ও বাংলাদেশের বিদেশি বন্ধুদের সাথে ফের প্রতারণা করে নির্বাচন দেয়া।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনায় তিনি বলেন, ‘আপনি বলেছিলেন চীন এবং ভারতের সাথে বর্তমানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক সবচেয়ে উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। অথচ এখন দেখতে পাচ্ছি মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীন ও ভারত মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। তাহলে কী প্রধানমন্ত্রীর চীন ও ভারত নিয়ে কথার কোনও ভিত্তি নেই। যার প্রমাণ তারা (চীন ও ভারত) তো এখন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে নেই। অর্থাৎ বাংলাদেশের পাশে কেউ নেই। ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতি।’

সভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল, বিশেষ সম্পাদক ড. আসাদুজ্জামান রিপন, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাহ উদ্দিন টুকু, ঢাকা মহানগর বিএনপি (উত্তর) সিনিয়র সহ-সভাপতি মুন্সী বজলুল বাসিত আঞ্জু, মহিলা দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরীন খান, শ্রমিকদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান, স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম ফিরোজ, ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব আহসান প্রমুখ।

ব্রেকিংনিউজ/এম/এনএআর

সংশ্লিষ্ট আরো খবর