শিরোনাম:

মালয়েশিয়ায় দেশের গৌরব নীরব হোসেন

মালয়েশিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত : সোমবার, ০৮ জানুয়ারী ২০১৮, ১১:৪০
অ-অ+
মালয়েশিয়ায় দেশের গৌরব নীরব হোসেন

পৃথিবীর সর্বত্র ছড়িয়ে আছেন অজস্র বাংলাদেশী। তারা প্রতিনিয়ত মেধা আর প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। তাদেরই একজন শরীয়তপুরের মো: নীরব হোসেন।
 
শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ থানার মনুয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা হাজী আব্দুল আজিজের একমাত্র ছেলে নীরব। যিনি নিজের যোগ্যতায় প্রবাসে কৃষি কাজে সাফল্য অর্জন করেছেন। মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের গেন্টিং হাইল্যান্ডে সালাদ ফার্ম করে তিনি এখন স্বাবলম্বী।
 
২০০১ সালে উচ্চ শিক্ষার জন্য পাড়ি জমান মালয়েশিয়ায়। সেখানে শুরু করেন হোটেল ম্যানেজমেন্টে পড়াশোনা। পাশাপাশি একটি রেস্টুরেন্টে পার্টটাইমার হিসেবে চাকরি শুরু করেন। চাকরির সুবাদে পরিচয় হয় বৃটিশ নাগরিক অ্যালেস্টারের সঙ্গে। দুইজনই একটি থ্রি-স্টার রেস্টুরেন্টে চাকরি করতেন।
 
নীরবের ইচ্ছা ছিল মালয়েশিয়া থেকে পড়াশোনা শেষ করে ইউরোপের ভালো কোনো দেশে পাড়ি জমানো। কিন্তু বৃটিশ নাগরিকের পরামর্শে মালয়েশিয়াতেই থেকে যান। তিনিই মূলত নীরব হোসেনকে পরামর্শ দেন মালয়েশিয়াতে সালাদ ফার্ম করার। সেই থেকে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেন স্বপ্নবাজ তরুণ নীরব হোসেন।
 
এদিকে, কলেজে পড়াকালে পরিচয় হয় মালয়েশিয়ার পাহাং রাজ্যের রয়েল পরিবারের তরুণী ফাতেমা বিনতে ইসমাইলের সঙ্গে। একদিন ক্লাস শেষে ফাতেমার কাছে তার স্বপ্নের কথা বলতেই ফাতেমা তাকে গ্যান্টিং হ্যাইল্যান্ডে তাদের নিজেদের জমির কথা বলেন এবং তার পিতা মোহাম্মদ ইসমাইল উদ্দীনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
 
মালয়েশিয়াতে ব্যবসা শুরু করতে হলে প্রয়োজন লোকাল কোনো ব্যক্তি। যার নামে থাকবে সম্পূর্ণ কাগজপত্র। আর এই দিক থেকে সকল সহযোগিতা করেন ইসমাইল উদ্দিন। আকার হাসিল এসডিএন.বিএইসডি নামক কোম্পানির তত্ত্বাবধানে সালাদ ফার্মের নাম দেন গ্যান্টিং গ্রিন গার্ডেন।
 
কুয়ালালামপুর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরে মাটি থেকে ৮৫০ মিটার উপরে পাহাড়ের উপর গ্যান্টিং নামক স্থানে শুরু করেন স্বল্প পরিসরে। ধীরে ধীরে সালাদ ফার্মটি এখন ৫ একর জমিতে রূপান্তরিত হয়েছে। সকল প্রকার লেটুসপাতা ছাড়াও উৎপাদিত হয় বিশ্বমানের কয়েক প্রকার সালাদ পাতা যার মধ্যে আছে লোল্লো বিয়ানদো, রেডিসচিও, ওয়াটারক্রেস, বাটার লেটুস, রকেট/আরুগুলা, রেড ওরাস, গ্রিন রোমাইন, ড্যান্ডেলিয়নের মত জনপ্রিয় সালাদ পাতা। 
 
এখানকার উৎপাদিত সালাদ মালয়েশিয়ার ফাইভস্টার হোটেল, কেএফসি, ম্যাকডোনালস, নান্দুস, স্টারবাক্স, বড় বড় সুপারশপ এমনকি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান ছাড়াও সিংগাপুর এবং দুবাইতে রফতানি করা হয়।
 
সালাদ ফার্মের জন্য ব্যবহৃত সকল প্রকার বীজ থেকে শুরু করে ইকুইপমেন্ট বলতে যা বোঝাই সবই জার্মানি থেকে আমদানি করা হয়ে থাকে এবং ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়।
 
নীরব হোসেন বলেন, বর্তমানে তার ফার্মে ৭জন বাংলাদেশী শ্রমিক কাজ করে থাকেন। তারাই মূলত ফার্মটির দেখভাল করে থাকেন। তারা আমার পরিবারের সদস্যের মতো। আমি যখন অন্যান্য দেশে ব্যবসার জন্য যাই তখন তারা নিজ দায়িত্বে ফার্মটি দেখাশোনা করেন। ইতিমধ্যে তিনি সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, জাপান, জার্মান, ইতালি, ফ্রান্স, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও নিউজিল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে ব্যবসায়িক সফর করেছেন। যার মধ্যে নেদারল্যান্ডের এনজা কোম্পানি, টোকিওর সাকাতা ও জার্মানির বায়ার নামক ৩টি নাম করা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ শুরু করেছেন।
 
এদিকে, আগামী জুন মাসে তিনি নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা দেবেন। সেখানে তিনি নিজস্ব সালাদ ফার্মের ব্যবসা শুরু করতে যাচ্ছেন। যার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন বলে জানা গেছে।
 
এদিকে কুয়ালালামপুরে নীরব হোসেনের আরও কয়েকটি পরিচয় আছে যার মধ্যে অন্যতম তিনি মালয়েশিয়া আওয়ামী-যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির অন্যতম সদস্য ছাড়াও মার্শালআর্টে ব্লাকবেল্ট প্রাপ্ত।
 
দেশের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি মালয়েশিয়াতে ২০১৫ সালের ২১ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়া আন্তর্জাতিক তায়কোয়ান্ডো প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের হয়ে মাঠে নামেন নিরব হোসেন। স্পিড পাওয়ার ইন্টারন্যাশনাল তায়কোয়ান্ডো চ্যাম্পিয়নশিপ-২০১৫ টুর্নামেন্টে ১১টি দেশের অংশগ্রহণে এ টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয় কুয়ালালামপুরের চেরাস ব্যাডমিন্টন স্টেডিয়ামে। সেখানে তিনি বাংলাদেশের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করেন।
 
এতো পরিচয় ছাপিয়ে নীরব হোসেন নিজেকে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশী কৃষক বলতে গর্ববোধ করেন।
 
ব্রেকিংনিউজ/জিয়া