শিরোনাম:

মুমিনুল প্রশ্নে জর্জরিত সংবাদ সম্মেলন!

স্পোর্টস ডেস্ক
ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি
প্রকাশিত : শনিবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৭, ০৭:৪৩
অ-অ+
মুমিনুল প্রশ্নে জর্জরিত সংবাদ সম্মেলন!

ঢাকা: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হোম সিরিজে মূল দল ঘোষণা হয়ে গেছে ইতোমধ্যেই। নির্বাচকরা স্বাভাবিকভাবেই একটি প্রশ্নের ব্যাপারে প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিলেন। তারাও জানেন সাংবাদিকরা একটি প্রশ্ন নিয়েই হাজির হবেন। কিন্তু একটি প্রশ্রের ব্যাখ্যা এতোভাবে দিতে হবে, তা বোধ হয় ভাবেননি প্রধান প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদিন নান্নু।

দল গঠন করা হয় সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায়। অথচ সেই সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করেও নাকি মুমিনুলকে দলে রাখার জন্য যথেষ্ট কোনো কারণ খুঁজে পাননি কোচ এবং নির্বাচকরা। যে কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টের দলে রাখাই হয়নি মুমিনুল হককে। মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সঙ্গে বাদ দেয়া হয়েছে তাকে। দলে ফেরানো হয়েছে নাসির হোসেনকে। রাখা হয়েছে সৌম্য সরকার, লিটন কুমার দাসকেও।

প্রথমেই সাংবাদিকরা মিনহাজুল আবেদিনকে প্রশ্ন করলেন মুমিনুলের ব্যাপারে। জবাবে তিনি বলেন, ‘মুমিনুলের সামগ্রিক যে ফর্ম, আমাদের কাছে যে পরিসংখ্যান আছে… জানুয়ারি থেকে শ্রীলঙ্কা সিরিজ পর্যন্ত, ছয় ইনিংসে ওর একটি মাত্র ফিফটি। এ পারফরম্যান্সের জন্যই ওকে রাখা হয়নি। তার পরও আমাদের পরিকল্পনায় আছে, প্রস্তুতির মধ্যেই আছে। যখন-যাকে দরকার, তখন ব্যবহার করা হবে। ’

টেস্টে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে মুমিনুলেরই গড় সবচেয়ে বেশি। ৪৬.৮৮ করে। তার পেছনে রয়েছেন সাকিব আল হাসান। গড় ৪০.৯২ করে। সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনায় যদি দল নির্বাচন করা হয়, তাহলেও মুমিনুলকে বাদ দেয়ার সুযোগ নেই। 

এরপর আবার আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘মুমিনুলের ক্ষেত্রে কি পরিসংখ্যানই বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে, নাকি অন্য কিছুও ছিল? প্রধান নির্বাচক এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘সামগ্রিক পারফরম্যান্সের জন্য মুমিনুল বাদ। ও যেই জায়গায় ব্যাট করছে, সেই জায়গায় সৌম্য সরকার ও ইমরুল কায়েসকে আমরা এগিয়ে রেখেছি। সৌম্যর আট ইনিংসের চারটিতে ফিফটি রয়েছে। ওর গড় ৪৫.৭৫। এ কারণে মুমিনুল বিবেচনার নিচে চলে গেছে। ঘরের মাঠে ইমরুলের পারফরম্যান্সও যথেষ্ট ভালো। মাঝে ইনজুরির কারণে অনেকগুলো ম্যাচ মিস করেছে। সার্বিক ফর্মের জন্য মুমিনুলকে নিচে রাখা।’


মিনহাজকে ১৯৯৯ সালে তার দল থেকে বাদ পড়া স্মরণ করিয়ে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, ‘সবশেষ দুই টেস্টে ফিফটি না পেলেও আগের ১১ টেস্টে টানা ফিফটি ছিল মুমিনুলের। তাকে বাদ দেওয়াটা কতটুকু ঠিক হলো? ১৯৯৯ বিশ্বকাপের আগে আপনাকে বাদ দেওয়ার পর প্রবল সমালোচনার মুখে আবার নেওয়া হয়েছিল। আজ কি মনে হয়, আপনার এই সিদ্ধান্ত সমলোচিত হবে?’ এমন গভীর প্রশ্নের জবাবে ভড়কে যাওয়া মিনহাজ বলেন, ‘এভাবে আমাকে বললে সেটা ঠিক হবে না। আমাদের প্রধান কোচ এখানে আছেন, উনাকেও ব্যাপারটি জিজ্ঞেস করতে পারেন। মুমিনুলের প্রসঙ্গে আপনারা ওর পরিসংখ্যানের দিকে যাচ্ছেন না। গত এক বছরে ওর গড় ২৮-এ নেমে এসেছে। ও যেভাবে ওর ক্যারিয়ার শুরু করেছিল, সেই মাত্রায় কিন্তু নেই।’

‘মুমিনুল’ প্রশ্ন ছোঁড়া হয়েছিলো কোচ হাথুরে সিংহের দিকেও। তিনিও সাফ সাফ জবাব দিয়েছেন এই ব্যাটসম্যানের বাদ পড়া নিয়ে। সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুলের বাদ পড়ার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, ‘কয়েকজন খেলোয়াড়কে বাদ দেয়া হয়েছে তাদের সাম্প্রতিক ফর্ম বিবেচনা করে। কয়েকজনকে বাদ দেয়া হয়েছিল আমাদের সর্বশেষ টেস্ট থেকেও। কারও নাম বলবো না। কারণ দলই হচ্ছে আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ। যারা দল থেকে বাদ পড়েছে, তাদের চিন্তা করা উচিৎ, কেন বাদ পড়েছে। নিশ্চয়ই এর পেছনে কারণ রয়েছে। তারা তো এখনও প্রস্তুতি ক্যাম্পে রয়েছে। কঠোর পরিশ্রমও করছে তারা। তাদের মধ্যে আমরা আত্মবিশ্বাস দেখতে পাচ্ছি। সময় তো শেষ হয়ে যায়নি। ভবিষ্যতের জন্য তারা নিজেদের প্রস্তুত করে তুলুক!’

ঠিক বছর পাঁচের আগে ২০১৩ সালের ৮ মার্চ শ্রীলঙ্কায় গল টেস্টে অভিষিক্ত হন মুমিনুল। তার পর শুধু সফলতার চূড়া অভিমুখে যাত্রা। টেস্ট স্কোয়াডেই নিজের নাম লিখিয়ে গিয়েছিলেন মুমিনুল। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখার পর এক সময় পর্যটন নগরী কক্সবাজারের এই মেধাবী ক্রিকেটারের গড় দাঁড়িয়েছিলো ৬৩.০৫। যা কিনা ক্রিকেট ইতিহাসে বিরল! তার নামই হয়ে গিয়েছিলো ‘টেস্ট স্পেশ্যালিস্ট মুমিনুল’। এই তকমাটি এখনও তার ক্রিকেটশৈলীর সঙ্গে মিশে আছে। 

যদিও সাম্প্রতিক সিরিজগুলোতে তার ব্যাট হেসেছে খুব কম সময়েই। এক সময় তো টেস্টে ৬৩.০৫ গড় নিয়ে স্যার ব্রড ম্যানের ঠিক পেছনেই ছিলেন তিনি। স্যার ডন ব্রড ম্যানের ৯৯.৯৪ গড় রানের পর মমিনুল হক দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন গড়ে ৬৩.০৫ রান নিয়ে। কিন্তু গত শ্রীলঙ্কা সফরে গল টেস্টের পর যখন জয়গা হারালেন একাদশে, গড় তখন নেমে হয়েছে ৪৬.৮৮।

ব্রেকিংনিউজ/ইএইচ