শিরোনাম:

এবার দায়িত্বটা আরও বেশি: সাকিব

সিনিয়র স্পোর্টস করেসপন্ডেন্ট
প্রকাশিত : সোমবার, ১১ ডিসেম্বর ২০১৭, ০৭:১৪
অ-অ+
এবার দায়িত্বটা আরও বেশি: সাকিব

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়কত্বের বিষয়টি অবশ্য সাকিব আল হাসানের জন্য নতুন কিছু নয়। ২০০৯ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে মাশরাফি বিন মুর্তজা ইনজুরিতে পড়লে সাকিবকে অধিনায়ক করা হয়েছিল। বয়স কতোইবা ছিল তখন। ২১ কিংবা ২২ বছর। তখনই পেয়ে যান গুরু দায়িত্ব। তরুণ বয়সে জাতীয় দলটা সেভাবে পরিচালনা করতে পারেননি। 

বর্তমানে বিশ্বের অনেক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলায় সাকিবের অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও বেশ সমৃদ্ধ হয়েছে। তাই এবার নেতৃত্বটা সহজ হবে বলে মনে করছেন সাকিব। তবে এবার নেতৃত্ব উপভোগের চেয়ে দায়িত্বটাকে আরও বড় করে দেখছেন বিশ্বসেরা এ বাঁহাতি অলরাউন্ডার। 

সাকিব যখন প্রথমবার জাতীয় দলের অধিনায়ক হলেন। তখনও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) তিন ফরম্যাটের অধিনায়কের পথে হাঁটা শুরু করেনি। তাইতো ওই সময়টাতে বাংলাদেশ দলের তিন সংস্করণের অধিনায়ক ছিলেন সাকিব। ডেপুটি ছিলেন তার দুই বছরের  ছোট তামিম ইকবাল। তরুণ বয়সে অধিনায়কত্ব পাওয়ায় বেশ কিছু বিতর্কের জন্ম দিয়েছিলেন সাকিব। ২০১১ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ে সিরিজে বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স সন্তোষজনক না হওয়ায় তাকে দলনেতার পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছিল বিসিবি। ৬ বছর পর আবার বাংলাদেশ  টেস্ট দলের অধিনয়াকের পদে ফিরলেন।

বর্তমানে বিশ্বের নানা ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগ খেলে দলের সবচেয়ে পরিণত  খেলোয়াড়ই তিনি। অভিজ্ঞতার ঝুলিটাও বেশ লম্বা। আর এই ৬ বছরে বাংলাদেশ দলও দারুণভাবে বদলে গেছে। তাই এবার  নেতৃত্বটা সহজই হবে বলে মনে করেন বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার। তবে  নেতৃত্ব উপভোগের  চেয়ে দায়িত্বটাকে প্রাধান্য দিচ্ছেন সাকিব।

রবিবার ছিল বিসিবির পরিচালকদের সভা।  পরে সভা শেষে হঠাৎ করেই জানানো হয়  টেস্ট দলের অধিনায়কত্বে রাখা হচ্ছে না মুশফিকুর রহিমকে। তার পরিবর্তে এ পদে ফিরছেন সাকিব। দ্বিতীয় দফায় বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়বের দায়িত্ব পান সাকিব। দক্ষিণ আফ্রিকা সিরিজের আগে  পেয়েছিলেন টি-টোয়েন্টির দায়িত্ব। 

এবার  টেস্ট সংস্করণের দায়িত্ব  পেয়ে সাকিব বললেন, ‘আগের  চেয়ে অবশ্যই এবার কাজটা সহজ হবে। এখন  বেশির ভাগ ক্রিকেটাররাই প্রায় সবসময় পারফর্ম করছে। ক্রিকেটাররা যখন পারফর্ম করে, অধিনায়কের ওরকম  কোনো কাজই থাকবে না। আশা করি সবাই মিলে ভালো করবে। সবাই মিলে ভালো করলেই দলটাও ভালো করবে।’ 
তবে বাংলাদেশ টেস্ট দলের অধিনায়কত্বটা উপভোগ নয় দায়িত্বকেই আরও বড় করে দেখছেন সাকিব, ‘উপভোগের চেয়ে বেশি আমার কাছে মনে হয় এটা দায়িত্ব। দায়িত্বটি অবশ্যই চেষ্টা থাকবে সেরা ভাবে যেন পালন করতে পারি।’

গত কয়েক বছর থেকেই দারুণ ক্রিকেট  খেলছে বাংলাদেশ। ওয়ানডেতে ঈর্ষণীয় সাফল্য।  সে ধারায় টি-টোয়েন্টি ও  টেস্টেও ধীরে ধীরে এগিয়েছে দলটি। অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার মতো দলের বিপক্ষে টেস্টে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। ওই সাফল্যের ধারাবাহিকতা ধরে রাখাই মূল চ্যালেঞ্জ সাকিবের, ‘নতুন দায়িত্ব। টেস্টে গত কিছুদিন আমরা ভালোই করেছি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জিতলাম, অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জিতলাম আমাদের হোম-কন্ডিশনে। ওই জায়গা  থেকে কতটা ভালো করা যায়,  সেই চেষ্টাই থাকবে আমাদের।’

২০০৯ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তৎকালীন অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা ইনজুরিতে পরলে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব পান সাকিব। পরের বছর পান স্থায়ীভাবে। তবে ২০১১ সালে নানা বিতর্কে সরিয়ে  দেয়া হয়েছিল সাকিবকে। এরপর আবার অধিনায়ক সাকিব। ছয় বছরে অনেক বদলেছেন তিনি। 

আর তাই অধিনায়কত্বের দ্বিতীয়  মেয়াদে বাংরাদেশ জাতীয় দলে কতোটা পরিবর্তন করতে পারবেন তা এখনই বলতে পারছেন না বাঁহাতি বিশ্বসেরা এ অলরাউন্ডার, ‘বলা মুশকিল কতটা পরিবর্তন আসবে। তবে পরিস্থিতির সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে  নেয়াটা আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’

বাংলাদেশ দল আগামী বছর ঘরের মাঠে যতোটা না খেলবে তার চেয়ে বেশি খেলবে বিদেশে। তাই সামনের সময়টা বাংলাদেশ দল ও সাকিবের জন্য অনেকটা চ্যালেঞ্জের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। 

এ বিষয়টা প্রসঙ্গে বাংলাদেশ টেস্ট অধিনায়ক বলেন,‘ এসব চ্যালেঞ্জ জানি না তো, এখন আপাতত বিপিএল চ্যালেঞ্জ নিয়ে আছি। বিপিএল  শেষ হোক, জাতীয় দলের ক্যাম্প শুরু হলে দেখা যাবে কি কি চ্যালেঞ্জ আছে। যখন পরিকল্পনা করা হবে, তখন  বোঝা যাবে আমাদের জন্য কতটুকু চ্যালেঞ্জ আছে।’

ব্রেকিংনিউজ/এসএম/এমআর

সম্পর্কিত বিষয়ঃ   বিপিএল