শিরোনাম:

‘মিথ্যা গল্প প্রচার করছে হন্তারক রাষ্ট্র’

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক
৪ জুন ২০১৮, সোমবার
প্রকাশিত: 4:15 আপডেট: 4:20
‘মিথ্যা গল্প প্রচার করছে হন্তারক রাষ্ট্র’

সারা দেশে চলমাল মাদকবিরোধী অভিযানের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরে এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্ট দিয়েছেন দেশের জনপ্রিয় লেখক ও রাজনীতিক পিনাকী ভট্টাচার্য। রবিবার রাতে তার করা পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো:

তথাকথিত বন্দুকযুদ্ধের নামে গত ১৯ দিনে ১২৯ জন মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। এর প্রত্যেকটি সুপরিকল্পিত, ঠান্ডা মাথার খুন। আর প্রতিটি হত্যাকাণ্ডের পর বানোয়াট হুবহু একই গল্প প্রচার করছে সরকার ও রাষ্ট্র।

টেকনাফের কমিশনার একরামুলের ঘটনা থেকে এটা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত যে, প্রতিটি হত্যাকাণ্ডই অভিন্ন তরিকায় সংগঠিত হয়, অতীতেও তাই হয়েছে, এখনও হচ্ছে! একই মিথ্যা গল্প বারংবার প্রচার করছে, এই হন্তারক রাষ্ট্র।

এমন বর্বরোচিত খুনকে বৈধতা দেয়া, আর খুনিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে। পুরো জনপদ আজ ‘উন্মাদ জল্লাদের মঞ্চে’ অধঃপতিত হয়েছে।

এক সময় আমরা দেখেছি ফাঁসির দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনকারীরা প্রতিপক্ষকে নির্মূল করার অভিপ্রায়ে ভয়ংকর উগ্র জাতীয়তাবাদী আবেগ তৈরি করে রাষ্ট্রীয় হত্যাকান্ডের অনুকূলে ন্যায্যতা সৃষ্টি করেছিল। আইন ও বিচার প্রক্রিযা়কে সমাহিত করার সেই ফ্যাসিবাদী প্রবনতার বিরুদ্ধে সেদিন অনেকে প্রতিবাদ করেছিল। তাদের সেই আপত্তি, অসম্মতি, বাঁধা আমরা বহুজন অগ্রাহ্য করেছিলাম। সেই পিচ্ছিল পথ ধরে দূর্ভাগা বাংলাদেশ আজ এক গাঢ় অন্ধকার গহ্বরে নিমজ্জিত হয়েছে। মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে প্রিয় মাতৃভূমি।

এর বিভীষিকা, নিষ্ঠুর ও ভয়ংকর রূপ এখন অনেকেই টের পাচ্ছেন। দেরিতে হলেও এটা যদি সৎ উপলব্ধি হয়ে থাকে তাহলে ইমরান এইচ সরকারকে স্বাগত জানানো যায়। জীবনের অধিকার এভাবে কেড়ে নেওযা় যায়না, এই মৌলিক মানবাধিকারের নীতিতে বিশ্বাস যদি ফিরে আসে, সেটা অবশ্যই ভালো লক্ষণ।

বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইমরান রাস্তায় নামতে চেয়েছিলেন। রাষ্ট্র তাকে বাধা দিয়েছে। যেই দানবীয় ক্ষমতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদে আজ তিনি বাধা পেয়েছেন, সেই ক্ষমতা তৈরিতে অনেকাংশে তারও দায় আছে।

তবুও যেকোনো নাগরিকের প্রতিবাদ করার অধিকার হরণ করার বিরুদ্ধে আমাদের কথা বলতে হবে। এর সপক্ষে আমরা প্রাণপণ, নিঃশঙ্ক ও অবিশ্রান্তভাবে আওয়াজ তুলবো। এই হন্তারক রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ইমরানদের প্রতিবাদ যদি সঠিক উপলব্ধিজাত হয়ে থাকে, যদি বিচারের নামে প্রহসন আর রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্মূলের পুরনো পথ থেকে বেরিয়ে এসে বাংলাদেশ গড়ে তুলতে তারা সত্যিই আন্তরিক হন, আগামী দিনে প্রতিবাদী ধারা ও জনগণ হয়তো তাদেরকেও গ্রহণ করে নিতে পারে।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2