Ads-Top-1
Ads-Top-2

সরকার কিছুই ক‌রে‌নি তা বলতে পারেন না: বন মন্ত্রী

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
৫ জুন ২০১৮, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: 03:40:00

আমরা উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে হাঁটছি জানিয়ে পরিবেশবিদদের উদ্দেশ্য পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, ‘এ জন্য সরকার কিছুই করতে পারেনি এই সব ভুল তথ্য উত্থাপন করতে পারেন না।’

মঙ্গলবার (৫ জুন) জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আইইউসিএন আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। 

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, ‘সরকার কি করতে পারেনি তা তুলে ধরা আপনাদের দায়িত্ব। কিন্তু আপনারা এক তরফা বলে যাচ্ছেন। তাতে মনে হচ্ছে সরকার এখন পর্যন্ত কিছুই করেনি। এই ভুল তথ্য উত্থাপন করা উচিত না। আমরা উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে হাঁটছি। আমরা আমাদের লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারবো না যদি না টেকসই উন্নয়নকে গুরুত্ব দেই।’

আইন প্রয়োগ করে প্লাস্টিক ব্যাগ উৎপাদন বন্ধ করা যাবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আইন ব্যবহার করে বন্ধ করা সম্ভব না, কারণ আমাদের জনবল নেই। এক সঙ্গে কয়েক জায়গায় অভিযান পরিচাল না করতে যেই লোকবল প্রয়োজন তা আমাদের নেই। তবে আমি মন্ত্রী তাই দায়িত্ব আমাকেই নিতে হবে। আমাদের একটি কমিটমেন্টের মধ্যে দিয়ে এগোতে হবে। সাস্টেইনেবল ক্যাম্পেইন করতে পারলে আমরা ভালো কাজ করতে পারবো বলে আমি মনে করি। 

প্লাস্টিক পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখে জলাবদ্ধতায় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আগে একবার বুড়িগঙ্গা খননের সময় শুনেছিলাম যা উঠে এসেছে সবই প্লাস্টিক ব্যাগ। আমাদের প্রতিমন্ত্রী নিজেই অনেকবার প্লাস্টিকের ব্যাগের বিরুদ্ধে অভিযানে গিয়েছিলেন। এই পলিথিনের ব্যাগ তৈরির পদ্ধতি এতটাই ভ্রাম্যমাণ যে এদের ধরা খুব মুশকিল কাজ। ছোট ঘরের মধ্যে মেশিন বসিয়ে ইচ্ছামত প্লাস্টিকের ব্যাগ তৈরি করছে। আবার সামগ্রিকভাবে যে বন্ধ করে দিবো উৎপাদন সেইটাও সম্ভব নয়। ধাপা ধাপে আমাদের এগোতে হবে। অন্যান্য দেশে পলিথিনের যে বিকল্প পদ্ধতি ব্যবহার করে তা দেশে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।’

খাদ্য চেইনে প্লাস্টিকের উপস্থিতি নিয়ে জরুরিভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী আরও বলেন, ‘বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে খাবারের সঙ্গে প্লাস্টিকের থালা, চামচ দেয়। এটা খুব ভয়ংকর ব্যাপার। আমাদের খাদ্য চেইনে প্লাস্টিক ঢুকে গেছে। এটা নিয়ে পরিবেশ অধিদফতরকে দ্রুত কাজ করতে হবে। আমার মনে হয় এজন্য কোনও আইনের প্রয়োজন নেই। আমাদের যেই বিধিগুলা আছে তা দিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’

যেই প্লাস্টিক পুনরায় ব্যবহার এবং রিসাইকেল করা যাবে তা ব্যবহারের প্রতি গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, ‘এখানে রি-ইউজ কিংবা রিসাইকেলের কথা বলা হয়েছে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে আনার জন্য। প্লাস্টিক এখন সব জায়গায় ছড়িয়ে গেছে। প্যাকেজিং থেকে শুরু বাড়ির দরজা পর্যন্ত প্লাস্টিকের ব্যবহার। তাই আমাদের নিজেদের সচেতন হতে হবে আগে। আমি সেই প্লাস্টিক ব্যবহার করবো না যেই প্লাস্টি রি-ইউজ কিংবা রিসাইকেল করা যায় না।’

আমাদের সমস্যার পেছনে জনসংখ্যা একটা বড় ব্যাপার দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ঢাকায় দুই কোটি মানুষের বসবাস। ইউরোপের অনেক দেশে এতো জনসংখ্যা নেই। এমনকি অনেক উন্নত দেশে এতো জনসংখ্যা নেই। সেই বিষয় মাথায় রেখে আমাদের কথা বলা উচিত। এই যে এতো মানুষ প্রতিদিন ঢাকায় আসেন এদের সৃষ্ট বর্জ্য কোথায় যাবে? আমাদের সমস্যা যে কতো বড় এই বিষয়ে আমাদের আগে সচেতন হতে হবে।’

সরকার বসে নেই দাবি করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা ভাবছি সব কিছু নিয়েই। আপনারা হয়তো বাইরে থেকে দেখতে পারেন না। এই যে পুরান ঢাকার যে ইন্ডাস্ট্রি আছে এগুলোকে কি করবো? এগুলোকে ইকোনোমিক জোনে পাঠানোর কথা ভেবেছি আমরা। কিন্তু তা একবারে করা যাবে না। একটা সিস্টেমের মধ্যে দিয়ে করতে হবে। এই যে টেকনাফে বন উজাড় হয়ে যাচ্ছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জ্বালানির চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে। আমরা ভেবেছিলাম এলপিজি দেওয়া যায় কি না। তাতে ক্ষয়ক্ষতির আশংকার কথা চিন্তা করে আর আগায় নাই। এরপর ভাবলাম স্টোভ, কয়লা। আমরা কিন্তু প্রতিনিয়ত ভাবছি কি করা যায়। কিন্তু বাইরে থেকে বোঝা যায় না।’

ধর্মের অপব্যবহার করে জায়গা দখল করে মসজিদ বানানো হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘নদীর পাড়ের যেই জায়গার কথা আপনারা বলছেন এই বিষয়ে আমাদের নজরে আছে। আমি নিজ চোখে অভিযানে দেখেছি ধর্মকে পর্যন্ত নিয়ে আসা হয়েছে। জায়গা দখল করেছে একটা ইন্ডাস্ট্রি। এমনভাবে মসজিদ বানিয়েছে যে আমার কিছু ভাঙতে হলে মসজিদ ভাঙতে হবে। আমার ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান কম, ‘কিন্তু আমি এটা জানি যে জায়গা দখল করে মসজিদ বানিয়ে তাতে নামাজ পড়লে নামাজ হয় না।’ কিন্তু আপনি একথা কাকে বুঝবেন? এগুলা অন্যায়, এগুলো ধর্মের পক্ষে না। এই কথাগুলো কিন্তু শক্তভাবে আপনাকে বলতে হবে।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন ব্রতী’র মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা শারমিন সোনিয়া মুর্শেদ, বেলা’র প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, আইইউসিএন সদস্যদের বাংলাদেশ জাতীয় কমিটির সদস্য হাসনা জসিমউদ্দিন মওদুদসহ অন্যান্যরা।

‌ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/এইচএ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2