Ads-Top-1
Ads-Top-2

‘খালেদাকে জেলে রেখেই নির্বাচনে যাবে বিএনপি’

রাহাত হুসাইন
১০ জুন ২০১৮, রবিবার
প্রকাশিত: 02:55:00 আপডেট: 01:24:00

আহমদ হোসেন টানা তিনবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। ১৯৭৪ সালে নিজ ইউনিয়নে ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হবার পর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ঘনিষ্ঠতা বাড়ে তার। ১৯৭৭ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন আহমদ হোসেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিতে সাফল্যের মুখ দেখেন স্যার এএফ রহমান হল শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়ে। ১৯৮২ সালে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির গ্রন্থণা ও প্রকাশনা সম্পাদকের দায়িত্ব পান। ১৯৮৬ সালের সম্মেলনে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হন।
 
২০০৯ সালে আওয়ামী লীগের কাউন্সিলে কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক  নির্বাচিত হন তিনি। সাতজন সাংগঠনিক সম্পাদকের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে থাকা আহমদ হোসেনকে চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। পরের বছর আহমদ হোসেনকে আওয়ামী লীগের এক নাম্বার সাংগঠনিক সম্পাদক করে ঢাকা বিভাগের দায়িত্ব দেয়া হয়। সর্বশেষ কাউন্সিলে তৃতীয়বারের মতো সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার পর সিলেট বিভাগের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।
 
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমসাময়িক বিষয় তুলে ধরেন দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডিতে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।
 
ব্রেকিংনিউজ: আগামী নির্বাচনে অংশ নিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি করছে বিএনপি। তাদের এই দাবিকে  কিভাবে দেখছেন?
আহমদ হোসেন: বিএনপির এসব দাবি ও বক্তব্য বাগাড়ম্বর। বলতে হয়, তা-ই বলে। কার্যক্ষেত্রে দলটি নির্বাচনে চলে এসেছে।  তারা নির্বাচনে প্রার্থীতালিকা তৈরি করে ফেলছে। অনেক জায়গায় গ্রিন সিগনালও দিয়ে দিয়েছে। বিএনপির ফিলোসফি হচ্ছে পাবলিককে ধোঁকা দেয়া।  বলবে একটা, করবে আরেকটা। এটা ধোঁকাবাজি পার্টি।
 
বিএনপি আগে বলছিল এই সরকারের অধীনে নির্বাচনে যাবে না। তবে তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। গাজীপুর সিটি নির্বাচনেও তারা এসেছে। আশা করি বাকিগুলোতে যাবে। আমার বিশ্বাস, বিএনপি তাদের নেত্রী খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেই জাতীয় নির্বাচনেও চলে আসবে।
 
ব্রেকিংনিউজ: বিএনপি দাবি করছে, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তেই খালেদা জিয়াকে কারাগারে রেখেছে সরকার। এই বিষয়ে আপনার মতামত কি?
আহমদ হোসেন: খালেদা জিয়া রাজনৈতিক বন্দী নন। এতিমের টাকা আত্মসাৎ করায় আদালত তাকে শাস্তি দিয়েছে। শাসন বিভাগের কোনো নির্বাহী আদেশে তার শাস্তি  হয়নি। সরকার বিশেষ ক্ষমতা আইনেও  তাকে গ্রেফতার করেনি। প্রধানমন্ত্রী চাইলে তাকে  বিশেষ ক্ষমতা আইনে তাকে গ্রেফতার করতে পারতেন। তাহলে মানুষ বলতো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গ্রেফতার করেছে। আজ বিএনপি যতই কথা বলুক আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী মনে করে খালেদা জিয়া দুর্নীতিবাজ। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট ছিলেন পার্ক চুংহি। তিনি আজ দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত। বিহারের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন লালু প্রসাদ। তিনিও দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারে আছেন। তামিলনাড়ুর জনপ্রিয় নেত্রী ছিলেন জয়ললিতা। তাকে সেখানকার জনগণ মা বলে ডাকতো। দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাগারেই মারা গেছেন। তাদের মতই খালেদা জিয়া দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত। তিনি এর বাইরে কিছু নন।
 
ব্রেকিংনিউজ: একাদশ নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ কোনো বিষয়টিকে  চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে?
আহমদ হোসেন: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সবসময় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন। চ্যালেঞ্জে জয়লাভও করেন। যে নেতা চ্যালেঞ্জ নিতে পারেন না, তিনি আসল নেতা নন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতেন। একই নিয়মে তার সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সবসময় চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন।

তবে সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করাটাকে চ্যালেঞ্জের বিষয় মনে করি। এ কঠিন কাজে হাত দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। সমাজ থেকে মাদক নির্মূল করতে হলে তার সার্জারি করতে হবে। সার্জারি করতে গেলে তো রক্ত ঝড়বে। সাধারণ ওষুধে কাজ না হলেই তো সার্জারি করতে হয়। মাদকের অভিযানের প্রাথমিকভাবে আউটপুট  আসেনি, অনেকে পালিয়েছে। একজন রাজনীতিবিদ শুধু আগামী নির্বাচনের কথা ভাবে। কিন্তু একজন রাষ্ট্রনায়ক আগামী প্রজন্মের কথা চিন্তা করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা  শুধু রাজনীতিবিদ নয় একজন রাষ্ট্রনায়ক।  তিনি আগামীর প্রজন্মের কথা ভেবেছেন। বর্তমান বা আগামী প্রজন্ম যদি মাদকে ধ্বংস হয়ে যায়,  তাহলে দেশ-জাতি ধ্বংস হয়ে যাবে। এখানে তিনি রাষ্ট্রনায়কোচিত প্রজ্ঞায় দূরদর্শিতার প্রমাণ দেখিয়েছেন। সেটা ভেবেই তরুণ প্রজন্মকে রক্ষায় মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: বিভিন্ন সময় ছাত্রলীগের সাবেক নেতারা অভিযোগ করেন ছাত্রলীগ করার পরও আওয়ামী লীগ আসতে অনেক সময় লেগে যায়। বিষয়টাকে কিভাবে দেখছেন?
আহমদ হোসেন: লাইফ লং তো সবাই রাজনীতি করতে পারেন না। আমাদের সময় ছাত্রলীগের নেতা কম ছিল না। সবাই তো রাজনীতির সঙ্গে নেই। যারা মেধাবী ছিল তারা প্রশাসনে চলে গেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে আমারও অনেক সময় লেগেছে। আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে আসতে বাছাইয়ের ব্যাপার আছে। ন্যাশনাল লিডারশিপের ব্যাপার আছে। দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকাটা পরীক্ষা ও যোগ্যতার অংশ। এতে কমিটমেন্টটা আরও সুদৃঢ় হয়।
 


এটাকে যাচাই বাছাই করেই আওয়ামী লীগ সভাপতি পরীক্ষিত, ত্যাগী ও নিষ্ঠাবান ব্যক্তিদের দিয়েই দল সাজান। কালকে ছাত্রলীগ ছাড়লাম। আজকেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে চলে আসবো- এই প্রত্যাশায় যারা ভুগেন তাদের মাঝে হতাশা খুব কাজ করে। বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দলে এখনও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে ওঠেনি। তাদের কোনো সাংগঠনিক ভিত্তি নেই। বিএনপি হচ্ছে এন্ট্রি আওয়ামী লীগ সেন্টিমেন্টধারীদের প্লাটফর্ম।  বাংলাদের রাজনীতিতে আওয়ামী লীগ একটি আদর্শ। এখানে পরীক্ষিত ছাড়া যাকে তাকে নেতা বানানো হয় না।
 
ব্রেকিংনিউজ: আওয়ামী লীগের প্রতিনিধি হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও গিয়েছেন। বাংলাদেশ সম্পর্কে  বিশ্ববাসীর মনোভাব কেমন? 
আহমদ হোসেন:  সেদিন ভারতীয় জনতা পার্টি ( বিজেপি )'র আমন্ত্রণে ভারতে গেলাম। বাংলাদেশের প্রতি তারা খুবই আন্তরিক। ভারতের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ভারত বাংলাদেশ এক মোহনায় এসে মিলিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে ভারতের অনেক সেনা আত্মাহুতি দিয়েছেন। সে সময় ভারত আমাদের আশ্রয় দিয়েছে। ভারতের সহযোগিতা না পেলে নয় মাসে মুক্তিযুদ্ধে দেশ স্বাধীন হত না। এটা আমরা সারাজীবন কৃতজ্ঞচিত্তে সঙ্গে স্মরণ করবো। রক্ত দিয়ে যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছে সে সম্পর্ক কখনও ছিন্ন হওয়ার নয়। একই আত্মার বন্ধনে আমরা আবদ্ধ। ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক নীতিগত ও আদর্শগত।
 
ব্রেকিংনিউজ: আপনার নির্বাচনী আসন নেত্রকোনা ৫ নিয়ে আপনার ভাবনা কি? 
 
আহমদ হোসেন: নেত্রকোনা আমার জন্ম ওখান থেকেই রাজনীতি শুরু করেছি। ইউনিয়ন ছাত্রলীগের নেতা থেকে থানা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছি। ৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে এখান কার আওয়ামী লীগ বলতে সকলে আমায়কেই জানতো, তখন আমি ছাত্রনেতা ছিলাম।  আওয়ামী লীগও আমাকে ছাড়া কাউকে চিনতো না। তখন তো আহমদ হোসেনের মত এত নেতা ছিল না। আমাদের রাজনৈতিক বিকাশ হয়েছে মৃত্যুর  মিছিলে। আজকে ছাত্রলীগে নেতাদের বিকাশ হচ্ছে স্বপ্নের মিছিলে । স্বপ্ন দেখিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
 
৯১ তে নেত্রকোনা ৫ আসনে মনোনয়ন পেলে আমি এমপি হতাম। ৯৬ সালেও নমিনেশন পেলে আমি এমপি হতাম। কেউ কেউ বলেন, ২০০১ সালে আমায় দল থেকে নমিনেশন দিলে এমপি হতাম।  আর ২০০৮ এ বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে পার্লামেন্ট যেতাম। আমি বোলিং করছি অনেক দিন থেকে। একটা উইকেটও ফেলতে পারিনি। আমার কাছে আর কোনো ওভার নেই।  লাস্ট ওভারের লাস্ট  বলটা। এই বলে যদি উইকেট পড়ে। এবার যদি আমার নমিনেশন হয় ওকে। না হলে ইলেকশন পলিটিক্সকে গুডবাই দিব। নেত্রী যদি মনে করেন, তাহলে সংগঠনের রাজনীতি করবো। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে ঋণী । প্রাপ্তিটা আমার কাছে মুখ্য নয়। উনি আমায় যে দায়িত্ব দিয়েছেন,  রক্ত দিয়ে হলেও এই ঋণ শোধ করে যেতে চাই।  
 
ব্রেকিংনিউজ: একাদশ নির্বাচনে মননোয়ন পাওয়ার বিষয়ে কতটা  আশাবাদী? 
আহমদ হোসেন:  আশা নিয়েই তো মানুষ বেঁচে থাকে। আশা আছে বলেই তো কাজ করি। আশা আছে বলেই সময় পেলেই এলাকার মানুষের কাছে ছুটে যাই। তারা আমায় ভালোবাসেন।
 
ব্রেকিংনিউজ: এলাকা নিয়ে কোনো কর্মপরিকল্পনা নিয়েছেন কিনা?
আহমদ হোসেন:  আমি এখনো গাড়িতে উঠতে পারিনি। স্বপ্ন দেখলাম বাস্তবায়ন করতে পারলাম  না; লাভ কি। তবে আমার একটা বিউটি আছে। আমি আউট এন্ড আউট অনেস্ট। এলাকার মানুষকে বিনা টাকায় চাকরি দেই। চাকরি দেয়ার জন্য একটা পানও খাই না। এমপি নির্বাচিত হলে এটা চলমান থাকবে। এলাকায় কোনো দুর্নীতি ও সন্ত্রাস থাকবে না। পুলিশী ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ করা হবে। অযথা কাউকে হয়রানি করা হবে না। এলাকায় রাজনৈতিক সহাবস্থান থাকবে। এলাকা আমার অর্থনৈতিক উপার্জনের কোনো ফ্যাক্টরি হবে না। আমি বাংলাদেশে একজন দুর্নীতিবাজ রাজনীতিবিদ হতে চাই না। এমপি হই অথবা না হই, আমি শতভাগ প্রধানমন্ত্রীর মাইন্ডটাকে বুঝি। উনার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝার চেষ্টা করি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, টাকা নিয়ে কেউ কবরে যাবে না।  অর্থ-বিত্তের দরকার আছে। তবে টাকা কামাতে গিয়ে দুর্নীতি করো না। উনি আমাদের কাছে আদর্শ। লোকাল পলিটিক্সকে লোকালি দেখতে হবে। লোকাল পলিটিক্সকে জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে মিলিয়ে ফেললে হবে না। আমি এমপি হব সকল দলের মানুষের। কেউ ন্যায়সঙ্গত দাবি করলে তার কাজ করে দিব।
 
ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/জিসা
 

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2