Ads-Top-1
Ads-Top-2

তাজমহলের গেটে হিন্দু পরিষদের হামলা

ভারত ডেস্ক
১৩ জুন ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 11:02:00

রবিবার তাজমহলের পশ্চিম ফটক ভাঙচুরের চেষ্টা করেছে বিশ্ব হিন্দু পরিষদের (ভিএইচপি) একটি দল। তাদের অভিযোগ, ৪০০ বছরের পুরনো একটি শিবমন্দিরে তাদের প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ।

ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, প্রকৃতপক্ষে তাজমহলের নিকট একটি এলাকায় নির্মাণ কাজের জন্য ওই জায়গাটি বন্ধ রাখা হয়েছে।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজে হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে তাজমহলের পশ্চিম ফটক বিশ্ব হিন্দু পরিষদের কর্মীরা ভাঙচুরের চেষ্টা করছে বলে দেখা গেছে। এমনকি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যে অস্থায়ী ফটক তৈরি করেছে, তাও সরিয়ে নিয়েছে হিন্দু পরিষদের কর্মীরা।

পুলিশ জানিয়েছে, সিদ্ধেশ্বর মহাদেব মন্দির নামের ওই শিব মন্দিরটিতে যাওয়ার জন্য অন্য একটি পথ রাখা হয়েছে। তবে তাতে সন্তুষ্ট নয় উগ্রপন্থি এই সংগঠনটি।

এদিকে ভিএইচপির পাঁচ সদস্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছে ভারতের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ। এছাড়া আরও ২০-৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

তাজমহল নিরাপত্তা বিভাগের সার্কেল কর্মকর্তা প্রভাত কুমার বলেন, ‘রবিবার ভিএইচপির প্রায় ২০-২৫ কর্মী তাজমহলের পশ্চিম ফটকের সামনে সমবেত হয় এবং অস্থায়ী গেটটি ভাঙচুর করতে শুরু করে। তারা হাতুড়ি ও লোহার রড দিয়ে হামলা করে। গেটটি সরিয়ে তা ৫০ মিটার দূরে নিক্ষেপ করে। পরে পুলিশ এসে তাদের থামায়।’



মামলায় নাম উল্লেখ করা ভিএইচপি নেতাদের মধ্যে রয়েছে রবি দুবে, মদন ভার্মা, মোহিত শর্মা, নিরঞ্জন সিং রাথোর ও গুল্লা। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে ভিএইচপি নেতা প্রমুখ রবি জানান, প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেয়ায় তারা ভাঙচুরের এই পদক্ষেপ নিয়েছে।

প্রসঙ্গত, তাজমহল ভারতের আগ্রায় অবস্থিত একটি রাজকীয় সমাধি। মুঘল সম্রাট শাহজাহান তার স্ত্রী আরজুমান্দ বানু বেগম যিনি মুমতাজ মহল নামে পরিচিত, তার স্মৃতির উদ্দেশ্যে এই অপূর্ব সৌধটি নির্মাণ করেন। সৌধটি নির্মাণ শুরু হয় ১৬৩২ সালে, যা সম্পূর্ণ হয় ১৬৫৩ সালে। সৌধটির নকশা কে করেছিলেন- এ প্রশ্নে অনেক বিতর্ক থাকলেও, এটা পরিষ্কার যে শিল্প-নৈপুণ্যসম্পন্ন একদল নকশাকারক ও কারিগর সৌধটি নির্মাণ করেছিলেন, যারা উস্তাদ আহমেদ লাহুরীর সাথে ছিলেন, যিনি তাজমহলের মূল নকশাকারক হওয়ার প্রার্থীতায় এগিয়ে আছেন।

তাজমহলকে কখনও শুধু তাজ নামে ডাকা হয়। এটিকে মুঘল স্থাপত্যশৈলীর একটি আকর্ষণীয় নিদর্শন হিসেবে মনে করা হয়, যার নির্মাণশৈলীতে পারস্য, তুরস্ক, ভারতীয় এবং ইসলামি স্থাপত্যশিল্পের সম্মিলন ঘটানো হয়েছে। যদিও সাদা মার্বেলের গম্বুজাকৃতি রাজকীয় সমাধিটিই বেশি সমাদৃত, তাজমহল আসলে সামগ্রিকভাবে একটি জটিল অখণ্ড স্থাপত্য। এটি ১৯৮৩ সালে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়। তখন একে বলা হয়েছিল, ‘universally admired masterpiece of the world's heritage।’ বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম তাজমহল।

ব্রেকিংনিউজ/ আরএস

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2