Ads-Top-1
Ads-Top-2

কমলাপুরে ঘরমুখোদের স্রোত

আহসান হা‌বীব সবুজ
১৪ জুন ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 03:19:00 আপডেট: 03:20:00

ঈদ উদযাপনে কাঙ্ক্ষিত ট্রেন ধরে বাড়ি ফিরতে কমলাপুরে এসেছেন যা‌ত্রীরা। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মগুলোর কোথাও ফাঁকা নেই, সব দিকে যাত্রী আর যাত্রী। অনেকের কাঙ্ক্ষিত ট্রেন স্টেশনে পৌঁছেই; আবার গন্তব্যে ছুটছে। আবার অনেকের ট্রেন এখনও এসে স্টেশনে পৌঁছেনি।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুন) সরজমিনে কমলাপুরে দেখা যায়, ট্রেনের ভেতরে-ছাদে তো পা ফেলানোর জায়গা নেই। যাত্রীতে ঠাসাঠাসি ছিল বেশিরভাগ ট্রেনই। এরমধ্যেই আবার অপেক্ষমান যাত্রীরা সেই ট্রেনেই ওঠার চেষ্টা করছেন। জানালার স্ট্যান্ডে কেউ পা দিয়ে ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টা করছেন, কেউবা পরিবারের অন্য সদস্যদের জানালা দিয়ে ট্রেনের ভিতরে পাঠাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। 

আর ট্রেনের ছাদে তো যাত্রীদের এতই ভিড় ছিল যে, দূর থেকে দেখাই বুঝা যাচ্ছিল যেন ছাদে আর একটি পা ফেলারও জায়গা নেই। স্টেশন, প্ল্যাটর্ফম আর ট্রেনে সকাল থেকেই যাত্রীদের চাপের এমন দৃশ্য ছিল কমলাপুর স্টেশনে।

এবারের ঈদ যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকে আজই সবচেয়ে বেশি মানুষের ঢল নেমেছে কমলাপুরে। একটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে এসে পৌঁছানো মাত্রই; হুড়োহুড়ি করে যাত্রীরা ট্রেনে উঠছেন। প্রায় সবার হাতেই ছিল ব্যাগ ব্যাগেজ। আর যারা টিকিটে আসন পাননি তারা ট্রেনের বগির ভিতরে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন অথবা উঠে পড়ছেন ছাদে।

ইট-পাথরের শহর ছেড়ে নাড়ির টানে বাড়ি ফিরছে রাজধানীবাসী। ঈদ আসলেই টিকিটপ্রাপ্তি থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছা পর্যন্ত পথে পথে ভোগান্তি পোহাতে হয় ঘরমুখী মানুষকে। রাজধানীর একঘেয়েমি জীবনের সাময়িক বিরতি দিয়ে কর্মজীবী মানুষের সামনে আসে প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়ার মুহূর্ত। আর সেই ঈদের আনান্দ প্রিয়জনদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ঢাকা ছাড়ছে মানুষ। আর এসব মানুষের ভিড়ের সব স্রোত যেন এসে মিলেছে কমলাপুরে।



তিস্তা ট্রেনের ছাদে ওঠার চেষ্টা করছিলেন আরিফুল ইসলামসহ আরও ছয় জন। তারা সবাই নির্মাণ শ্রমিক। ঈদ উদযাপনে যাচ্ছেন গ্রামে। আলাপকালে তি‌নি বলেন, ‘এসে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছি, কিন্তু ট্রেনের ভিতরে এত মানুষ যে ঢোকার মত পরিস্থিতি নেই, যে কারণে বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছি আমরা।’

 বেসরকারি চাকরিজীবি ম‌শিউর রহমান তি‌নি টি‌কিট পাওয়া স‌ত্তেও তার সি‌টে যে‌তে পার‌ছি‌লেন না মানু‌ষের ভি‌রের কার‌ণে  তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১৩/১৪ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটতে হয়েছিল, কিন্তু আজ এসে ভিড়ের কারনে নিজের সিট পর্যন্ত পৌঁছাইতেই পারছি না। ঈদের সময় এত মানুষের ভিড়ের কথা মাথায় রেখে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সুষ্ঠ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।’

সকাল ৮ টায় চিলাহাটিগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিলম্বিত হয়ে কমলাপুর ছেড়েছে ১১টা ২৫ মিনিটে। ট্রেনটি জন্য অপেক্ষা কালে বেসরকারি চাকরিজীবী নিলয় আহমেদ বলছিলেন, নিজের ক্ষোভের কথা। তিনি বলেন, দুই ঘণ্টার বেশি হল ট্রেনটির কোন খবর নেই, রোজা রেখে ঈদ যাত্রা এমনিতেই কষ্টের তারমধ্যে আবার ট্রেন এতটা লেট। ছোট সন্তান ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ আমাদের খুবই বিড়াম্বনায় পড়তে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি থেকে আমরা সাধারন যাত্রীরা মুক্তি চাই।

বৃহস্পতিবার ট্রেন যাত্রা শুরু হয় বিলম্বের মাধ্যেমে। খুলনাগামী সুন্দরবন এক্সপ্রেস সকাল ৬টা ২০ মিনিটে ছাড়ার কথা থাকলে তা বিলম্বিত হয়ে কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে গেছে ৭টা ২৫ মিনিটে। এছাড়া ধূমকেতু এক্সপ্রেসেও নির্ধারিত সময়ের পরে ছেড়ে গেছে।সকাল ৮ টার নীলসাগর এক্সপ্রেস বিলম্বিত হয়ে কমলাপুর ছেড়েছে ১১ টা ২৫ মিনিটে। সকাল ৯ টায় রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও বিলম্বিত হয়ে তা ছেড়ে যায় ১০ টা ১৫ মিনিটে।

১০ টার পরিবর্তে দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস ছেড়ে যায় সাড়ে ১০টায়। এদিকে লালমনি ঈদ স্পেশাল সকাল ৯টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও এখনও ট্রেনটি এসে স্টেশনে পৌঁছায়নি। তবে স্টেশন থেকে ঘোষণা দেওয়া হয় ট্রেনটি ১২টা ৩০ মিনিট নাগাদ স্টেশনে এসে পৌঁছাতে পারে।

ঈদ যাত্রার সার্বিক বিষয় নিয়ে  কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সিতাংশু চক্রবর্তি বলেন, আজ সারিদনে কমলাপুর থেকে ৬৯ টি ট্রেন ছেড়ে যাবে।এরমধ্যে এ পর্যন্ত ২২টি ট্রেন ছেড়ে গেছে। এরমধ্যে দুই একটি ট্রেন বিলম্বিত হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘অগ্রিম টিকিট বিক্রির দিনই আমরা ধারণা করতে পারছিলাম আজ উপচে পড়া ভিড় হবে।এরমধ্যেই চেষ্টা করছি সিডিউল ঠিক রাখতে। অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে যাওয়া আসার সময় স্টেশনে উঠা নামা করতে যেখানে দুই মিনিট অপেক্ষা করার কথা সেখান ৫/১০ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই কারণে ট্রেনটি পৌঁছাতেও কিছুটা দেড়ি হচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি যেন সঠিক সময়েই সব ট্রেন ছেড়ে যেতে পারে।’

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহকারীদের ঈদ যাত্রা শুরু হয়েছে গত ১০ জুন (রোববার)। আগামীকাল শুক্রবার (১৫ জুন) পর্যন্ত ট্রেনের অগ্রিম টিকিট সংগ্রহকারীরা যাত্রা করবেন। তারই ধারাবাহিকতায় আজও (বৃহস্পতিবার) রাজধানীর কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে নাড়ির টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছুটবে মানুষ।

গত ৫ জুন যারা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট সংগ্রহ করেছিলেন তারাই আজ ট্রেন যোগে বাড়ি ফিরছেন। বিগত কয়েকদিনের তুলনায় কমলাপুরে আজ যাত্রী উপস্থিতি ছিল সবচেয়ে বেশি।আর এর মধ্যে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে এই ভিড়ের দৃশ্য বেশি লক্ষ্য করা গেছে।

‌ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/এইচএ

Ads-Sidebar-3
Ads-Sidebar-3
সর্বাধিক পঠিত
Ads-Sidebar-3
সর্বশেষ খবর
Ads-Sidebar-3
Ads-Top-1
Ads-Top-2