শিরোনাম:

আমি সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাই

শেখ হেদায়েতুল্লাহ
৫ জুলাই ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 10:49 আপডেট: 6:32
আমি সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাই

নির্বাচনের পূর্বে শুধুমাত্র জনসংযোগ করে বেড়াইনি, নগরীর অলিগলি, পাড়া মহল্লার সড়ক, ড্রেনের অবস্থাসহ সার্বিক দিক পর্যবেক্ষণ করেছি। সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলেছি। তাদের নাগরিক জীবনের সুবিধা অসুবিধা, সুখ-দুঃখের কথা শুনেছি। নগরবাসীর সাথে আলাপ করে পাড়া-মহল্লা ঘুরে নাগরিক সমস্যা চিহ্নিত করেছি। আর ভেবেছি নগরবাসী যদি আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র হিসেবে সেবা করার দায়িত্ব দেন তাহলে তাদের নাগরিক সমস্যা দ্রুততম সময়ের মধ্যে দূর করার পদক্ষেপ নিব। নগরবাসী আমাকে ভোট দিয়ে মেয়র নির্বাচিত করেছে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর আমার দায়িত্ব হবে নগরীর সার্বিক উন্নয়ন আর নগরবাসীর শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করার পরিবেশ সৃষ্টি করা।

খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের পর নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের সাথে একান্ত আলাপচারিতার শুরুতেই তিনি একথাগুলো বলেন। নবনির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক জানান, নগরীর সবচেয়ে বড় সমস্যা পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা। ড্রেন, নর্দমা, খাল, জলাশয় অধিকাংশ ভরাট হয়ে গেছে। নিয়মিত সংস্কার হয় বলে আমার কাছে মনে হয়নি। তাই মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর সর্ব প্রথম আমার কাজ হবে নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন করা। পাশাপাশি জরাজীর্ণ সড়ক ব্যবস্থার উন্নয়ন করার বিষয়েও কাজ  শুরু করবেন বলে জানান তিনি। 

নতুন খুলনা সিটি মেয়র বলেন, নির্বাচনের পূর্বে নগরবাসীর সামনে ৩১ দফা ইশতেহার ঘোষণা করেছিলাম। আমার কাছে সেগুলোর সবই গুরুত্বপূর্ণ, তারপরও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ইশতেহারের কিছু দ্রুত বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হবে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি  গুরুত্বপূর্ণ হল জলাবদ্ধতামুক্ত খুলনা নগরী গড়ে তোলা। আমার আগের মেয়াদে বিভিন্ন ব্যক্তির দখল করা ২২টি খাল মুক্ত করে পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নতি ঘটিয়েছিলাম; কিন্তু গত পাঁচ বছরে সেই খালগুলো আবারও দখলদারদের কবলে চলে যায়। বর্তমান দায়িত্ব পালনকারী মেয়র বিএনপি নেতা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান দখল ঠেকাতে পারেননি, নগরীতে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা যায়। 



খুলনা মহানগরে বসবাসকারী নাগরিকসহ বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের কম খরচে চলাচলের অন্যতম বাহন এখন ইজিবাইক। আবার এই ইজি বাইক এবং মোটরচালিত রিক্সা নগরীতে যানজটের অন্যতম কারণ। নির্বাচনী প্রচারণায় নগরীতে ইজি বাইক (ব্যাটারিচালিত তিন চাকার অটোরিকশা) ও ব্যাটারিচালিত রিকশার লাইসেন্স দেয়ার কথা বলেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে সুস্পষ্ট কোনো রূপরেখা দেননি নবনির্বাচিত এই মেয়র। অনেক খুলনাবাসীর অভিমত, ইজি বাইকের কারণে খুলনার মতো ছিমছাম শহরে যানজট দেখা দিয়েছে। লাইসেন্স পেলে ইজি বাইকের কারণে শহরে চলা যাবে না; আর ব্যাটারিচালিত রিকশা তো খুবই বিপজ্জনক। 

এক্ষেত্রে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি যখন মেয়র ছিলাম তখন এক হাজার ৮০০ ইজি বাইকের লাইসেন্স দেয়া হয়েছিল। এরপর থেকে গণপরিবহনের এই খাতটি খুবই নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বেড়েছে। বর্তমান মেয়রের সময়ে প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করে পাঁচ হাজার লাইসেন্স দেয়ার কথা হয়েছিল; কিছু রাস্তায় ইজি বাইক চলতে পারবে না বলে সিদ্ধান্তও হয়েছিল, কিন্তু কোনো সিদ্ধান্তই কার্যকর হয়নি। গণপরিবহনের এই খাতটিতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার স্বার্থেই লাইসেন্স দেয়া উচিত। সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার্থে ইজি বাইক ও ব্যাটারীচালিত রিক্সা যেমন বন্ধ করা যাবে না, তেমনি শৃঙ্খলার স্বার্থে লাইসেন্স ও বিধি-বিধান মেনে চলাটাও জরুরি। ব্যাটারিচালিত রিকশার ক্ষেত্রেও এই কথা প্রযোজ্য। মানুষ সহজে, সাশ্রয়ী ভাড়ায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় যেতে পারে বলে এসব যানবাহন ব্যবহার করছে। আবার বিরাটসংখ্যক মানুষের এটাই আয়ের উৎস। 



মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক বলেন, ২০০৮ সালে সিটি মেয়র হিসেবে আমি দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই সময়ের মহাজোট সরকারের আমলে কেসিসি সর্বাধিক এক হাজার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ পেয়েছিল। এর মধ্যে বিভিন্ন খাতে প্রায় ২৭৫ কোটি টাকার বেশি ব্যয় করা হয়েছিল। অন্যান্য উন্নয়ন কার্যক্রমে গতিশীলতা পেয়েছিল। ২০১৬ সালের মধ্যে সব উন্নয়নকাজ পর্যায়ক্রমে শেষ করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সংগত কারণে তা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন সিটি নির্বাচনের পরে  ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী খুলনা সিটির উন্নয়নে অর্থ বরাদ্দ দিয়েছেন। বর্জ্য ব্যবস্থা উন্নয়নে নগরী থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ময়লা আবর্জনা অপসারণের জন্য ২০টি ট্রাক দিয়েছেন। এছাড়া প্রতিশ্রুত ২০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩২ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পূর্বেই আমি সবকিছু গুছিয়ে নিতে চাই। যাতে নগরীর উন্নয়নে অহেতুক সময়ক্ষেপণ না হয়।

খুলনা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি তালুকদার আব্দুল খালেক ২০০৮-১৩ মেয়াদে কেসিসির মেয়র, বাগেরহাট-৩ আসন (রামপাল-মোংলা) থেকে চারবার সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের ১৯৯৬-২০০১ শাসনামলে ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্বপালন করেছেন। ২০১৮ সালের কেসিসি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে দ্বিতীয় বারের মত খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (৫ জুলাই) সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে খুলনা সিটি কর্পোরেশনের নতুন মেয়র হিসেব মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেকের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি এবং মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেককে শপথ বাক্য পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ব্রেকিংনিউজ/এসএএফ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2