শিরোনাম:

‘বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখবে না’

রাহাত হুসাইন

৭ জুলাই ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 7:55 আপডেট: 2:00
‘বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখবে না’

বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া আলোর মুখ দেখবে নাটানা তিন মেয়াদে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। এর আগে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দীর্ঘদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিশেষ সহকারী ছিলেন। ১৯৮১ সালে মাদারীপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হওয়ার পরে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেছেন মাদারীপুর– ৩ আসনের এ সংসদ সদস্য।
 
সম্প্রতি দেশের জনপ্রিয় অনলাইন গণমাধ্যম ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি-এর মুখোমুখি হন এই রাজনীতিক। দীর্ঘ সময়ের আলোচনায় উঠে আসে সমসাময়িক রাজনীতির নানা তথ্য-উপাত্ত। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন ব্রেকিংনিউজের স্টাফ করেসপন্ডেন্ট রাহাত হুসাইন।
ব্রেকিংনিউজ : বিএনপির জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াকে কিভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ? 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম: ঐক্যের নামে বিএনপি-জামায়াত অনেক আগে থেকেই নানা ধরনের জোট করছে। কোনো জোটই কখনও আলোর মুখ দেখেনি। তাদের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়াও আলোর মুখ দেখবে না। নীতিহীন রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐক্য হলেও জ্ঞানসম্পন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিরা বিএনপি-জামায়াতের সঙ্গে জোট করবে না। তাদের ঐক্যের প্রক্রিয়া ফলপ্রসূ হবে বলে আমি মনে করি না। জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়ার সম্ভাবনা কম।

ব্রেকিংনিউজ: খালেদা জিয়ার পক্ষে নিযুক্ত ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড অ্যালেক্স কারলাইল ১৩ জুলাই দুপুরে দিল্লিতে খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করবেন। এ বিষয়টা কিভাবে মূল্যায়ন করবেন?  

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম:  উনার (লর্ড অ্যালেক্স কারলাইল) ভারতের মাটিতে বসে সংবাদ সম্মেলন করার কি দরকার? উনি তো লন্ডনে বসেই সংবাদ সম্মেলন করতে পারতেন। এটা রাজনীতির মাঠে ঝড় তোলা ছাড়া আর কিছুই না। পার্শ্ববর্তী দেশ বন্ধুরাষ্ট্র হচ্ছে ভারত। সেখানে গিয়ে তাকে সংবাদ সম্মেলন করতে হবে কেন? এর মধ্যে অন্য কোনো রাজনৈতিক কৌশল বা অসৎ উদ্দেশ্য আছে কিনা সেটা দেখতে হবে। 

ব্রেকিংনিউজ: দলের মধ্যে জামায়াত-শিবিরের অনুপ্রবেশের বিষয়টি বারবার আলোচনায় আসছে। এ নিয়ে আওয়ামী লীগের অবস্থান কি? 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম:  এটা হচ্ছে একটি রাজনৈতিক দলের শুদ্ধতার প্রশ্ন। প্রাচীনতম, ঐতিহ্যবাহী, আদর্শিক রাজনৈতিক সংগঠন হচ্ছে আওয়ামী লীগ। গৌরবোজ্বল ইতিহাস রয়েছে এ দলটির। দলটির যাতে তার আদর্শ থেকে বিন্দুমাত্র বিচ্যুতি না ঘটে, সঠিক পথে পরিচালিত হতে পারে।

যেকোনো দলের মধ্য অন্যকোনও আদর্শ বা নীতির লোকের অনুপ্রবেশ করলে সে দলের নিজস্ব লক্ষ্য থেকে বিচ্যুতির সম্ভাবনা থাকে। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি সকলকে সজাগ থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। যে কোনোভাবে দলের মধ্যে অন্যকোনো আদর্শে বিশ্বাসী নীতিহীন লোক যেন আওয়ামী লীগে অনুপ্রবেশ না করে। অনুপ্রবেশ মানেই কুচক্রী। কুচক্রীরা যাতে দলের মধ্যে প্রবেশ না করতে পারে এ বিষয়ে দলের প্রধান আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সজাগ থাকার জন্য একাধিকবার নির্দেশনা দিয়েছে।

তবে রাজনৈতিক দলের মধ্যে লোকজন আসবে যাবে এটা চলমান প্রক্রিয়া। যারা বঙ্গবন্ধুর নীতি-আদর্শে বিশ্বাসী ও শ্রদ্ধা রেখে আওয়ামী লীগ করবে তাদের বারণ করা হয়নি। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দৃষ্টিকে সজাগ রাখতে হবে। যাতে কেউ দলের মূল লক্ষ্যে যাওয়ার পথে বাধার সৃষ্টি না করতে পারে। দলের মূল্যই হচ্ছে আদর্শ। আদর্শের পথে এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের আরও যত্নবান হওয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। 

ব্রেকিংনিউজ : একাদশ নির্বাচনে বিএনপির অংশগ্রহণের জন্য চেয়ারপারসন বেগম জিয়ার মুক্তির শর্ত দিয়েছে দলটি। এ নিয়ে কি ভাবছে আওয়ামী লীগ?  

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম: রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি তাদের নেত্রীর মুক্তির দাবি করতেই পারে। বেগম খালেদা জিয়ার যে মামলায় সাজা হয়েছে, সে মামলা তো আমরা দিইনি। আওয়ামী লীগ সরকারও দেয়নি। আওয়ামী লীগ দলও দেয়নি। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলা হয়েছে। মামলা চলছে ধারাবাহিকভাবে। মামলার রুটিন কাজ অনুযায়ী তার সাজা হয়েছে। সাজার কারণে উনি (খালেদা জিয়া) কারাগারে আছেন। খালেদা জিয়ার মুক্তি তো রাজনৈতিক সরকারের বিষয় না। এটা আইনি ব্যাপার। আইন ও আদালতের মাধ্যমে মোকাবিলা করে তাঁর জামিনের জন্য নির্ভর করতে হবে বিএনপিকে। আদালত জামিন দিলে তিনি (খালেদা জিয়া) মুক্তি পাবেন।

এ মামলা নিয়ে মূল বিষয়টাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছে দলটি। মামলা হলো তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে। দুর্নীতির মামলা, অর্থ আত্মসাতের মামলা। তার দায়দায়িত্ব কি সরকারের। এটা তো উদরপিন্ডি বুদর ঘাড়ে চাপানোর অপকৌশলের ছাড়া আর কিছু না।

ব্রেকিংনিউজ : বিএনপির মত একটি বড় রাজনৈতিক দল একাদশ নির্বাচনে না আসলে সেই নির্বাচন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কতটুকু গ্রহণযোগ্যতা পাবে?

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম : কোনো রাজনৈতিক দলের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া। সারা দুনিয়াতে রাজনৈতিক দলগুলো তাদের আদর্শ নিয়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণও করছে। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার মধ্য দিয়ে যে দল জনগণের ম্যান্ডেন্ট পায় তারা সরকার গঠন করে, রাষ্ট্র পরিচালনা করে। 

বাংলাদেশে একটা ভিন্ন সাংস্কৃতি শুরু হয়েছে। কোনো রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কি করবে না এটা তাদের দলের সিদ্ধান্তের ব্যাপার। এটা তো সরকারের বিষয় নয়, অন্যকোনো দলেরও বিষয় নয়। আমার মনে হয় তারা গত নির্বাচনে অংশগ্রহণ না করে যে ভুল করেছে সে ভুল আর করবে না। সেই ভুলের জন্য বিগত সময়ে তাদের অনেক মাশুলও দিতে হয়েছে। মনে হয় না তারা এমন ভুল দ্বিতীয়বার করবে।

আরেকটি বিষয় হলো এ দলের মধ্যে দেউলিয়াত্বে ভরে গেছে। দেউলিয়াত্ব ছাড়া এ দলে আর কিছুই নাই। জনে জনে প্রেস ব্রিফিং করে সকালে একরম, বিকেলে আরেক রকম আর সন্ধ্যার পর অন্যরকম কথাবার্তা বলে। বিএনপির কোন কথাটা সঠিক, কোনটা আসল আর কোনটা নকল, কোনটা কৌশলী বুঝা বড় মুশকিল। 



ব্রেকিংনিউজ : খুলনা ও গাজীপুর সিটি নির্বাচন নিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট বলেছেন- ‘এ  নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয়েছে’। সেদিক থেকে আগামী তিন সিটির নির্বাচন কতটুকু সুষ্ঠু হবে? কিংবা বার্নিকাটের মন্তব্য নিয়ে কি বলবেন? 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম :  বিএনপি-জামায়াত বা বিরোধী দল জয় লাভ করলে সে নির্বাচন সঠিক। আর পরাজিত হলে নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয়ে যায়। এটা সেটা নানান কথা বলে। যে সকল বিদেশি মিশনগুলোর প্রধানরা বলেন নির্বাচন নিয়ন্ত্রিত হয়েছে রংপুর- কুমিল্লার নির্বাচনের পর তো তারা বলেনি নির্বাচন ভালো হয়েছে।

বিএনপি-জামায়াত হেরে গেলেই যদি বলার দায়িত্ব তাদের হয় তবে আমি বলবো তারা কি বিএনপি-জামায়াতের পাস করার এজেন্ডা নিয়ে বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করেন? তারা আসলে কি চায়? আমরা কুমিল্লা ও রংপুর সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছি। আমাদের প্রার্থীরা পরাজিত হয়েছে। বিরোধী দলের প্রার্থীরা জয় লাভ করেছে। আমরা তাদেরকে স্বাগত জানিয়েছি। নির্বাচনে জয় লাভ করলে জনগণকে অভিনন্দন আর পরাজিত হলে বিরোধী দলকে স্বাগত জানানোর মানসিকতা থাকতে হয়। 

বিএনপি আসলে নির্বাচন বর্জন করতে করতে নির্বাচন দেখলে এখন ভয় পায়। নির্বাচনে পরাজিত হলে জনরায়কে মেনে নেয়ার মানসিকতাও এরা হারিয়ে ফেলেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি দেশের মানুষ আর মিথ্যাচারকে বিশ্বাস করে না। দেশের মানুষ উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির পথে হাঁটতে চায়। তারা আগামী দিনেও শেখ হাসিনার নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতায় আনবে। উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখবে। 

ব্রেকিংনিউজ : টানা দুই মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকার পর একাদশ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয়ভাবে কোন বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ মনে করছেন? 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম: সন্ত্রাসবাদ-জঙ্গিবাদ ও মাদক এই তিনটি আমাদের বাংলাদেশের জন্য চ্যালেঞ্জের। শুধু বাংলাদেশ নয় সারা বিশ্ব এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে এগুচ্ছে। এই চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করার জন্য আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কোনো দল নেই।

এই তিনটি বিষয়কে মোকাবিলা করতে হলে আমাদের জনসমর্থন প্রয়োজন। এ সকল গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে লড়াই করা খুব কঠিন। আন্তর্জাতিক জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ যেভাবে বিশ্বের অন্যান্য দেশকে গ্রাস করার চেষ্টা করছে তারা বাংলাদেশে এখনও পর্যন্ত সেভাবে সফল হয়নি। বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার সফলভাবে এদের দমন করতে সক্ষম হয়েছে। এরা এখনও সুযোগ নিয়ে নির্বাচনকালীন সময় বিএনপি-জামায়তের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশকে আবারও অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে। আর সেটা মোকাবিলাই আমাদের এ মুহূর্তের চ্যালেঞ্জ।  

ব্রেকিংনিউজ : এবার জনপ্রিয়তার ভিত্তিতে দল থেকে মনোনয়ন দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। আপনি এমপি হওয়ার পর মাদারীপুর-৩ আসনের বাসিন্দাদের জন্য কি কি কাজ করেছেন? 

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম : আমিতো প্রথম মেয়াদে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হলাম। আমি নির্বাচিত হওয়ার পর বুঝতে চেষ্টা করেছি মানুষের চাহিদা কি। তারা কি চায়। এটুকু বুঝেছি- মানুষ উন্নয়ন-অগ্রগতি চায়। মানুষ জনপ্রতিনিধিদের কাছে পেতে চায়। তাদের সুখ-দুঃখের কথা বলতে চায়। পারিবারিক-সামাজিক কর্মকাণ্ডে জনপ্রতিনিধিদের সম্পৃক্তা চায়। আমি তাদের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করেছি। এলাকার এমন কোনো পথঘাট নেই যেখানে আমি যাইনি। 

এলাকার এমপিকে গত ৩০ বছরেও এলাকাবাসীর সঙ্গে ঈদের নামাজ পড়ার ইতিহাস নেই। ৩০ বছরে কোনো এমপি এলাকায় ঈদ উদযাপন করেনি। এলাকার কারো জানাযায় যাননি। এলাকার কোনো সামজিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করারও কোনও কোনো দৃষ্টান্ত নেই। আমি পুরানো এই রেকর্ড ভাঙার চেষ্টা করেছি। এলাকাবাসীর সঙ্গে মিশেছি। তাদের নিয়মিত সময় দিয়ে যাচ্ছি।

মাদারীপুর-৩ আসনে উন্নয়নের চাহিদা ব্যাপক। আমি সমতার ভিত্তিতে উন্নয়নের কাজ করেছি। জনসংখ্যার ভিত্তিতে সরকারের বরাদ্দকে সমানভাবে ভাগ করে দিয়েছি। পিছিয়ে পড়া গ্রামগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে ওইসব অঞ্চলের রাস্তাঘাট উন্নয়ন করে দিয়েছি। মাদারীপুর-কালকিনি এখন আর পিছিয়ে পড়া এলাকা নয়। এলাকার কাজে জনগণ সন্তুষ্ট।  তারা আর দালাল-বাটপার মধ্যস্বত্বভোগীদের ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তারা সরাসরি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সংযোগ রাখতে চায়। এটা জনগণের চাহিদা। আর এ চাহিদা স্বাভাবিক। এটা কোনো অন্যায় আবদার নয়। সে আবদার পূরণে চেষ্টা করেছি। প্রার্থী হিসেবে, এমপি হিসেবে সাধারণ মানুষের কাছে আমার অবস্থান খোঁজ করলে আপনার আরও ভালো জানতে পারবেন। 

ব্রেকিংনিউজ : সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাসিম : আপনাকে ও ব্রেকিংনিউজ পরিবারকেও অসংখ্য ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/আরএইচ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2