শিরোনাম:

আন্দোলন ইস্যুতে ফেসবুকে ফারুকীর ভাষ্য

সোস্যাল মিডিয়া ডেস্ক
৪ আগস্ট ২০১৮, শনিবার
প্রকাশিত: 9:11
আন্দোলন ইস্যুতে ফেসবুকে ফারুকীর ভাষ্য

নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি সরব হয়েছেন দেশের নামিদামি তারকারাও। এরইমধ্যে অভিনয় শিল্পীদের রাস্তায় নেমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করতে দেখা গেছে। ক্রিকেটাররাও এ নিয়ে কথা বলছেন। বসে নেই হালের জনপ্রিয় চলচ্চিত্র নির্মাতা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীও।

শনিবার (৪ আগস্ট) সকাল থেকে চলমান আন্দোলনের নানা দিক তুলে ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক এক করে তিনটি আলাদা পোস্ট দিয়েছেন তিনি। ফারুকীর নিজস্ব পেজ থেকে সংগ্রহিত সেই পোস্টগুলো নিচে ধারাবাহিকভাবে হুবহু তুলে ধরা হলো:  

১. সন্ধ্যায় দেয়া পোস্ট:
প্রিয় মেইনস্ট্রিম পত্রিকা এবং টিভি, তোমাদের মৃত্যুতে শোক জানাইতেও ইচ্ছা করতেছে না। তোমাদের জন্য লজ্জিত। 
ঝিগাতলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরা বাংলাদেশ যে গুজবের রাজ্যে পরিণত হচ্ছে এর জন্য দায়ী তোমরা এবং তোমাদের নির্লজ্জ নিরবতা। 

সত্য জানাও, গুজব থামাও।

সরকারের উপকার করতে গিয়া অপকার কইরা ফেইলো না!
আর সবার প্রতি আহবান, দয়া করে কেউ নিশ্চিত না হয়ে কোন গুজব ছড়াবেন না!

২. বিকেলে দেয়া পোস্ট:
যতোদিন দিন যাচ্ছে, ততো আমার অস্থিরতা বাড়তেছে। তোমরা আমাদের কথায় নামো নাই, আমাদের কথায় ফিরে যাবা না, এটা জেনেও পরশু রাতে লিখছিলাম, সরকারকে দায়িত্ব দিয়ে ফিরে যাওয়াটাই এখন দূরদর্শী সিদ্ধান্ত হবে। 
জানি এটা বলা ঝুঁকির। কেউ কেউ ভাবতে পারো দালালি করছি। কিন্তু ঠান্ডা মাথায় ভাবো এটার তো একটা এক্সিট রুট থাকতে হবে। এটাতো পারমানেন্টলি চলবে না। চালাতে চাইলে পুরা আন্দোলনটা একসময় জনসমর্থন হারাবে অথবা আরো জটিল দিকে গড়াবে। আর নানামুখী ষড়যন্ত্র তো হবেই। ফলে ভাবো! ভাবো। গেলে যে আবার ফিরে আসা যাবে না তা তো না। যে মহড়া তোমাদের হয়ে গেলো, সেটা তো যে কোনো দরকারেই আবার কাজে লাগবে।

আমি এটাও চিন্তা করতেছি, ছেলেমেয়েরা সরকারের কথায় আশ্বস্ত হচ্ছে না কেনো? সেটা কি একদিকে ফিরে যেতে বলে আরেকদিকে আক্রমণের কারণে? নাহলে কি কারণ থাকতে পারে? সরকারের থিংক ট্যাংকরা ভাবেন কিভাবে এদেরকে বিশ্বাস করিয়ে বাড়ি পাঠানো যায়।

পরিবহন খাতে আমূল সংস্কারের জন্য একটা পাওয়ারফুল কমিটি কি করা যায়, যে কমিটি একটা দীর্ঘমেয়াদী এবং আমূল সংস্কার সাজেস্ট করবে? যেখানে তথ্য প্রযুক্তিবিদ, প্রকৌশলী সবাই থাকবে। শাহজাহান খানকে ডিজওন করলে সমস্যা কি? 
কিছু একটা করেন যাতে এটা স্মুথলি শেষ হয়।
আর দয়া করে শিক্ষার্থীদের উপর হামলা বন্ধ করেন। এটা ব্যাপারটাকে জটিল থেকে জটিলতর করে তুলবে।

৩. সকালে দেয়া পোস্ট:

প্রিয় মোস্তফা জব্বার ভাই,
কিশোর বিদ্রোহের এই অনন্যসাধারণ ব্যাপারটাকে ভিলিফাই করার চেষ্টা করবেন না, প্লিজ। মনে রাখবেন, এরা আপনাদের শত্রু না। এরাই আপনার ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রধান সৈনিক হবে। মিরপুরে লাঠি হাতে যারা দাপিয়ে বেড়িয়েছে তাদেরকে দিয়া জয় ভাইয়েরও কাজ হবে না, ববি ভাইয়েরও না। লাগবে এই সব সোনার ছেলেমেয়েদেরই। আরো মনে রাখবেন, দুই হাজার আটে সাধারণভাবে তরুনরা আপনাদের পক্ষে ছিলো বলেই আপনাদের পক্ষে জোয়ার আসছিলো। ভাবেন এই ছেলে মেয়েরা পাঁচ-দশ বছর পর কোথায় যাবে। তখন এরা কত জরুরী হবে আপনাদের কাছে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক দাবী আমরা মেনে নিচ্ছি। বঙ্গবন্ধুর দৌহিত্র রেদওয়ান মুজিব তাদের সম্মানে হেঁটে অফিসে গেলেন। ডিএমপির মনির ভাই বললেন শিক্ষার্থীরা আমাদের চোখ খুলে দিয়েছে।

এখন হঠাৎ করে বিচ্ছিন্ন দুয়েকটা ঘটনা, শ্লোগান আর ভাষা নিয়া অহেতুক আপনার ভবিষ্যত প্রজন্মকে ছোট করার ব্যর্থচেষ্টা করবেন না। এতে আপনি, আমি, আমরা, আমাদের ভবিষ্যত সবাই ছোট হচ্ছি। গালি বা স্ট্রিট ল্যাংগুয়েজের নন্দন তত্ব, সামাজিক ব্যাখ্যা এইসবে না গিয়ে আপনাকে খেয়াল করিয়ে দিতে চাই এইসব দুয়েকটা ঘটনা এই আন্দোলনের আসল চিত্র ছিলো না। এতো হাজার হাজার ছেলেমেয়ে রাস্তায় এসেছে তাদের মধ্যে কত রকমের মানুষ থাকতে পারে। নব্বইয়ে ছিলো না এই রকম অতি সামান্য বিচ্ছিন্ন উপাদান?

আমি বরং সেইসব নিয়ে কথা না বলে খেয়াল করাতে চাই এই আন্দোলন কত রাজনৈতিকভাবে সচেতন শ্লোগান ব্যবহার করেছে। খেয়াল করিয়ে দিতে চাই, পুলিশ-ছাত্র গলাগলি করে কিভাবে দাঁড়িয়েছিলো ফার্মগেটে, কি সুমধুর সুরে এরা জাতীয় সংগীত গেয়েছে, কি সুন্দর ভাবে লাইসেন্স চেক করে থ্যাংক ইউ বলেছে, কোথাও কোথাও চকলেট দিয়েছে। খেয়াল করাতে চাই এদের বক্তব্যে এবং কণ্ঠে কতবার বঙ্গবন্ধুর কথা উঠে এসেছে রেফারেন্স হিসাবে। নতুন প্রজন্মের হৃদয়ে বঙ্গবন্ধুকে এইভাবে দেখেও কি আপনি আশাবাদী হন নাই? আমি তো ভীষণ হয়েছি।

এখন ওদেরকে হাসিমুখে ঘরে ফিরতে দেন আর যে কাজ করার ওয়াদা করেছেন সেগুলোতে হাত দেন। তারপর আমরা সবাই মিলে একসাথে এগিয়ে যাই সামনের দিকে।

এবার নীচে এই আন্দোলনের কিছু জনপ্রিয় শ্লোগানের লিস্ট দিয়ে দিলাম যদি আপনি মিস করে থাকেন এই ভয়ে।

১: হয়নি বলেই আর হবে না, আমরা বলি বাদ দে। লক্ষ তরুণ চেঁচিয়ে বলে পাপ সরাবো হাত দে। 
২: যদি তুমি ভয় পাও তবে তুমি শেষ , যদি তুমি রুখে দাড়াও তবে তুমি বাংলাদেশ। 
৩: জনপ্রতিনিধিদের সপ্তাহে অন্তত তিন দিন গণপরিবহনে যাতায়াত করতে দিতে হবে। 
৪: পারলে মাথায় গুলি কর, তাহলে মেধা মারা যাবে, কিন্তু বুকে গুলি করিস না, এখানে বঙ্গবন্ধু ঘুমায়, বন্ধু জেগে গেলে সব ধবংস হয়ে যাবে।
৫: আমরা ৯ টাকায় ১ জিবি চাই না "নিরাপদ সড়ক চাই"। 
৬: চার কোটি শুক্রাণুর সাথে লড়াই করে জন্মেছি, চাকার তলায় পিষার জন্য নয়। 
৭: পথ খুলবে বলেই রাস্তা আটকাই। 
৮: শিক্ষকের বেতের বাড়ি নিষেধ যেই দেশে, পুলিশের হাতে লাঠি কেন সেই দেশে। 
৯: আর নবারুন ভট্টাচার্যর কবিতাটা যেটার লাইন আমার হুবহু মনে পড়ছে না। 
১০: টনক তুমি নড়বে কবে?

১১: ন্যায্য দাবীর মিছিলে যে চোখ 
সে চোখ জেগেছে জয়ে 
মিছিল কখনো থামেনা বুলেটে
শ্লোগান থামেনা ভয়ে।

আমার তো মনে হয়না ওদের বয়সে আমি এই রকম গুছিয়ে বলতে পারতাম। মনে পড়ে মহল্লার সরু রাস্তা ছেড়ে বড় রাস্তায় উঠলে জড়তায় সংকুচিত হয়ে থাকতাম। সেখানে মহাসড়কে নেমে এতো গুছিয়ে একটা আন্দোলন তো অনেক দুরের কথা। আপনি কি পারতেন, প্রিয় জব্বার ভাই?

আপনাকে ধন্যবাদ।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2