শিরোনাম:

গাইবান্ধায় ভুয়া কাজী মিঠুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ (পর্ব-৩)

মিলন খন্দকার, গাইবান্ধা প্রতিনিধি
১০ আগস্ট ২০১৮, শুক্রবার
প্রকাশিত: 6:33
গাইবান্ধায় ভুয়া কাজী মিঠুর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ (পর্ব-৩)

গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) মোহাম্মদ আলী ও তার সহকারী নিকাহ রেজিস্ট্রার (কাজী) এজাহান আলী খান মিঠুসহ পাঁচজন ভুয়া কাজীর বিরুদ্ধে গাইবান্ধা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

ভুয়া বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রিসহ বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রির এই অভিযোগ করেছেন গাইবান্ধা পৌরসভার নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্টাররা। গতকাল বৃহস্পতিবার (৯ আগস্ট) রাতে এই অভিযোগ থানায় দায়ের করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়,দীর্ঘদিন থেকে কাজী মোহাম্মদ আলী তার সহকার ইসমাইল হোসেন,মিলন মিয়া,আবু বক্কর,জামিল মিয়া,আতোয়ার মাস্টার ও আমিনুল ইসলামকে ভুয়া বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রার সরবরাহ করে আসছে।তারা গাইবান্ধা শহর,জেলার বিভিন্ন এলাকা,আদালত চত্বর এমনকি তাদের নিজ নিজ বাড়িতে নাবালক-নাবালিকা ছেলে মেয়েদের ভুয়া জন্ম নিবন্ধন সনদ সরবরাহ,নোটারি পাবলিক কর্তৃক এফিডেভিট মূলে তাদের ভুয়া রেজিস্ট্রার (বালাম) বইতে বিয়ে ও তালাক রেজিস্ট্রি করে চলেছেন। প্রত্যেকটি বাল্য বিয়ে রেজিস্ট্রি করতে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা পর্যন্ত নেন এসব ভুয়া কাজী। ফলে সরকার কর্তৃক নিয়োগপ্রাপ্ত কাজীদের মানসম্মান ক্ষুন্ন হচ্ছে।আর বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার।

অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়,নিয়োগপ্রাপ্ত কাজী মোহাম্মদ আলী নিজ ক্ষমতাবলে আইন অমান্য করে ওই পাঁচজনকে সহকারী কাজী হিসেবে (অলিখিত) নিয়োগ দিয়ে তাদের মাধ্যমে এসব অপকর্ম করে আসছেন।তারা মোহাম্মদ আলীর সরবরাহকৃত রেজিস্ট্রি বইয়ের ফাঁকা পাতায় বর ও কনের সই নেন। সই নেয়ার প্রয়োজন মনে করেন না বিয়ের সাক্ষী ও উকিলদের।

এমনকি মোহরানার বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করেন না। পরে বর কিংবা কনে কোনও এক পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিয়ে মোহরানার টাকা ইচ্ছেমতো বসিয়ে নকল সরবরাহ করেন। এসব নকল কপিতে নিকাহ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলীর সিল ও সই ব্যবহার করা হয়। মোহাম্মদ আলী তার সহকারীদের কাছে প্রত্যেকটি ভুয়া রেজিস্ট্রার বই বিক্রি করেন পাঁচ হাজার টাকায়। প্রতিমাসে তার পনের থেকে বিশটি বই বিক্রি হয়।

নিকাহ রেজিস্ট্রাররা অভিযোগ করেন,মোহাম্মদ আলী ও তার সহকারীদের এসব অপকর্মের বিষয়ে পৌর এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রাররা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার জানানোর পরও প্রতিকার মেলেনি। বরং কর্তৃপক্ষ বিষয়টি মোহাম্মদ আলীকে জানালে মোহাম্মদ আলী ও তার সহকারীরা আমাদের জীবন নাশের হুমকি,মান-অপমান করা সহ মারমুখী আচরণ করেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. শাহরিয়ার ব্রেকিংনিউজকে বলেন,এধরনের ভুয়া কাজী আমরা অতীতেও গ্রেফতার করেছি।বাল্যবিয়ে ঠেকাতে পুলিশ সব সময় তৎপর রয়েছে। নিকাহ রেজিস্ট্রার মোহাম্মদ আলী ও তার সহকারীদের বিরুদ্ধে ভুয়া বিয়ে ও তালাক রেজিষ্ট্রির অভিযোগ পাওয়া গেছে। তাদের ধরতে অভিযান চলছে।  

জেলা রেজিস্ট্রারের কার্যালয় সূত্র জানায়,চলতি বছরের ১১ এপ্রিল আইন,বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়,আইন ও বিচার বিভাগ,বিচার শাখা-৭ এর সিনিয়র সহকারী সচিব বুলবুল আহমেদ স্বাক্ষরিত জেলা রেজিস্ট্রারকে একপত্রে,প্রত্যেক নিকাহ রেজিস্ট্রারকে নিজ নিজ কর্ম এলাকায় অবস্থান ও বিয়ে রেজিস্ট্রির সময় বিয়ে নিবন্ধকের উপস্থিতি  নিশ্চিত করার জন্য নির্দেশ দেন।এই নির্দেশনা জেলার প্রত্যেক নিয়োগপ্রাপ্ত নিকাহ রেজিস্ট্রারকে দেওয়া হয়েছে।
 
প্রসঙ্গত,ভুয়া কাজীদের মধ্য জামিল মিয়াকে গাইবান্ধা ডিসি অফিসের সামনে থেকে গত ২৯ জুলাই নাবালিকার বিয়ে রেজিস্ট্রির অভিযোগে আটক করে পুলিশ। এর আগে একই অভিযোগে মিলন মিয়াকেও আটক করা হয়। সেসময় মিলন কাজীর কাছে থেকে কয়েকটি ভুয়া ভলিয়ম বই জব্দ করে পুলিশ। পরে এই পেশা বাদ দিয়ে অন্য পেশায় নিয়োজিত থাকবেন- মর্মে মুচলেকা দিয়ে রক্ষা পান তিনি।

ব্রেকিংনিউজ/আরএ

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2