শিরোনাম:

বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প : অন্তরায় ও সম্ভাবনা

মিথুন রায়
২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: 7:08 আপডেট: 7:48
বাংলাদেশের পর্যটনশিল্প : অন্তরায় ও সম্ভাবনা

দিন দিনই পর্যটনশিল্পের উন্নয়নের দিতে মনোযোগী হচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ। কারণ, আধুনিক বিশ্বে যেকোনও দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে পর্যটন খাত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এমনও দেশ আছে যাদের জাতীয় আয় নির্ভরশীল পর্যটন খাতের ওপর। ২৭ সেপ্টেম্বর, বিশ্ব পর্যটন দিবস। এ দিনটিকে কেন্দ্র করে বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে পর্যটন সচেতনামূলক নানা কর্মসূচি। 

এই দিনে একবার চোখ ফেরানো যাক বাংলাদেশের পর্যটনশিল্পের দিকে। গত কয়েক বছরে সরকারের নানামুখি পদক্ষেপ থাকলেও পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশ কেন আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারছে না, এটি যেমন প্রশ্ন- একইভাবে দেশের পর্যটন খাতকে বিশ্বের কাছে কীভাবে আকর্ষণীয় করে তোলা যায় সে বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। 

বিশ্ব পর্যটন সংস্থার (ইউএনডাব্লিউটিও) নির্দেশনা অনুযায়ী, বিভিন্ন দেশ টিএসএ তৈরি করলেও বাংলাদেশে গত চার দশকেও এর জন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এই একটি কাজ করা সম্ভব হলেই আমাদের জিডিপিতে পর্যটন খাত ও প্রতিটি উপখাতের অবদান সম্পর্কে জানা যাবে। পর্যটন নিয়ে ব্যাবসায়িক পরিকল্পনা করা আরো সহজ হবে। 

নির্দেশনা অনুযায়ী একইসঙ্গে পর্যটনে আমাদের কোন খাতটি দুর্বল, কোনটি সবল তা-ও চিহ্নিত হবে। শুধু বিদেশি পর্যটক নয়, বাংলাদেশের নাগরিকরা প্রতিবছর অভ্যন্তরীণ পর্যটন খাতে কত ব্যয় করে এবং প্রতিবছর কতজন দেশের ভেতরে ভ্রমণ করে, তা বের করা যাবে।  

বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্পখাতে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ নজরদারি থাকলেও বরাবরই অবহেলিত পর্যটন খাত। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন- এই অবহেলার কারণেই দেশের পর্যটনশিল্প বিকশিত হতে পারছে না। 

বাংলাদেশকে বলা হয় সুজলা-সুফলা, শস্য-শ্যামলা। এখানে একদিকে যেমন আছে অসংখ্য নদী, যেমন আছে সমুদ্র একইভাবে দেশের সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে শির উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে অসংখ্য পাহাড়। 

পর্যটন বিশ্লেষকরা বলেন, যেসব দেশে সমুদ্রসৈকত আছে, সেখানে সারা বছর পর্যটকের আধিক্য থাকে। বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত বাংলাদেশে। সমুদ্রসৈকত শুধু নয়, আমাদের দেশে পাহাড়ও আছে, আছে দর্শনীয় অনেক ঐতিহাসিক পর্যটন স্পট। তার পরও আমরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করতে পারছি না। এর দায় নিশ্চিতভাবেই আমাদেরকেই নিতে হবে। 

দেশের পর্যটন স্পটগুলোকে প্রডাক্ট হিসেবে গড়ে তোলার বিকল্প নেই। পাশাপাশি আধুনিক পর্যটনশিল্পের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে পর্যটন পণ্যগুলো আন্তর্জাতিক মানের করে গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে বিদেশি পর্যটকদের সঙ্গে দেশীয় পর্যটকদের আকর্ষণও বাড়াতে হবে। 

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপার লীলাভূমি এই বাংলাদেশ। ছোট দেশে রয়েছে অনেক বৈচিত্র্য। এদেশের শষ্য শ্যামল গ্রামগুলো দেখার মতো সুন্দর। এদেশে আছে বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন, বৃগত্তম সমুদ্রসৈকত। এদেশে সাগর নদী পাহাড় গ্রাম হাওর আরো কতো কিছু মিলে অনেক সুন্দর এক কম্বিনেশন। আমাদের সমুদ্রসৈকত হাংরের ভয়মুক্ত। এখানকার নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু খুবই আরামপ্রদ

সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি এদেশকে প্রতিবেশী দেশসমূহ থেকে আলাদা করেছে। রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পিছিয়ে থাকলেও সামাজিক ক্ষেত্রে আমাদেও উন্নতি আশাব্যঞ্জক। আমাদের দেশের মানুষ স্বভাবতই অতিথিপরায়ন। আমাদের রয়েছে পুরনো সমৃদ্ধ ও খুব সুন্দর লোকসাহিত্য সম্ভার, এসবকে সঠিকভাবে তুলে ধরা আজ সময়ের দাবি। এছাড়া আমাদের স্বতন্ত্র ক্রীড়া, ভাষা, সাহিত্য, প্রাচীন নির্দশনসমূহ পর্যটকদের আকর্ষণের বিষয় হতে পারে।

পর্যটনশিল্পকে কেন্দ্র করে প্রচুর জনসংখ্যা অধ্যুষিত দেশের জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে টুরিজম বেজড অনেক ব্যবসা ও শিল্প গড়ে তোলা যায়। যা দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখার পাশাপাশি বেকারত্ব দূরীকরণ ও বিদেশি পর্যটকদেরে আরও আকৃষ্ট করতে পারে।

বিশ্বের বৃহত্তম বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী খাত হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে পর্যটন। উন্নয়নশীল দেশগুলোর এক-তৃতীয়াংশের রফতানি আয়ের প্রধান উৎস পর্যটনশিল্প। বিশ্ব পর্যটন সংস্থার প্রাক্কলন অনুযায়ী সারা বিশ্বে প্রায় ১০০ মিলিয়নের বেশি মানুষ তাদের জীবন-জীবিকার জন্য এই শিল্পের ওপর নির্ভরশীল। সমগ্র বিশ্বে ২০২০ সাল নাগাদ পর্যটন থেকে প্রতিবছর দুই ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় হবে। 

অথচ আমরা খেয়াল করলে দেখবো- চট্টগ্রাম কিংবা কক্সবাজার দেশের অন্যতম পর্যটন এরিয়া হলেও সেখানে পর্যটকদের জন্য উপযুক্ত স্থানে তেমন হোটেল ব্যবস্থা নেই। চট্টগামের কোন হোটেল থেকে কি পাহাড় দেখা যায় অথবা সমুদ্র? তবে কক্সবাজারে ইদানিং এমন ব্যবস্থা হয়েছে। পর্যটকরা আসেনই একটু নিরিবিলি একান্ত সময় কাটানোর জন্য। সেক্ষেত্রে যদি ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটি থাকে তবে তারা নিঃসন্দেহে আগ্রহ হারাবে।

আর তাই আধুনিক বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখনই সময় দেশের পর্যটনশিল্পকে আরও উন্নত ও যুগোপযোগী করে গড়ে তোলা। আর তা সঠিকভাবে করতে পারলে বিশ্ব দরবারে আরও পাকা আসন পাবে লাল-সবুজের এই স্বাধীন বাংলাদেশ। তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট

ব্রেকিংনিউজ/এমআর

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2