শিরোনাম:

কৃষিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের তাগিদ

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
১০ অক্টোবর ২০১৮, বুধবার
প্রকাশিত: 6:42
কৃষিতে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের তাগিদ

দেশের মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ কৃষিকাজে নিয়োজিত। এত বিপুল পরিমাণ জনগণ কৃষিতে নিয়োজিত থাকলেও মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) কৃষি খাতের অবদান মাত্র ১৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ। প্রযুত্তিগত উন্নয়ন না হওয়ার কারাণে কৃষি থেকে কাঙ্খিত সুফল পাওয়া যাচ্ছে না। তাই টেকসই উন্নয়নের জন্য ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনার করতে হবে।  

বুধবার (১০ অক্টোবর) রাজধানী আগারগাঁওয়ে পরিকল্পনা কমিশনের এনইসি মিলনায়তনে এক পরামর্শ সভায় এসব কথা বলেন বক্তারা । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান।

এসডিজি অর্জনে ধানভিত্তিক কৃষি খাদ্য ব্যবস্থাপনা কিভাবে ভূমিকা রাখতে পারে এবং এর জন্য কতটুকু অর্থ সহায়তা প্রয়োজন এ নিয়ে আলোচনা আয়োজন করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ এবং ইন্টারন্যাশনাল রাইস রিসার্চ ইনস্টিটিউট (ইরি) যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, ‘কৃষি ক্ষেত্রে গবেষণা ও নতুন উদ্ভাবন আনতে হবে। প্রযুক্তিকে কাজে লাগাতে হবে, পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও কৃষকরা যেন ন্যায্যমূল্য পায় সেটা নিশ্চিত করতে হবে। খরা, লবণাক্ততা ও জলাবদ্ধতাসহ বিভিন্ন প্রতিকূল পরিবেশ সহনশীল ধানের জাত উদ্ভাবন করতে হবে।’

অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিখাতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করায় বন্ধ পরিকর।  উদ্ভাবনী কৃষি খাদ্য উৎপাদন ও বিতরণের মাধ্যমে জাতীয় খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা বৃদ্ধি করছে। এর ফলে দারিদ্য বিমোচনসহ গ্রামীণ জীবন-জীবিকা উন্নয়ন হয়েছে।’

এসময় তিনি বলেন, ‘বন্যা- ঝড় সহ অনেক প্রতিবন্ধকতা সত্তেও ধান উৎপাদনে আমরা ভালো কারেছি। গবেষকদের প্রতিকূল পরিবেশে ও সব সময় যেন ধান উৎপাদন হয় সেই জাত উৎপাদন করার তাগিদ দেন তিনি।’

সভায় ‘টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে বাংলাদেশের নীতিমালাসমূহের অগ্রাধিকার’ শীর্ষক পত্র উপস্থপন করেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) অধ্যাপক ড. শামছুল আলম। 

তিনি বলেন, ‘মোট কর্মসংস্থানের ৪০ শতাংশ কৃষি সেক্টরে। কিন্তু তরুণরা এ সেক্টরে কাজ করতে আগ্রহী না। যারা কাজ করছে তারা বেশিরভাগই বয়স্ক ও মধ্যবয়স্ক। প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে তরুনদেরও এ খাতে  আগ্রহী করে তুলতে হবে।’

ড. শামছুল আলম বলেন, ‘নেদারল্যান্ড কৃষি ও খাদ্যপণ্য রফতানি করে বছরে ৫৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করে। যেখানে বাংলাদেশের মোট রফতানি আয় ৩৫ বিলিয়ন ডলারের মত।’ 

তিনি বলেন, ‘৪১ হাজার ৫৪৩ বর্গকিলোমিটার দেশ নেদারল্যান্ড তারা পারলে আমরা কেন পারবো না। এর জন্য প্রয়োজন উন্নত নিবিড় কৃষিপদ্ধতি। আর এর জন্য ডেল্টা প্লান-২১০০ হাতে নিয়েছে সরাকার। এ প্লান প্রথম করেছে নেদারল্যান্ড আর বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয়।’

ড. শামছুল আলম বলেন, ‘কৃষিক্ষেত্রে রিসার্চ ও ইনোভেশন প্রয়োজন। আর যারা কাজ করবে তাদের এ সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে অবদানের জন্য ১ শতাংশ জিডিপিটিতে গ্রোথ হলে দারিদ্রতা কমতে সহায়তা করে দশমিক ৫ শতাংশ। কৃষি সেক্টরের গ্রোথ অন্য যেকোন সেক্টরের চেয়ে বেশি দারিদ্র কমাতে সহায়তা করে।’

কৃষি মন্ত্রনালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেন, ‘অতিরিক্ত জনসংখ্যা আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ। দেখা যায় যে কৃষি পণ্য উৎপাদন হয় তা থেকে রপ্তানি আমরা কমই করতে পারি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অনেক প্রাকৃতিক দুর্যোগ হয়। ঝড় –বন্যা বেশি হচ্ছে। সমুদ্র উপুকলবর্তী জেলাগুলোর পানিতে লবনাক্ততা দেখা দিচ্ছে। এগুলো আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জ।’

মো. নাসিরুজ্জামান আরও বলেন, ‘সরকার কৃষিতে বিনিয়োগ করছে। কিন্তু সরাকারের পাশাপাশি বেসকারিখাতকেও বেশি করে এ সেক্টরে বিনিয়োগ করতে হবে। কৃষি ক্ষেত্রে বিনিয়োগ লাভজনক। সরকার এখানে বিভিন্ন রকম সুযোগ দেয়।’ 

সভায় বাংলাদেশে কর্মরত দাতা সংস্থার দেশীয় প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়াও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয়, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়, দেশীয় ও আর্ন্তজাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার সদস্যবৃন্দ, ধান বিজ্ঞানী, বিশেষজ্ঞ এবং নীতি-নির্ধারকবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমআই/জেআই

Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Sidebar-1
Ads-Bottom-1
Ads-Bottom-2