সংবাদ শিরোনামঃ

রংপুরে ধানের দাম নেই, হতাশ কৃষকরা

সোহেল রশীদ, রংপুর প্রতিনিধি
১০ জানুয়ারি ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৭:২৬ আপডেট: ০৭:২৭

রংপুরে ধানের দাম নেই, হতাশ কৃষকরা

*রাইস মিলগুলো ধান কিনছে না।
*গত বছরের তুলনায় মণপ্রতি ধানের দাম কমেছে দুইশত টাকা।
*দরপতনের আশঙ্কা।

রংপুর অঞ্চলে এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭৪২ টন বেশি আমন ধান উৎপাদিত হলেও হাট বাজারে ধানের দাম না থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন কৃষকরা। গত বছরের তুলনায় এবার ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও দাম বৃদ্ধি হয়নি বরং কমেছে মণ প্রতি প্রায় দুইশ’ টাকা।  
অন্যদিকে কৃষকদের কাছ থেকে রাইস মিল মালিকরা ধান না কেনায় দরপতনের আশঙ্কা রয়েছে। সরকারিভাবে কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে চাল ক্রয় করা হলেও এর সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কর্মকর্তারা জানায়, চলতি বছরে এই অঞ্চলে ৬ লাখ ৩ হাজার ৪৭৬ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষ করে চালের উৎপাদন হয়েছে ১৭ লাখ ৬৯ হাজার ৮৭৪ টন। লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১৮৪ হেক্টর জমি। 

গত বছর রংপুর অঞ্চলে ৫ লাখ ৯৩ হাজার ৪৫৬ হেক্টর জমিতে আমন চাষ করে চালের উৎপাদন হয়েছিল ১৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯ টন। সে হিসাবে গত বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ৪৫ হাজার ৮০৫ টন।

রংপুরের পীরগাছা উপজেলার বিরাহীম গ্রামের কৃষক সফর উদ্দিন খান বলেন, এ বছর বৃষ্টি তেমন না হওয়ায় জমিতে সেচ দিতে হয়েছে বেশি। বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকারও বেশি। বর্তমানে জেলার হাট বাজারগুলোতে ধান বিক্রি হচ্ছে মোটা ধান ৬৫০টাকা আর চিকন ধান ৭৫০ টাকা দরে। সরকার চালের দাম ৩৬ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে, এটা আশার কথা। এখন মিলে যদি বেশি করে ধান ক্রয় করে তাহলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

দেউতি পারুল এলাকার কৃষক ফুল মিয়া ও শহ আলম বলেন, ৫০ শতক জমিতে ১৯ মণ ফলন পেয়েছেন। খরচ হয়েছে প্রায় ৮ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারমূল্যে বিক্রি করলে ১১ হাজার টাকা পাবেন। খরচ বাদ দিলে লাভ হবে মাত্র ৩ হাজার টাকা। 
রংপুর মহানগরীর তামপাট এলাকার কৃষক আশরাফুল আলম বলেন, প্রতিমণ ধান ৫০০টাকায় বিক্রি করলেও তাদের উৎপাদন খরচ উঠবে না। ধানের আশানুরূপ দাম না পাওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েছি। 

ধান ব্যবসায়ী সাদ্দাম হোসেন ও নুরুজ্জামান নুরু বলেন, আমরা ধান ক্রয় করে অটোরাইস মিলগুলোতে বিক্রি করি। এখন রাইস মিলগুলো ধান কিনছে না। এ কারণে বাজারে ধানের দরপতন ঘটতে পারে।

কৃষি বিপণন অধিদফতরের রংপুর জেলা বিপণন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতি মণ মোটা ধান বিক্রি হচ্ছে ৫৮০ থেকে ৬০০ টাকা, মাঝারি আকারেরটি ৬২০ থেকে ৬৪০ টাকায়। সেখানে গত বছর মণপ্রতি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হয়েছে।

রংপুর জেলা বিপণন কর্মকর্তা এসএএম হাসান সরোয়ার বলেন, সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে পারলে কৃষকরা লাভবান হবেন। কিন্তু আমরা আশঙ্কা করছি অধিকাংশ মিলার বিশেষ করে অটো রাইস মিল মালিকদের প্রচুর ধান মজুদ থাকায় কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্থ হবেন।
রংপুর আঞ্চলিক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ পরিচালক মো. মনিরুজ্জামান বলেন, হাইব্রিড জাতের ধানের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের চেয়ে ৬ হাজার ৮৩২ হেক্টর বেশি। পাশাপাশি স্থানীয় জাতের চাষ কমেছে গত বছরের চেয়ে ৩ হাজার ৩২১ হেক্টর জমি।

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর