সংবাদ শিরোনামঃ

রংপুরে অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেনে বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা

সোহেল রশীদ, রংপুর
৮ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:৪৫

রংপুরে অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেনে বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা

রংপুর সিটি করপোরেশন ও  সদর উপজেলায় গড়ে উঠেছে প্রায় তিন শতাধিক অনুমোদনহীন কিন্ডারগার্টেন স্কুল। ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে ওঠা এসব কিন্ডারগার্টের কারণে রংপুরের শিক্ষা ব্যবস্থা ব্যাহত হচ্ছে। 

এসব প্রতিষ্ঠান কোনো নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে প্লে গ্রুপ থেকে পঞ্চম শ্রেণি ও তদূর্ধ্ব শ্রেণির শিক্ষার্থীদের থেকে উচ্চহারে বেতন নির্ধারণ করে তা দিতে বাধ্য করা হয় অভিভাবকদের। একেকটি স্কুলে একেক রকম বেতন আদায় করা হয়। সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ট্রেড লাইসেন্স নেয় না তারা। ফলে রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে সরকার। দিনে রাতে হঠাৎ গড়ে উঠা এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের শিক্ষা মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রংপুর সিটি কর্পোরেশন ও সদর উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের মধ্যে হরিদেবপুর ইউনিয়নের পাগলাপীরে কিন্ডারগার্টেন স্কুল ও কলেজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। ইউনয়নের হরিদেবপুর, শিবের বাজার ও পাগলাপীর এলাকায় মোট ৩৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। এছাড়া মমিনপুর ইউনিয়নের সেন্টারের হাট, মমিনপুর হাটসহ কয়েকটি স্থানে প্রায় ৩০টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। খলেয়া ইউনিয়নের খলেয়া, ধনতোলা, ক্লাব এলাকায় ৩০টির মতো কিন্ডারগার্টেন স্কুল চালু রয়েছে। চন্দনপাট ইউনিয়নের চন্দনপাট, লাহরিরহাট এবং সদ্যপুস্করিনি ইউনিয়নের পালিচড়া, সদ্যপুস্করিনি এলাকায় প্রায় ৫৫টি কিন্ডারগার্টেন স্কুল রয়েছে। 

প্রতিটি স্কুলে প্লে গ্রুপ থেকে দশম শ্রেণি পর্যর্ন্ত প্রতিজন ছাত্র/ছাত্রী থেকে ভর্তি ফি নেয়া হয় হাজার টাকার উপর। বেতন নেয়া হয় ৫৫০ টাকা। সেশন ফি ১ হাজার টাকা। মাসিক পরীক্ষার ফি ২০০ টাকা। এছাড়া রয়েছে কোচিং ফিসহ নানা ধরনের ফি। এভাবে আরও কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আরও বেশি হারে এসব ফি নিয়ে থাকে। 

সেলিম মিয়া নামের একজন অভিভাবক জানান, একটি কেজি স্কুলে তার ছেলে পড়ে। প্রথম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর সেশন ফি ধরা হয়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। তিনি এর প্রতিবাদ করলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক তাকে জানান, সবাই দিচ্ছে, আপনাকেও দিতে হবে। এটির কোনো নিয়ম ও নীতিমালা আছে কি-না জানতে চাইলে তিনি তাকে পরে জানাবেন বলে কেটে পড়েন। সলিম জানান, তিনি এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে অভিযোগ করবেন। 

রোকেয়া বেগম নামের একজন অভিভাবক জানান, কিন্ডারগার্টেন স্কুল গুলোর শিক্ষকরা এখনো ছাত্র। ছাত্র পাঠদান করে কীভাবে গুণী/ মেধাবী শিক্ষার্থী বের করবে? ফলে বেহাল শিক্ষা ব্যবস্থা দেখতে হচ্ছে। রংপুর সদরে গড়ে ওঠা কিন্ডারগার্টেন শিক্ষা বাণিজ্য করা প্রতিষ্ঠানগুলোর সাথে মাদরাসা কেন্দ্রিক শত শত কিন্ডারগার্টেন মাদরাসা চালু হয়েছে। 

এ ব্যাপারে সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আকতারুজ্জামান জানান, তাদের কাছ থেকে সদর ও সিটি এলাকা থেকে ২৮১টি কিন্ডারগার্টেন সরকারি বই নিয়েছে। এই বই তারা কীভাবে নেয় জানতে চাইলে তিনি জানান, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী বই থেকে যাতে বঞ্চিত না হয় সে আলোকে তারা বই পেয়ে থাকে। ২০১৯ সালে আরও কয়েকটি নতুন প্রতিষ্ঠান বই নিতে এলে তারা বই দেননি বলে জানান। অনুমোদনহীন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারি বই নিয়ে ছিনিমিনি খেলে। তাদের কোনো নীতিমালা ও সরকারি নিবন্ধন নেই।

রংপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত সাদিয়া সুমি জানান, অনুমোদনহীন এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উপর থেকে নির্দেশ দিলে অচিরেই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই