সংবাদ শিরোনামঃ

‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নিয়ে বিশেষ সম্মেলন

স্টাফ ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৫:২৫ আপডেট: ০৫:৩৪

‘বদ্বীপ পরিকল্পনা-২১০০’ নিয়ে বিশেষ সম্মেলন

বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০ এবং বাংলাদেশের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সম্মেলন আগামী ১১ ও ১২ জানুয়ারি ঢাকার ফার্মগেট এলাকার খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও বাংলাদেশ পরিবেশ নেটওয়ার্ক (বেন) যৌথ উদ্যোগে সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানায়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, বাপার সভাপতি অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সাইয়্যিদ, বাপার সহ-সভাপতি ড. নজরুল ইসলাম, বাপার সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. আব্দুল মতিন, বাপার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল, বেন অস্ট্রেলিয়া শাখার সমন্বয়ক কামরু আহসান খান, বাপার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মৃধা বেনু প্রমুখ।

  
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ কার্যনির্বাহী কমিটি (একনেক) “ বাংলাদেশ বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০” নামে সুদূর প্রসারী পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। জলবায়ূ পরিবর্তনের আলোকে বাংলাদেশের পানি এবং ভূ-সম্পদের উত্তম ব্যবহারের একটি পূর্ণাঙ্গ কর্মকৌশল নির্ধারণ করাই এই পরিকল্পনার উদ্দেশ্য। এই পরিকল্পনার অধীনে গৃহীত বিভিন্ন প্রকল্পে প্রতি বছর দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের ২.৫ শতাংশ ব্যয় করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ২০৩০ সালে এর পরিমাণ দাড়াবে ৩০ বিলিয়ন ডলার। প্রস্তাবিত বিনিয়োগের এই আকার থেকেই পরিকল্পনার আকাঙ্খা ও গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা পাওয়া সম্ভব।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা  বলেন, এমন একটি জনগুরুত্বপূর্ণ জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ঠ বিশাল পরিকল্পনা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নে অগ্রসর হওয়ার আগে তা নিয়ে জাতীয় ভিত্তিতে পর্যাপ্ত আলাপ-আলোচনা হওয়া একান্ত প্রয়োজন।

তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ন এই পরিকল্পনা নিয়ে যে ধরণের যৌথ এবং জাতীয় ভিত্তিক আলোচনা হওয়া দরকার তা এখনো হয়নি। তাই এ ধরণের একটি আলোচনার সুযোগ করে দেয়ার জন্যই প্রস্তাবিত সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্মেলনের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য:

১. সরকার প্রস্তাবিত ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ সম্পর্কে বাংলাদেশের বৃহত্তম জনগোষ্ঠিকে অবহিত করা।

২. ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ প্রণয়নকারীদের এই পরিকল্পনা দেশের পরিবেশ আন্দোলনের সদস্যবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট অন্যদের কাছে তুলে ধরা ও ব্যাখ্যা করার সুযোগ প্রদান করা।

৩. প্রস্তাবিত ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ দলিলের উপর দেশের ও বিদেশের বিশেষজ্ঞদের পর্যালোচনা পরিবেশনের সুযোগ প্রদান।

৪. পরিবেশ আন্দোলনের সদস্যবৃন্দ এবং সমাজের সর্বস্তরের জনগণের প্রতিনিধিদের প্রস্তাবিত ‘বদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০’ দলিলের উপর মতামত ব্যক্ত করার সুযোগ দেয়া।

৫. সকলের আলোচনার মধ্য দিয়ে প্রস্তাবিত বদ্বীপ পরিকল্পনার বিভিন্ন শক্তি এবং দুর্বলতার চিহিৃতকরণ এবং দুর্বলতাসমূহ দূরীকরণের মাধ্যমে আরো উপযোগী ও উন্নত বদ্বীপ পরিকল্পনায় উপনীত হওয়ার সহায়তা প্রদান করা।

বক্তারা বলেন, এই মহাপরিকল্পনা যাতে সঠিক হয়, তা নিশ্চিত করা একটি জাতীয় কর্তব্য বিধায় বাপা-বেনের প্রস্তাবিত সম্মেলন সে কর্তব্য পালনের একটি সুযোগ করে দিচ্ছে। তাই সকলে এই সুযোগ গ্রহন এবং ব্যবহার করে বাংলাদেশের বদ্বীপ প্রকৃতির সুরক্ষা এবং বিকাশের প্রয়াসে এগিয়ে আসবেন বলে আমাদের বিশ্বাস।

‌ব্রে‌কিং‌নিউজ/এএইচএস/জেআই