সংবাদ শিরোনামঃ

নিজের কিডনি বিক্রি করতে গিয়ে বাংলাদেশি গ্রেফতার

ভারত ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০৪:৪৩

নিজের কিডনি বিক্রি করতে গিয়ে বাংলাদেশি গ্রেফতার

অবৈধভাবে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে প্রবেশ করার অভিযোগে এক বাংলাদেশি যুবককে গ্রেফতার করেছে ভারতীয় পুলিশ। ওই বাংলাদেশি যুবকের নাম মোহাম্মদ গণি মিয়া (৩৫)। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গণি মিয়া জানিয়েছেন, তিনি আজমির যাচ্ছিলেন নিজের কিডনি বিক্রি করতে। একই উদ্দেশে আগেও দুবার তিনি ভারতে গেছেন।

ভারতীয় পুলিশ জানিয়েছে, গণি মিয়ার এই ঘটনায় একটি বিষয় সামনে এসেছে, আর তা হলো ভারতে অবৈধভাবে মানব অঙ্গ বেচাকেনার ব্যবসা চলে।

ভারতের রাজস্থান রাজ্যের আজমির দরগা পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক কৈলাস বিশনয় জানিয়েছেন, গণি মিয়া প্রথমবার ২০০৮ সালে অবৈধভাবে ভারতে যান। চেন্নাইয়ে সে সময় চার মাস ছিলেন কিন্তু ভাষাগত কারণে তিনি কিডনি বিক্রি করতে পারেননি।

এরপর চার বছর পর বৈধ ভাবে আবার ভারতে ঢোকেন। তখন আবারও চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে যান কিডনি বিক্রি করতে। কিন্তু হাসপাতালের কর্মী তার অস্ত্রোপচার করতে অস্বীকৃতি জানান। তারা ৩৫ বছর বয়সী এই যুবককে মাদকাসক্ত এবং তার শরীর খুব দুর্বল বলে এ কাজ থেকে বিরত থাকে। 

সে দেশের পুলিশ এখন খাদিম সাঈদ আনোয়ার হোসেন নামের এক ব্যক্তিকে খুঁজছে। গনি মিয়াকে তারাগড়ে ওই লোকের বাড়িতে ঠাই দিয়েছিলো।

পুলিশ কর্মকর্তা কৈলাস বলেন, সর্বশেষ দুই মাস আগে ভারতে ঢুকে আজমিরে পৌঁছান গণি মিয়া। এরপর আবার কিডনি বিক্রির চেষ্টা করেন। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হন। পরে সঙ্গে থাকা মুঠোফোন বিক্রি করেন এবং আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাকে বাসায় রাখার অনুরোধ জানান। এরপর আনোয়ার মাসে তিন হাজার রুপিতে তার বাসায় টুকিটাকি কাজ করার জন্য তার থাকার ব্যবস্থা করেন।

রবিবার (৬ জানুয়ারি) পুলিশ আনোয়ারের বাসায় তল্লাশি চালিয়ে গণিকে গ্রেপ্তার করে। জব্দ করে তার পাসপোর্ট, মোবাইল ফোনের পাঁচটি সিম কার্ড। সিম কার্ডগুলোর চারটি বাংলাদেশি ও একটি পাকিস্তানি। 

ভারতীয় পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বুধবার (৯ জানুয়ারি) তাকে বিচার বিভাগীয় হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর