সংবাদ শিরোনামঃ

গণমাধ্যমের উপস্থাপন ‘ভুল’: নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে আল্লামা শফী

নিউজ ডেস্ক
১২ জানুয়ারি ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ১০:১০ আপডেট: ১০:৪৩

গণমাধ্যমের উপস্থাপন ‘ভুল’: নিজের বক্তব্য প্রসঙ্গে আল্লামা শফী

মেয়েদের পড়াশোনা নিয়ে দেয়া বক্তব্য গণমাধ্যমে ‘ভুলভাবে’ উপস্থাপন করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ এর আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী। একইসঙ্গে তিনি তার বক্তব্যের ব্যাখাও দিয়েছেন।

শনিবার (১২ জানুয়ারি) রাতে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে আল্লামা শফী দাবি করেন, জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মুঈনুল ইসলাম হাটহাজারী মাদ্রাসার ১১৮তম মাহফিল ও দস্তারবন্দি সম্মেলনে দেয়া তার বক্তব্যের একটি খণ্ডাংশ ভুলভাবে গণমাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে।

হাটহাজারী মাদ্রাসার মুখপাত্র মাসিক মুঈনুল ইসলামের নির্বাহী সম্পাদক সরওয়ার কামালের স্বাক্ষরিত ওই বিবৃতিতে আল্লামা শফী বলেন, বক্তব্যে আমি মূলত বলতে চেয়েছি ইসলামের মৌলিক বিধান পর্দার লঙ্ঘন হয়, এমন প্রতিষ্ঠানে নারীদের পড়াশোনা করানো উচিত হবে না। আমাদের মনে রাখতে হবে যে, ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। এখানে শিক্ষা থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পরিচালনাসহ যাবতীয় সব কিছুই রয়েছে। ইসলামে নারীদের শিক্ষার বিষয় উৎসাহিত করা হয়েছে এবং সবাই অবগত যে, উম্মুল মুমিনিন হজরত মা আয়েশা (রা.) ছিলেন একজন প্রসিদ্ধ মুহাদ্দিস। তিনি শিক্ষাগ্রহণ না করলে উম্মত অনেক হাদিস থেকে মাহরুম হয়ে যেত।

পর্দা ইসলামের একটি মৌলিক বিধান উল্লেখ করে বিবৃতিতে তিনি বলেন, নারীদের পর্দার বিষয়ে ইসলামে সুস্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। আমি আমার বক্তব্যে বলতে চেয়েছি, শিক্ষাগ্রহণ করতে গিয়ে যেন পর্দার বিধান লঙ্ঘন করা না হয়। কারণ আমাদের দেশের বেশিরভাগ সাধারণ শিক্ষাকেন্দ্রগুলোতে সহশিক্ষা দেয়া হয়, অর্থাৎ ছেলেমেয়ে একই সঙ্গে শিক্ষাগ্রহণ করে থাকে। এতে করে পর্দার লঙ্ঘন হয়। আমি মূলত এই সহশিক্ষা গ্রহণেই মানুষকে সতর্ক করতে চেয়েছি।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আমাকে নারীবিদ্বেষী ও নারী শিক্ষাবিদ্বেষী বলে প্রচার চালানো হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমে আমার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাচ্ছে। আমি কওমিপন্থী ছয় বোর্ডের নিয়ন্ত্রণকারী হাইয়াতুল উলইয়ালিল জামিয়াতিল কওমিয়ার চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বপালন করছি। আপনারা জানেন যে, ওই ছয় বোর্ডের অধীনে হাজার হাজার নারী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষার সনদ গ্রহণ করে থাকেন। ইতিমধ্যে প্রধানমন্ত্রী আমাদের দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্সের সমমান প্রদান করেছেন। এতে করে আমাদের দেশের লাখো মাদ্রাসাছাত্র ও ছাত্রীরা দাওয়ারে হাদিস পাস করে মাস্টার্সের সমমান অর্জন করছেন। যে সম্মিলিত বোর্ডের অধীনে পরীক্ষা দিয়ে হাজার হাজার নারী রাষ্ট্র স্বীকৃত উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত বলে পরিগণিত হচ্ছে, সেই বোর্ডের প্রধান হয়ে আমি কীভাবে নারী শিক্ষার বিরোধী হলাম তা বোধগম্য নয়।

তিনি বলেন, নারীর জন্য নিরাপদ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয় আমরা আগেও সতর্ক করেছি, এখনো করছি। আমরা চাই নারীরা উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হোক, তবে সেটা অবশ্যই নিরাপদ পরিবেশে এবং ইসলামের মৌলিক বিধানকে লঙ্ঘন না করে। শিক্ষাগ্রহণ অবশ্যই জরুরি, তবে সেটা গ্রহণের জন্য আমরা আমাদের কন্যাদের অনিরাপদ পরিবেশে পাঠাতে পারি না।

এর আগে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল জানান, মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না পাঠাতে এবং পাঠালেও বড়জোর ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর যে পরামর্শ হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফী দিয়েছেন তা তার ‘ব্যক্তিগত অভিমত’। 

শনিবার (১২ জানুয়ারি) সকালে নগরীর চশমা হিলে পৈত্রিক বাড়িতে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

আল্লামা শফীর এই অভিমত যে রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলন ঘটবে এরকম মনে করার কোনও কারণ নেই জানিয়ে নওফেল বলেন, ‘আহমদ শফী ব্যক্তিগত অভিমত দিয়েছেন। দেশের একজন নাগরিক হিসেবে তিনি নিজের বিশ্লেষণ তুলে ধরেছেন।’

আল্লামা শফীর অভিমত বাংলাদেশের রাষ্ট্রনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মনে করেন শিক্ষা উপমন্ত্রী। 

ব্রেকিংনিউজ/এসএসআর/এমআার