সংবাদ শিরোনামঃ

৪৫টি কুমিরের সঙ্গে বসবাস!

রকমারি ডেস্ক
৮ জানুয়ারি ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ১০:২৪

৪৫টি কুমিরের সঙ্গে বসবাস!

স্বামী বিবেকানন্দের ‘জীবে প্রেম করে যে জন সেই জন সেবিছে ঈশ্বর’ এ কথা আমরা সকলেই জানি। কিন্তু জীব প্রেমে উদ্ধুব্ধ হয়ে ৪৫টি কুমিরের সঙ্গে বসবাস করা পাগলামি তো বটেই, দুঃসাহসের ব্যাপার। আর এই কাজটি করছেন আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত, ছোট্ট দেশ বুরুন্ডির অ্যালবার্ট এনগেনদ্রা। 

৫০ বছর বয়সী অ্যালবার্ট এনগেনদ্রা ৪৫টি কুমিরের সঙ্গে বসবাস করেন। তার বাড়ির পিছনের অগভীর পুকুরে থাকে এসব কুমির।  

আফ্রিকা মানেই ঘন জঙ্গল আর হিংস্র সব প্রাণীর জায়গা। বন্যপ্রাণ সংরক্ষণে আফ্রিকার বিশেষ গুরুত্ব আছে। পৃথিবীতে সকলের বসবাসের অধিকার আছে, এই বিশ্বাস তারা মেনে চলেন। তবে সবটাই এত সুন্দর, আলোকময় না। যে কুমির জলের আতঙ্ক, সেই কুমিরই বধ হয়ে চলে যায় খাবারের প্লেটে। শুনতে চমকে গেলেও, এটাই বাস্তব। খিদের পেট অনেক সময়ে ভরে যাচ্ছে কুমিরের মাংসে। জলাশয়গুলোতে চোরাকারবারিদের হানা, নির্বিচারে কুমির নিধন হয় হর-হামেশাই। আর পাঁচজনের মতো অ্যালবার্ট নিজেও কুমিরভোজী ছিলেন। কিন্তু হৃদয়ের সূক্ষ্মতন্ত্রী বিবেকের দংশন টের পাওয়া মাত্রই উলটো পথে হেঁটেছেন। শুরু হয়েছে তার নতুন লড়াই।

বুরুন্ডির রাজধানী বুজুমবুরা শহরে অ্যালবার্টের খামার বাড়িটি খুব বেশি বড় নয়। সামান্য জঙ্গল, ছোট পুকুরে ঘেরা। তার খামারে কুমির দেখে প্রতিবেশীরা প্রথমে ভয় পেতেন, প্রতিবাদও করতেন। কর্ণপাত করেননি অ্যালবার্ট। তার কথায়, ‘আমার মন বদলে যাওয়ার পর আমি বাজার থেকে ১২টা কুমির কিনে আনি। সবাই ভেবেছিল, খাওয়ার জন্য কিনেছি। কিন্তু আমি ওদের লালনপালন করেছি, বংশবৃদ্ধিতে সাহায্য করেছি। সবাইকে এখন বলি, খাবারের প্লেটে ওদের পাওয়ার লোভ সামলান।’

কুমিরের মতো হিংস্র প্রাণি কীভাবে নিজের বাড়িতে রেখে সামলান অ্যালবার্ট? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলছেন, ‘ওরা যতই আমার বশে থাকুক, আসল চরিত্র বদলানো নয়। তাই ঝুঁকি নিয়ে ওদের সঙ্গে খেলতে যাওয়ার বোকামি আমি করি না।’ 

ব্রেকিংনিউজ/জেআই