সংবাদ শিরোনামঃ

১১৯ বছরেও খালি চোখে পত্রিকা পড়েন জোবেদ আলী!

প্রহলাদ মন্ডল সৈকত, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি
৯ জানুয়ারি ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৮:২৮

১১৯ বছরেও খালি চোখে পত্রিকা পড়েন জোবেদ আলী!

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ১১৯ বছরে পা দিলেও এক ব্যক্তি চশমা ছাড়াই খালি চোখে স্বাভাবিকভাবে পত্রিকা পড়াসহ সব ধরনের কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। যে বয়সে তার শেষ সম্বল লাঠি হাতে নিয়ে চলাফেরা করার কথা ঠিক সেই সময়ে সে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করায় এলাকায় মানুষের মাঝে কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

বার্ধক্য তাকে হার মানাতে পারেনি। বাধা সৃষ্টি করতে পারেনি তার কাজকর্মে। তিনি কোনো কাজে মনোনিবেশ করলেই আশ-পাশের মানুষ তাকে এক নজর দেখতে ভিড় করেন। এই মানুষটির নাম মো. জোবেদ আলী। তার জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্ম তারিখ ১৯০০ সালের ২৫ অক্টোবর হলেও তার বয়স হয়তো আরো বেশি হবে।

তিনি উপজেলার রাজারহাট ইউনিয়নের মেকুরটারী তেলীপাড়া গ্রামের মৃত হাসান আলীর পুত্র। তার স্ত্রী ফয়জুন নেছা (৮৭), ৩ পুত্র ও ৪কন্যা, নাতি-নাতনীসহ বহু বন্ধু-বান্ধব ও গুনগ্রাহী রয়েছে।

বুধবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে তার সাথে কথা হলে তিনি জানান, ‘মোর ঠিক বয়স মনে নেই, তবে আইডি কাডত যা আছে তার চেয়ে বেশি হবে।’

ছোটবেলা থেকে যুবক বয়সে তিনি নিজের পুকুরের মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, আবাদি বিতরী ধানের ভাত, খাঁটি ঘি, সরিষার তেল, রাসায়নিক সার বিহীন শাক-সবজি নিয়মিত খেতেন। এই বয়সে তার ছোট খাটো জ্বর-সর্দি ছাড়া বড় ধরনের কোনো রোগ ব্যাধি হয়নি। শরীর এখনও তার ভালো আছে। তিনি একশ বছর আগে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তাই তিনি নিয়মিত পবিত্র কুরআন-মাজিদ, পত্রিকা ও বই পড়তে পারেন। রাতে তিনি কুপি জ্বালিয়ে পবিত্র কোরআন পড়েন।

তিনি আরো বলেন, ‘কোনদিন ফজরের নামাজ আমি ক্বাজা করি নাই এবং ফজরের নামাজের পর কোরআন তেলাওয়াত করি। তাই হয়তো আল্লাহ আমাকে সুস্থ্য রেখেছেন। এজন্য আল্লাহর কাছে লাখো শুকরিয়া।’

এছাড়া পত্রিকা পড়ায় তার এখন প্রধান নেশা বলে জানান জোবেদ আলী।

এ বিষয়ে রাজারহাট ইউপি সদস্য শমশের আলী বলেন, ‘আমি ছোটবেলা থেকেই জোবেদ জ্যাঠোকে এই অবস্থায় দেখে আসছি। এখনো তিনি আগের মতোই চলাফেরা করছেন।’।

ব্রেকিংনিউজ/এনএসএন