পেঁয়াজ আবাদে ব্যস্ত পাবনার কৃষকরা

আরিফ আহমেদ সিদ্দিকী, পাবনা
১৪ ডিসেম্বর ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:২৬ আপডেট: ০১:২৯

পেঁয়াজ আবাদে ব্যস্ত পাবনার কৃষকরা

দেশের মোট পেঁয়াজের এক চতুর্থাংশ যোগান দেয় পাবনার ৯টি উপজেলা। এরই মধ্যে এ মৌসুমের পেঁয়াজ আবাদ ‍শুরু করেছেন কৃষকরা। পার করছেন ব্যস্ত সময়। পেয়াঁজের জন্য বিখ্যাত পাবনায় এ মৌসুমে ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি বিভাগ জানায়, নীবির বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচীর আওতায় চলতি রবি মৌসুমে পাবনার পেঁয়াজ চাষীরা এরই মধ্যে পেঁয়াজের আবাদ শুরু করেছেন। জেলার সুজানগরের বিল গন্ড হস্তী বা গাজনার বিল জুড়েই আবাদ হয় অধিকাংশ পেঁয়াজের। উপজেলাটি পদ্মা-যমুনার তীরবর্তী হওয়ায়, বর্ষা মৌসুমে পানি প্রবেশ করে পলি মাটি পড়ার কারণে জমির উর্বরতা শক্তি বেশি থাকে। ফলে এখানে পেঁয়াজের ফলন খুব ভালো হয়ে থাকে। যে কারণে গাজনার বিলে কৃষকেরা রবি মৌসুমে শুধু পেঁয়াজ আবাদ করে থাকেন।

পাবনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফদরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আজাহার আলী জানান, আকস্মিক পেঁয়াজের অস্থিতিশীল বাজারের কারণে দেশে উৎপাদিত পেঁয়াজে দেশের চাহিদা পূরণের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় তৎপর হয়েছে। সে কারণে দেশে পেঁয়াজের আবাদ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়েছে। 

খাদ্য মন্ত্রণালয়ের চাহিদা অনুসারে, দেশে পেঁয়াজের বার্ষিক চাহিদা রয়েছে প্রায় ২৪ লাখ টন। এর এক চতুর্থাংশের মতো পেঁয়াজের যোগান আসে পাবনা জেলা থেকে। এ কারণে পেঁয়াজ উৎপাদনের ঘাঁটি হিসেবে পাবনাতে পেঁয়াজ আবাদ বৃদ্ধির উপর জোর দেয়া হয়েছে।

চলতি রবি মৌসুমে পাবনা জেলাতে ৪৯ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ আবাদের লক্ষমাত্রা নেয়া হয়েছে। এর ভেতর সুজানগর উপজেলাতেই আবাদ করা হবে ১৮ হাজার ৪০০ হেক্টর। এ ছাড়া সদর উপজেলাতে ৪ হাজার ৪০০, আটঘরিয়া উপজেলাতে ১ হাজার ৭৬০, ঈশ্বরদী উপজেলাতে ৬৩০, চাটমোহর উপজেলাতে ১ হাজার ১০০, ভাঙ্গুড়া উপজেলাতে ৩৮০, ফরিদপুর উপজেলাতে ১ হাজার ৩২০, বেড়া উপজেলাতে ৪ হাজার ৪৬০, সাথিয়া উপজেলাতে ১৬ হাজার ৯৭০ হেক্টর। এ থেকে প্রায় ৭ লাখ টন পেয়াজ উৎপন্ন হবে। 

এরই মধ্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে পেঁয়াজের আবাদ তরান্বিত করার জন্য কৃষকদের সার্বিক সহযোগিতা ও পরামর্শ প্রদান করে যাচ্ছে। 

কৃষিবিদ আজাহার আলী আরও জানান, পাবনা, রাজশাহী ও ফরিদপুর জেলাতে যে পেঁয়াজ উৎপন্ন হয়, তাতে দেশের মোট চাহিদার অর্ধেকের বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে আগামী বছরে পেঁয়াজের ঘাটতি হবে না বলে তিনি আশা করেন।

এ দিকে পাবনা মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনষ্টিটিউটের উর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. ফারুক হোসেন জানান, চলতি রবি মৌসুমে রাজস্ব খাতের আর্থিক সহায়তায় দুইটি উপজেলাতে একশ জন কৃষককে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাটি পরীক্ষা করে সার সুপারিশ মালা দেয়া হয়েছে। এরই মধ্যে পেঁয়াজ আবাদের ঘাঁটি গাজনার বিলে মাটি পরীক্ষা করে কৃষকদের সারের ব্যাপারে সুপারিশ মালা দেয়া হয়েছে। এর ফলে পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এ উপজেলাতে আরও মাটি পরীার প্রয়োজন রয়েছে। অন্য সাতটি উপজেলাতে সরকারী নির্দেশনা ও আর্থিক যোগান না থাকায় পেঁয়াজ আবাদের জন্য সারের ব্যাপারে সুপারিশ মালা দেয়া সম্ভব হয় নাই।

ব্রেকিংনিউজ/এম

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি