জয়পুরহাটে আলু ও বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

জয়পুরহাট প্রতিনিধি
১৩ জানুয়ারি ২০২০, সোমবার
প্রকাশিত: ০৪:৪৩

জয়পুরহাটে আলু ও বীজতলা নিয়ে শঙ্কায় কৃষক

বিরুপ আবহাওয়ায় আলুক্ষেত ও বোরো বীজতলা নিয়ে চরম শঙ্কায় দিন কাটছে জয়পুরহাটের কৃষকদের। বার বার কীটনাশক স্প্রে করেও শঙ্কা কাটছে না তাদের। ঘন কুয়াশার কারণে বোরো বীজতলা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগের দাবি আবহাওয়া ভাল হলে ফসল নিয়ে শঙ্কা কেটে যাবে কৃষকদের।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ বছর আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৩৭ হাজার ৯১৭ হেক্টর। শুরুতে আবহাওয়া অনুকূল থাকায় জেলায় আলু চাষ হচ্ছে ৩৮ হাজার ৩২৫ হেক্টর জমিতে। আর বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে বীজ বপন করা হয়েছে ৩ হাজার ৩৮৫ হেক্টর জমিতে। কিন্তু টানা শৈত্য প্রবাহ, কুয়াশা ও মাঝে মধ্যে বৃষ্টির কারণে বীজতলা ও আলুক্ষেত নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে কৃষকদের। কুয়াশার পাশাপাশি বৃষ্টিতে আলু গাছে নাভিধসা রোগের আক্রমণ হতে পারে এমন আশঙ্কায় বার বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করছেন কৃষকরা।

তাদের দাবি, ক্ষেতে রোগ ধরলে সম্পূর্ণ আলু গাছ নষ্ট হয়ে যাবে। এজন্য সার্বক্ষণিক পরিচর্যা ও বার বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হচ্ছে। দিনে স্প্রে করার পর কুয়াশা এবং বৃষ্টির কারণে গাছ পানিতে ধুয়ে যাচ্ছে। ফলে পরের দিন আবারও স্প্রে করতে হচ্ছে। এরই মধ্যে কেউ কেউ তিন থেকে চার বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করেছেন জমিতে। দিনের বেলায় মাঠের চিত্র দেখলে বোঝা যায়, আলু ক্ষেত নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় আছেন কৃষকরা। মাঠের যেদিকে চোখ যায়, সেদিকেই আলু ক্ষেতে ছত্রাকনাশক স্প্রে করার দৃশ্য। 

আবার ঘন কুয়াশার কারণে জেলার অধিকাংশ বীজতলা হলুদ বর্ণ হয়ে গেছে। কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে অনেক কৃষক বীজতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকেও দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও শেষ রক্ষা হচ্ছে না। এরই মধ্যে কেউ কেউ আগের জমিতেই নতুন করে বীজ বপন করে বীজতলা ভাল করার চেষ্টা করছেন।

জয়পুরহাট পৌরসভার পাঁচুরচক মহল্লার কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন,‘দুই হাজার টাকা খরচ করে বীজ বপন করার পর প্রচণ্ড কুয়াশায় তার বীজতলা নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি নতুন করে আবারও বীজ বপন করে শীত থেকে বীজতলা রক্ষার চেষ্টা করছেন। সদর উপজেলার বানিয়াপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন বলেন,‘বীজতলা নষ্ট হওয়ায় হয়তো দেড় থেকে দুহাজার টাকা ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু অর্থের চেয়ে সময় ক্ষতি হচ্ছে বেশি। বীজতলা নষ্ট হওয়ার কারণে সময় মত বোরো ধান রোপন করা যাবে না। এতে তাদের বেশি ক্ষতি হবে। একই এলাকার কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন,‘জমি প্রস্তুত করেও আবহাওয়ার কারণে হীরা সুগন্ধি ধানের বীজ বপন করতে সাহস পাচ্ছি না’।

জয়পুরহাট সদর উপজেলার সরদার পাড়া গ্রামের কৃষক ওয়াদুদ সরদার বলেন,‘লাভের আশায় বিঘাপ্রতি ১৫ হাজার টাকা খরচ করে প্রায় ৩৫ দিন আগে ৫বিঘা জমিতে অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপন করেছেন। আলু গাছও খুব ভাল হয়েছে। কিন্তু গত এক সপ্তাহ থেকে বৈরি আবহাওয়ার কারণে আলু ক্ষেত নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় আছি। কয়েকদিন থেকে সুর্য্যের দেখা নেই। প্রচন্ড শীত,ঘন কুয়াশা আর মাঝে মধ্যে বৃষ্টির হানা। এ পর্যন্ত দুই হাজার টাকা খরচ করে ক্ষেতে দু’বার ছত্রাকনাশক স্প্রে করেছি। জানিনা ভাগ্যে কি আছে। একই গ্রামের কৃষক দুলাল মিয়া বলেন,‘ক্ষেতে এখনও রোগ দেখা দেয়নি। তবে যদি রোগ ধরে তাহলে ফসল বাঁচানোর সুযোগ থাকে না। এ ধরণের আবহাওয়ায় আলুক্ষেতে সাধারণত নাভিধসা রোগ হয়। তিনি বলেন,সাড়ে তিন বিঘা জমিতে প্যাকরি ও অ্যাস্টেরিক জাতের আলু রোপন করতে তার খরচ হয়েছে প্রায় ৩০ হাজার টাকা।  

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা বাবলু কুমার সুত্রধর বলেন,শীতের কারণে বীজতলা ও আলুক্ষেতের ক্ষতির আশঙ্কায় কৃষকরা শঙ্কিত হলেও এখন পর্যন্ত ফসল ভাল আছে। বৈরি এই আবহাওয়ার মধ্যে কৃষকদের করণীয় বিষয়ে লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি নানা পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। আশা করছি আবহাওয়ার বৈরিভাব কেটে গেলে জেলায় এবার বোরো ও আলুর বাম্পার ফলন হবে। 

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি