সবুজের বুকে হলুদের আভা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
৩ মার্চ ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:১২ আপডেট: ০৩:৪৯

সবুজের বুকে হলুদের আভা

খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়ক দিয়ে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার পথ পার হয়ে কিছুটা এগোলেই ১৮ মাইল সড়ক। ওই সড়ক ধরে এগিয়ে জাতপুর যেতেই দেখা মেলে দিগন্তজোড়া নানা ধরনের সবজির খেত। সেখান থেকে কিছুটা পথ হেঁটেই বাঁধাকপি ও ফুলকপির মধ্যে মৌরির হলুদ রঙের আভায় চোখ আটকে যায় সবার। যেন সবুজের বুকে হলুদের আভা।

খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় এলাকায় বাঁধাকপি, ফুলকপি ও অন্যান্য ফসলের সাথী ফসল হিসেবে মৌরির চাষ করেছেন কৃষকেরা। মৌরি চাষাবাদে বীজের খরচ ছাড়া অন্য খরচ হয় না। অন্যদিকে স্বল্প সময়ে অধিক আয় করা সম্ভাব হওয়ায় মসলা জাতীয় এ ফসল চাষাবাদ দিন-দিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠছে এসব এলাকার কৃষকের কাছে। এই গাছের পাতা, বীজ, কন্দ, শিকড় কোনো কিছুই ফেলনা নয়।

মৌরির আরও অনেক নাম রয়েছে অঞ্চলভেদে। কোথায় গুয়ামুরি, কোথাও মহুরি নামে পরিচিত। এর গাছ দুই থেকে পাঁচ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। ফুল দেখতে অনেকটা খোলা ছাতার মতো। সাধারণত ফুলের রঙ হলুদ আর সাদা হয়ে থাকে। পাতাগুলো চিরল, মসৃণ এবং পাখির পালকের মতো হয়।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে, সকল প্রকার মাটিতে এর চাষাবাদ সম্ভব। তবে বেলে দো-আঁশ মাটি হলে ফলন ভালো হয়। একর প্রতি কমপক্ষে ৩০০ কেজি থেকে ৬০০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এলাকাভেদে প্রতি কেজি কমপক্ষে ৭০০ টাকা থেকে হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যায়। মৌরির বীজ বপণের উপযুক্ত সময় আশ্বিন থেকে কার্তিক মাস পর্যন্ত। এই সময় একর প্রতি চার থেকে সাড়ে চার কেজি বীজ ৪-৫ ঘন্টা পানিতে ভিজিয়ে রেখে সারিতে (৪৫ সেন্টিমিটার দূরত্বে) অথবা ছিটিয়ে বোনা যায়। ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রায় ২৫ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের মৌরি চাষাবাদ হয়েছে। আর ক্ষেতের সংখ্যা রয়েছে প্রায় ২০০টি। ভাল ফলনের জন্য এস ৭, এস ৮, এস ৯, বারি ১ ও ২, পিএফ ৩৫, কো ১ এবং গুজরাট জাতের মৌরি চাষাবাদ হচ্ছে এসব এলাকায়।

ডুমুরিয়া ঘোনা ইউনিয়নের আরশনগরের কৃষক ইয়াসিন মোড়ল জানান, আমি সাত বিঘা জমিতে মৌরি চাষ করেছি। বাঁধাকপি ও ফুলকপির সাথী ফসল হিসেবে মৌরি চাষাবাদ করায় খরচ নেই বললেই চলে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে মহাজনেরা মৌরি কিনতে ক্ষেতে আসছে। সপ্তাহ খানকের মধ্যে মৌরি বিক্রি হয়ে যাবে আশা করছেন তিনি।

অপর কৃষক আরমান আলী বলেন, জমির কার্যকারিতা বাড়ানোর জন্য এলোমেলো ব্লক নকশা ব্যবহার করে শীতকালীন সবজির সাথী ফসল হিসেবে মৌরি চাষ লাভজনক। তাছাড়া মৌরির উৎপাদন খরচ যেমন কম তেমনি লাভও বেশি। বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৮ মণ মৌরি উৎপাদন হয়। যার বাজারমূল্য মণ প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।

বরাতিয়া ব্লকের উপসহকারি কৃষি কর্মকর্তা মো. ইখতেহার হোসেন জানান, বর্তমানে মৌরির কন্দ ইউরোপে সর্বাধিক জনপ্রিয়। মৌরির ফল বা বীজ মসলা হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বিভিন্ন ধরনের মাছ-মাংস, আচার, পিঠা ও নানান রকমের মিষ্টি খাবারে মৌরি ব্যবহৃত হয়। পান মসলা হিসেবেও খুব জনপ্রিয়।

ডুমুরিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোছাদ্দেক হোসেন বলেন, উপজেলায় দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মৌরি চাষ। বহুল পরিচিত সুগন্ধযুক্ত উচ্চমূল্যের মশলাদার ফসল মৌরি দৈনন্দিন রান্নার অনেকখানি জুড়ে আছে। পাঁচ ফোঁড়নের এক ফোঁড়ন মৌরি। বহুগুণে গুণান্বিত এই মসলা। এতে প্রচুর পরিমাণে ঔষধি গুণও বিদ্যমান। ডুমুরিয়ার কৃষকরা উচ্চ চাহিদা ও ভালো বাজার মূল্যের জন্য মৌরি চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। তাদের ক্ষেত ভরে এখন মৌরি ফুলের দৃষ্টিনন্দন দৃশ্য আর ঘ্রাণ বাতাসে ভাসছে।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পঙ্কজ কান্তি মজুমদার জানান, মৌরিতে প্রচুর পরিমাণে ওষধি গুণ রয়েছে। খনিজ লবণ সমৃদ্ধ বীজ মৌরি, ওষধি এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর। এতে সোডিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, সেলেনিয়াম, কপার, জিঙ্ক, তামা, ভিটামিন এ, সি, ই ও ভিটামিন বি প্রচুর পরিমাণে আছে। এতে আরও আছে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ফ্ল্যাভনয়েড। মৌরি আঁশ সমৃদ্ধ হওয়ায় বিভিন্ন রোগের পথ্য হিসেবে ব্যবহার হয়ে থাকে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি