সবজি চাষে অনুকরণীয় কৃষক আবুল কাশেম

মাজহারুল করিম অভি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
১২ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ১১:২৩ আপডেট: ১১:৩৪

সবজি চাষে অনুকরণীয় কৃষক আবুল কাশেম

বিভিন্ন সবজি চাষে সফল হয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রামরাইল গ্রামের আবুল কাশেম। খুব ছোট বয়স থেকে নিজ এলাকায় বিভিন্ন সবজি চাষে বিপ্লব ঘটিয়ে অনুকরনীয় দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছেন তিনি। বিভিন্ন ধরনের সবজি টমেটো, লাউ, বরবটি, ফুল কপি, বাধা কপি, আলু, শিম, চাষ করে অল্প সময়েই নিজের ভাগ্য ফিরিয়েছেন তিনি।

আবুল কাশেদ তার নিজের জমিতে উৎপাদিত সবজি টমেটো, লাউ, বরবটি, আলু, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাসহ বাহিরে রফতানি করে এখন তিনি স্ববলম্বী। তার উৎপাদিত বিভিন্ন শাক সবজি গুনগত মান ভাল বিষ মুক্ত হওয়ায় জমি থেকেই টমেটো, লাউ, কাচা মরিচ, বেগুন, মিষ্টি কুমড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সকল স্থানে পাঠাচ্ছেন। সদর উপজেলার উপজেলার রামরাইল গ্রামের কৃষক মো. আবুল কাশেম কঠোর পরিশ্রম আর সাধনার বিনিময়ে তৈরি করে ভাগ্য বদল করেছেন তিনি। সেখানে সাথী ফসলের আবাদ করে পেয়েছেন আশাতীত সাফল্য। স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে সাড়া জাগিয়েছেন এই উদ্যমী কৃষক। এলাকায় নতুন উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। তার এই সফলতার কৃষি বিপ্লব ঘটেছে রামরাইল গ্রামে।

সদর উপজেলার রামরাইল রামরাইল গ্রামের মো. আবুল কাশেম একজন প্রকৃত কৃষক পরিবারের সন্তান। লেখাপড়া করেছেন ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত। পরে পরিবারিক সমস্যার কারণে সে প্রায় ১০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় চলে যান। কিন্তু বিদেশেও অসাফল্যতার কারণে আবার ফিরে আসেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া। পৈত্রিক জমিজমা বলতে বেশি একটা ছিল না। বিদেশ থেকে ফিরে এসে পৈত্রিক সম্বল ২ বিঘা জমিই ছিল তার একমাত্র সম্বল। জীবনের প্রথম দিকে সনাতন আবাদে এই জমিগুলো থেকে তেমন একটা লাভবান হতেন না তিনি। তবে ১৯৯৪ সালে জমিতে বিভিন্ন প্রজাতির সবজি আবাদ করে আশাতীত সাফল্য পান। পেয়ে যান নতুন পথের সন্ধান।

তারপর থেকেই কৃষক আবুল কাশেম বিভিন্ন ফলনে আশাতীত সাফল্য পেয়ে কৃষি বিভাগের সহযোগীতা ও পরামর্শ নিয়ে রামরাইল গ্রামে শুরু করেন সবজির আবাদ। এখন বর্তমানে ৪৫ শতক জমিতে বেগুন চাষ করে প্রায় দেড় লাখ টাকা বিক্রি করেছেন। বাকি বেগুন প্রায় ১ লাখ টাকা বিক্রি হবে। পৌষ ও মাঘ মাসে আবাদ করা হয় টমেটো। ফাল্গুন থেকে বৈশাখ পর্যন্ত ফসল পাওয়া যায়।

সেই সাথে টমেটো, লাউ, বেগুন, কাচামরিচ, ধনিয়াপাতা, মিষ্টিকুমড়া সহ নানা প্রজাতির সবজি এলাকার চাহিদা মিটিয়ে নেয়া হচ্ছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার প্রত্যাঞ্চলে। পাইকাররা জমি থেকেই ক্রয় করে নিয়ে যাচ্ছে এসব সবজি। এই ফসল পাওয়া যায় বৈশাখ থেকে আষাঢ় মাস পর্যন্ত। 

কৃষক আবুল কাশেম জানান, শুনেছি কৃষি কাজের জন্য সরকার কর্তৃক নানন ঋণ দিয়ে থাকে। কিন্তু আমি সব কিছু না বুঝার কারণে ঋণ আনতে পারিনি। তবে আমার জমির চাষাবাদে কখন ঋণ প্রয়োজন পড়েনি। তাই গ্রামের অনেক লোক চাষাবাদে আমার কাছে পরামর্শ নিতে আসে। আমার এখানে যারা কাজ করে তারাও নিজেদের জমিতে ভাল সবজি আবাদ করছেন। কৃষির আয় থেকে আবুল কাশেম তার সন্তানদের  লেখাপড়া করিয়েছেন।

তার ৪ সন্তানের মধ্যে বড় মেয়েকে দাখিল পাস করিয়ে বিয়ে দিয়েছেন এবং ছোট দুটো মেয়ে ও একটি ছেলে লেখাপড়া করছে। এই আয়ের বাবার তৈরি দালানগুলোও সংস্কার করে আরো পরিপাটি করেছেন। তার এই সফলতায় গ্রামের আনো অনেকেই কৃষি জমি গড়ে তুলেছেন। এছাড়া রামরাইল গ্রামে যোগযোগ ব্যবস্থা ভাল থাকায় তার কৃষি জমি থেকে উৎপাদিত ফসল কিনতে পাইকরারা ট্রাত নিয়ে আসেন আবুল কাশেমের কাছে।

এ ছাড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের নিকট কী রকম সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে এ প্রশ্নে তিনি আবুল কাশে বলেন, প্রথম অবস্থায় কিছু সার প্রদান করেছিলেন কিন্তু এখন আর খবর নেই। 

এদিকে কথা হয় ফজর রহমানের চাচাতো ভাই আয়ুব মিয়ার সাথে তারা জানানয়, আবুল কাশেমের জমিতে যারা কাজ করে তারা ভাল পারিশ্রমিক পায়। প্রথম অবস্থায় আবুল কাশেমের অবস্থায় খারাপ থাকলেও এখন তার অবস্থা খুবই ভাল তাকে অনুকরণ করে গ্রামের অন্যান্য যুবকরা কৃষি কাজে করতে আগ্রহী হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি