হালদায় আবারও ডিম ছেড়েছে মা-মাছ

মনির ফয়সাল, চট্টগ্রাম
২০ জুন ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০৮:৪২ আপডেট: ০৮:৪৪

হালদায় আবারও ডিম ছেড়েছে মা-মাছ

দক্ষিণ এশিয়ায় রুই জাতীয় মাছের একমাত্র প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীতে এক মাসের ব্যবধানে আবারও ডিম ছেড়েছে মা মাছ। শুক্রবার ভোরে হালদা নদীর বারইঘোনা ও ছায়ারচর নামক এলাকায় এ ডিম ছাড়া হয় বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। হালদা নদীর অংকুরিঘোনা থেকে রামদাস মুন্সিরহাট পর্যন্ত কয়েক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ডিম ছাড়ে মা-মাছ। তবে ডিম পাওয়ার পরিমাণ স্বাভাবিকের চেয়ে কম বলে ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবীরা জানিয়েছেন।

হালদা নদীর অভিজ্ঞ ডিম সংগ্রহকারী মৎস্যজীবী হাটহাজারী উপজেলার রামদাশ মুন্সির হাট এলাকার মো. ইলিয়াস জানান, এক সময় হালদা নদীতে মা-মাছ দফায় দফায় তিনবার পর্যন্ত ডিম ছাড়ত। তবে জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে এখন আর এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় না। এছাড়া ওই সময় দ্বিতীয়বার মা-মাছ ডিম ছাড়লে তার পরিমাণ সন্তোষজনক ছিল, যা এবারের তুলানায় তুলনামূলক বেশি ছিল। যদিও এক মাস আগে চলতি বছরের গত ২২ মে হালদা নদী থেকে রেকর্ডসংখ্যক ২৫ হাজার ৫৩৬ কেজি ডিম সংগ্রহ করা হয়। যা গত ১৪ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। 

জানা গেছে, শুক্রবার ৬টার দিকে মা-মাছ নমুনা দিলেও গভীর রাতে ডিম ছাড়ে। তবে তখন নদীতে ১০০-১১০টি নৌকায় জাল ও ডিম সংগ্রহের সরঞ্জাম নিয়ে কয়েক শতাধিক মৎস্যজীবী মা-মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করে। ডিমসংগ্রহকারীরা হালদা নদীর নাফিতের ঘাট, আমতুয়া, রামদাশ মুন্সির হাট ও আজিমের ঘাট এলাকায় ডিম সংগ্রহ করেছে। এ সময় মদুনাঘাট এলাকার হারেস নামে এক মৎস্যজীবী সাড়ে ৩ বালতি (প্রতি বালতি ওজন ১০ লিটার) ডিম সংগ্রহ করেছে। এরমধ্যে অনেক ডিম সংগ্রহকারী শূন্য হাতেও ফিরতে দেখা গেছে। যদিও নদীতে ডিম সংগ্রহকারীর সংখ্যা অনেকাংশে কম ছিল।  

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা লাভলি আক্তার জানান, হালদায় শেষ রাতে মা মাছ ডিম ছেড়েছে। এটা অনেকটা নমুনা ডিমের মতো। তবে জোয়ারের সময় মৎস্যজীবীরা ডিম সংগ্রহ করতে পারেনি। তবে ভাটার সময় বেশ কয়েকজন ডিম সংগ্রহ মৎস্যজীবী মা-মাছের নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছে। তবে ডিম সংগ্রহরে পরিমাণ অনেকটা কম। হয়তো ১৫০-১৮০ কেজির মত ডিম সংগ্রহ করতে পেরেছে। 

এদিকে রাতভর নদীতে অবস্থান করা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ও হালদা গবেষক ড. মঞ্জুরুল কিবরিয়া জানান, নদীতে মা-মাছ সর্বশেষ ২০১৫ সালে দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছিল। এভাবে দ্বিতীয়বার ডিম দেওয়াটা আশাব্যঞ্জক ঘটনা। এটা হয়েছে কারণ আমরা ধারণা করছি হালদাতে মা মাছের স্টক বেড়েছে। অনেক মা-মাছ বাকিদের চেয়ে দেরিতে পরিপক্ক (ম্যাচিউরড) হয়েছে। ফলে তারা পরে ডিম ছেড়েছে। এরমধ্যে এছাড়া নদীতে দুষণের পরিমাণ কমে আসায় মা-মাছ হয়তো দ্বিতীয় দফায় ডিম ছেড়েছে।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি