ফসলের পোকা দমনে ‘আলোক ফাঁদ’

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, খুলনা
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৩:৫৪

ফসলের পোকা দমনে ‘আলোক ফাঁদ’

খুলনার ৯টি উপজেলায় ধানক্ষেতে কীটনাশক ব্যবহার না করে আলোর ফাঁদ পেতে ক্ষতিকর পোকা দমন করা হচ্ছে। আমনের ক্ষেত সুরক্ষায় আলোক ফাঁদ প্রযুক্তির ব্যবহারও জনপ্রিয় হচ্ছে। ফসলের জমিতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও তা দমন করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রোপা আমন মৌসুমে সচেতনতার অভাবে অনেক কৃষক জমিতে ক্ষতিকর পোকা আক্রমণ করার আগেই কীটনাশক প্রয়োগ করে থাকেন। এতে ফসলের জমির উপকারি অনেক পোকা মারা যায়। পরিবেশ দূষণসহ ধান উৎপাদনে কৃষকেরাও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। আলোকফাঁদ ব্যবহার করে ক্ষতিকর পোকার উপস্থিতি নির্ণয়ের পর কীটনাশক প্রয়োগ করতে এই প্রযুক্তি ব্যবহারে কৃষকদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। এতে কৃষকের অপ্রয়োজনীয় কীটনাশক ব্যবহার কমছে, আর ফসল থাকছে অনেকটা বিষমুক্ত।

খুলনার দাকোপ উপজেলার তিলডাঙা গ্রামের কৃষক মিঠু গাইন বলেন, ‘আগে টাকা খরচ করে কীটনাশক কিনে ধানের পোকা মেরেছি। কিন্তু এখন আর টাকা খরচ করা লাগে না। আলো জ্বালালে পোকা মরে।’ এই পদ্ধতিতে বিষমুক্ত ফসল উৎপাদন করা সম্ভব।

একই উপজেলার পানখালী ব্লকের চাষি সাগর হালদার জানান, তিনি ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছেন। পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা পেতে আলোকফাঁদ প্রযুক্তি ব্যবহার করেন। তার ক্ষেতে বাদামি ঘাসফড়িং ও পাতা মোড়ানো পোকার উপস্থিতি দেখা গেছে। সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ক্ষেতে কোন ধরনের পোকা আছে, তা শনাক্ত করার একটি কার্যকর প্রযুক্তি বলে দাবি করেন তিনি।

খুলনার রূপসা উপজেলার আলাইপুর গ্রামের কৃষক মো. আবুল হাসান শেখ বলেন, আলোকফাঁদ পেতে ক্ষেতে সবুজ ঘাসফড়িং ও মাজরা পোকা লক্ষ্য করা গেছে। ফসলে কী ধরনের পোকার উপস্থিতি বা আক্রমণ ঘটছে, তা জানতে এই প্রযুক্তি খুবই কার্যকর। 

তিনি আরও বলেন, আলোকফাঁদ এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয় উঠছে। এর ব্যবহার আরও বাড়লে কৃষক উপকৃত হবে।

রূপসা উপজেলার আলাইপুর ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আবদুর রহমান জানান, আলোক ফাঁদে উপকারী পোকার মধ্যে ড্যামসেল ফ্লাই ও মাকড়সা এবং ক্ষতিকর পোকার মধ্যে মাজরা পোকা ও সবুজ পাতা ফড়িং এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ধানের উপকারী পোকা সংরক্ষণ এবং ক্ষতিকর পোকা দমনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

রূপসা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদুজ্জামান বলেন, ক্ষতিকর পোকামাকড় বিশেষ করে বিপিএইচ বা কারেন্ট পোকা যাতে আমন ধানের ক্ষতি করতে না পারে সেজন্যই এ উপজেলার ১৫টি ব্লকে আলোক ফাঁদ স্থাপনের এ কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে। এতে চাষিরা নিজেরাই ক্ষতিকর ও উপকারী পোকা শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে সক্ষম হবেন। আলোক ফাঁদ প্রযুক্তি একটি পরিবেশ বান্ধব ও অর্থ সাশ্রয়ী পদ্ধতি।

খুলনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ফসলের জমিতে পোকার উপস্থিতি নির্ণয় করার জন্য আলোক ফাঁদ দেওয়া হয়। বিভিন্ন ধরনের পোকা ফসলের ক্ষতি করে থাকে। সেগুলো চিহ্নিত করে তা থেকে কিভাবে ফসলকে রক্ষা করবে আমরা সে পরামর্শ কৃষকদের দিয়ে যাচ্ছি বলে জানান তিনি৷

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

bnbd-ads
breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি