মৎস্য চাষিদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, রাজশাহী
১ অক্টোবর ২০২০, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৭:৫৯

মৎস্য চাষিদের ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা

রাজশাহী থেকে বছরে প্রায় ১৭০০ কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়। দেশে তাজা মাছের বিক্রির প্রচলন রাজশাহী থেকেই শুরু হয়। করোনা ভাইরাস সংকটে অনেকটা ভাটা পড়ে যায় বেচাকেনা। এখন লকডাউনের লোকসান কাটিয়ে অর্থনৈতিকভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন জেলার মৎস্যজীবীরা। লকডাউনের সময় দাম কমে যাওয়ায় ও ঢাকায় সরবরাহ করার সুযোগ কমে যাওয়ায় মাছ বিক্রি করতে পারেনি চাষিরা। 

লকডাউন তুলে নেওয়ার পর আবারো পুরোদমে শুরু হয়েছে মাছ বিক্রি। দাম কিছুটা কম হলেও মাছ বিক্রি হচ্ছে। প্রতিদিন ১৪০ ট্রাক কার্প জাতীয় তাজা মাছ ঢাকায় যাচ্ছে রাজশাহী থেকে। তবে গত কয়েকদিন আগে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে একদিনেই রাজশাহীতে মারা গেছে ১২ কোটি টাকার মাছ। এতে বেশ কিছু মৎস্যচাষি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বাণিজ্যিকভাবে মাছচাষি সোহরাব আলী বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে মাছের দাম এখনো পূর্বের মতো স্বাভাবিক হয়নি। কেজি প্রতি ৪০/৫০ টাকা কমে মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে। এছাড়া মাছের খাবারের দামও বেশি। তবে লকডাউনের পর যেহেতু পুরোদমে মাছ বিক্রি শুরু হয়েছে, আশা করছি আবার পূর্বের মতো মাছের দাম স্বাভাবিক হবে।
 
রাজশাহী মৎস্য অধিদপ্তর জানায়, জেলায় ১৩ হাজার হেক্টর জমিতে মোট ৫০ হাজার পুকুর রয়েছে। এসব পুকুরে প্রতিবছর গড়ে ৮১ হাজার মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয় যাদের ৮৫ শতাংশ কার্প জাতীয় মাছ। দেশের মধ্যে কার্পজাতীয় মাছ উৎপাদনে শীর্ষে রাজশাহী। রাজশাহীর চাহিদা পূরণ করে প্রতিদিন গড়ে ১৪০ ট্রাক তাজা মাছ ঢাকায় সরবরাহ করা। এক একটি ট্রাকে ৭০০ থেকে ৮০০ কেজি মাছ ধরে। মোট মৎস্যচাষি ১৭ হাজার হলেও মৎস্য উৎপাদন, চাষবাস ও বিপণন-বিক্রয়ের সাথে রাজশাহীর প্রায় ৯ লাখ মানুষ জড়িত। বছরে প্রায় ১ হাজার ৬২০ কোটি টাকার মাছ কেনাবেচা হয়।
 
রাজশাহীর পবার বাগধানী এলাকার মৎস্যচাষি শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনের সময় দাম কম থাকায় আমরা মাছ বিক্রি করতে পারিনি। লকডাউন তুলে নেওয়ার পর গত মাসে ১৭ লাখ টাকার মতো মাছ বিক্রি করেছি। আমার ৫৫ বিঘা জমিতে সাতটা পুকুরে আরো প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকার মাছ রয়েছে।’

পবার নওহাটার মৎস্যচাষি সাদিকুল ইসলাম জানান, লকডাউন তুলে নেওয়ার পর গড়ে মাসে আট থেকে দশ ট্রাক মাছ বিক্রি করছি। করোনা ভাইরাসের পূর্বে ফেব্রুয়ারি মাসে দুই কেজি ওজনের যে রুই মাছ বিক্রি করেছি ৩২০ টাকা কেজি দরে এখন সেসব রুই মাছ বিক্রি করতে হচ্ছে ২৭০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ কেজিতে এখনো ৪০ থেকে ৫০ টাকা দাম কমে বিক্রি করতে হচ্ছে।

দুর্গাপুরের আবু হানিফ সর্দারের ৩৫টি পুকুর রয়েছে। গত কয়েকদিনে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে তার পাঁচটি পুকুরের মাছ মারা গেলেও লকডাউনের পর থেকে তিনি ৩০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেছেন। আরো কোটি কোটি টাকার মাছ বিক্রির উপযোগী আছে বলে জানান তিনি। কয়েকদিনের মধ্যে সেসব মাছ বিক্রি করা হলে বলে জানান তিনি।

বাগমারা উপজেলার ঝিকরা গ্রামের মৎস্যচাষি আফজাল হোসেন জানান, করোনার কারণে মাছের দাম কমে যাওয়ায় এমনিতেই আমরা মাছ বিক্রি করতে পারিনি। লকডাউনের পর অবস্থার কিছুটা উন্নতি হওয়ার কারণে আমরা মাছ বিক্রি শুরু করেছিলাম। আমার পুকুরের সব মাছ বিক্রির উপযোগী হয়েছিলো। ধারণা করছিলাম প্রায় ২০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হবে। কিন্তুগত কয়েকদিন আগে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতির কারণে আমার পুকুরের প্রচুর মাছ মারা গেছে।

বাগমারার শ্রীপুর গ্রামের মৎস্যচাষি আনিসুর রহমান জানান, লকডাউনের পর চারটি পুকুরের মাছ বিক্রি করেছি। প্রায় দশ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করা হয়েছে এ পর্যন্ত। পুকুরের আরো বিক্রির উপযোগী মাছ রয়েছে। বাজার পরিস্থিতি আরো স্বাভাবিক হলে তখন মাছগুলো বিক্রি করা হবে।

রাজশাহীর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অলক কুমার সাহা জানান, রাজশাহীতে খামারি, নার্সারি ও হ্যাচারী তিনটি পর্যায়ে মৎস্য চাষ করা হয়। করোনা ভাইরাসের কারণে মৎস্য খাতের তিনটি পর্যায়ে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আমরা ক্ষতির তালিকা মৎস্য অধিদপ্তরে পাঠিয়েছি। এখন পর্যন্ত সরকারি কোনো প্রণোদনা আসেনি। তবে কৃষিখাতের ৪ শতাংশ হার সুদে প্রণোদনার প্যাকেজ অনেক মৎস্যচাষি পেয়েছেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি