আজ বেগম রোকেয়া দিবস

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
৯ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:৪৩ আপডেট: ০৯:৪৯

breakingnews

আজ ৯ ডিসেম্বর বেগম রোকেয়া দিবস। নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের ১৩৮ তম জন্ম ও ৮৬তম মৃত্যু দিন। নারী সমাজকে আঁধারের জগৎ থেকে আলোর পথে এনেছিলেন তিনি। কিন্তু সরকারের অবহেলার কারণে রোকেয়ার আতুর ঘর রংপুরের পায়রাবন্দে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি আজও মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি।

শুধু তাই নয় রোকেয়ার দেহবাশেষ নিয়ে আসার দাবি এলাকাবাসীর। তাই ১১ বছর আগে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল সংশিষ্ট মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু ওই প্রস্তাব আজও আলোর মুখ দেখেনি। 

বেগম রোকেয়ার বসতভিটা এখনো অন্যের মালিকানায়। গত দুই বছর আগে সরকারের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী অবশেষে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ওই বসতভিটা তাদের আওতায় নিয়ে একটি সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে তাদের দায় সেরেছে মাত্র। বিন্তু জমির মালিকানা এখনও অন্যের দখলে। তা উদ্ধারের জন্য কয়েকযুগ পেরিয়ে গেলেও আজও কোন সরকারি উদ্যোগ নেয়া হয়নি। তাই সেখানে সরকারি কিংবা বেসরকারিভাবে কোন ন্থাপনা নির্মাণ বা সংরক্ষণ করা যাচ্ছে না। এর ফলে অনেক আগেই অভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে থাকা ওই বাড়ির প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনগুলো হারিয়ে গেছে। ইট আর কারুকাজ করা নির্দশনগুলো চুরি হয়ে গেছে। ইতিহাসের সাক্ষী বাড়ির দেয়াল সিড়ি মসজিদের অংশ এগুলো সংরক্ষণের জন্য এখনও প্রত্বতত্ত্ব বিভাগ কোন উদ্যোগ নেয়নি। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কেউ কোন তথ্য জানাতে পারেননি। প্রত্নতত্ত্ববিদদেরে মতে এই ইতিহাস ধরে রাখার জন্য এখনই সরকারি উদ্যোগ নেয়া জরুরি। 

রংপুর রেজিস্ট্রারি অফিসে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বেগম রোকেয়ার ভাই মছিউজ্জমান আবুল ওছামা ছাবের ১৯৬৮ সালের ২ অক্টোবর নারী কল্যান সংস্থার রংপুর নেত্রী মিসেস নাইম ও সাহিদা হোসেনের নামে ওই বসতভিটার দলিল সম্পাদন করে দেন। তারা সেখানে বেগম রোকেয়ার নামে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করার নাম করে জমি দলিল করে নেন বলে দলিলে উল্লেখ রয়েছে। রংপুর নারীকল্যাণ সংস্থার প্রতিনিধি হিসেবে তারা ওই সম্পত্তির দাবিদার। কিন্তু প্রায় ৫০ বছর পেরিয়ে গেছে আজও সেখানে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়নি। খোঁজ নিয়ে রংপুর সংস্থার কোন অফিসে কিংবা তার প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি। 

যারা পায়রাবন্দ ও বেগম রোকেয়া নিয়ে গবেষণা করছেন এবং লেখালেখি করছে তারাও জানিয়েছেন, গত কয়েক দশকে তারা এই নামে রংপুরে কোন সংস্থার অস্তিত্ব খুঁজে পাননি। জেলা প্রশাসনও এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। বেগম রোকেয়ার ভাতুস্পুত্রী রঞ্জিনা সাবের চান বেগম রোকেয়ার বসতভিটা সরকারের মালিকানায় নেয়া হোক এবং ওই বসতভিটা “হেরিটেজ” হিসেবে ঘোষণা দেয়া হোক। 

বেগম রোকেয়ার বসতভিটার মালিকানা দাবি করে ১৯৭০ সালে সেখানে ওই সংগঠনের একটি নাম ফলক স্থাপন করা হয়। তারপর সবই রয়ে গেছে অরক্ষিত অবস্থায়। এই দীর্ঘ সময়ের ব্যবধানে বসতভিটার অনেক প্রত্নতত্ত্ব সামগ্রি চুরি ও নষ্ট হয়ে গেছে। বাড়ির দেয়ালে ইট, নকশা করা গম্বুজের চুন সরকরি গাথুনি অবকাঠামো চুরি হয়ে গেছে। সেখানে এখন বেগম রোকেয়া পরিবারের অভিজাত্য এবং বনেদিপনার প্রতীক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে, দেয়ালের একটি অংশসহ দুটি গম্বুজ মাত্র। আর আছে পারিবারিক মসজিদের ফটকের অংশ বিশেষ। কী করে এরকম ইতিহাসের নির্দশন এতদিন ব্যক্তি মালিকানায় ছিল। এ প্রশ্নের কোন উত্তর জানা নেই।  এই দীর্ঘ সময়ে কোন সরকারের  আমলে তা কেউ খতিয়ে দেখেননি। 

জেলা পরিষদ ১৯৯০ সালে গায়ের জোরে ওই বসতভিটার ৩০ শতক জমি উচু দেয়াল দিয়ে ঘিরে রাখে। মূলত স্থাপিত প্রধানমন্ত্রী, অন্যান্য মন্ত্রী আমলা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের রোপণকৃত গাছগাছালি গরু ছাগলের হাত থেকে রক্ষার জন্য ওই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়। লাখেরাজ সম্পত্তির বাদবাকি জমি, পুকুর, বাগান প্রভাবশালীরা নামে বেনামে দখল করে নিয়েছে। এভাবেই কয়েক শ’ একর জমি এখন রোকেয়া পরিবারের হাতছাড়া হয়ে গেছে। স্থানীয়ভাবে দাবি ওঠেছে ওই সব জমি উদ্ধার করে তা সরকারিভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হোক। বিগত আওয়ামী লীগ সরকার আমলে পায়রাবন্দে বেগম রোকয়ো স্মৃতি কমপক্সে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ২০০১ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। 

বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সংগঠক আবু জাকারিয়া রাজু আহমেদ ও রফিকুল ইসলাম দুলাল দাবি করছেন বেগম রোকেয়ার বেহাত হয়ে যাওয়া বসতভিটাসহ সব জমি পুকুর বাগান উদ্ধার করে তা বেগম রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র’র আওতায় আনা হোক। 

জানা গেছে, বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দের খোর্দ্দমুরাদপুর গ্রামের জমিদার সাবের পরিবারের জহির উদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী হায়দার সাবের ঔরষে ও রাহাতুন্নেসা সাবেরা চৌধুরানীর গর্ভে জন্মগ্রহণ করেন বেগম রোকেয়া। ১৮ বছর বয়সে খান বাহাদুর সাখাওয়াত হোসেন সাহেবের সাথে তার বিয়ে হয়। ২৮ বছর বয়সে স্বামী হারান তিনি।

১৯১০ সালের শেষ দিকে কোলকাতায় যান। লিখেছেন অবিরাম-অবিরত। সমাজের কুসংস্কার ভাঙ্গতে করেছেন সময়ের সাহসি উচ্চারণ। তার লেখা অবরোধ বাসিনী, সুলাতানার স্বপ্ন, অর্ধাঙ্গী, মতিচুর ছাড়াও অসংখ্য বই সেসময় নারী জাগরন আন্দোলনকে উজ্জীবিত করে। আজও আন্দোলিত করছে বিশ্ব নারী সভ্যতাকে। ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর তিনি কোলাকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। কোলকাতার সোদপুরে তাকে সমাহিত করা হয়।

স্মৃতিকেন্দ্রটি নিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বাংলা একাডেমির শীর্ষকর্মকর্তাদের অনিহা ও টানা হেচড়া চলছে দীর্ঘদিন ধরে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলা একাডেমীর তত্বাবধায়নে এই স্মৃতি কেন্দ্রটি আব্দুল্লাহ আল ফারুক নামের একজন উপ-পরিচালকের অধীনে ১৩ জন জনবল দিয়ে জাকজমকভাবে কার্যক্রম শুরু হয়। সে সময় স্মৃতি কেন্দ্রের নিযুক্ত কর্মকর্তারা ২ মাস ১৭ দিন বেতন পাওয়ার পর ২০০৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। বেতন বন্ধ হওয়ার আরও আড়াই মাস স্মৃতি কেন্দ্রটি চালু ছিল।
বেতন বন্ধ হওয়ার পর একে একে সবাই চলে গেলেও সেখানে বিনাবেতনে থেকে যান গার্ড আব্দুল বাতেন ও মালি খোরশেদ আলম। 

অন্যদিকে ২০০৬ সালের ১ জুন বাংলা একাডেমি থেকে নিয়োগপত্রবিহীন ভাবে পাঠানো হয় মামুন নামের আরেক কর্মচারীকে। ২০০৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর বাংলা একাডেমীর তৎকালীন মহাপরিচালক রংপুর সফরে এসে জনবল নিয়োগ সংক্রান্ত জটিলতা দূর করে স্মৃতিকেন্দ্রটি চালুর ঘোষণা দেন। কিন্তু সেটিও আশ্বাসেই থেকে যায়। এরপর ২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারী মাস পর্যন্ত স্মৃতিকেন্দ্রটির তালা বদ্ধ অবস্থায় ছিল। ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর বাংলা একাডেমি থেকে স্মৃতিকেন্দ্রটি মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ন্যাস্ত করার পর চাকরি হারান স্মৃতি কেন্দ্রের ৩ কর্মচারী।

সূত্র জানায়, প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে বাংলা একাডেমির তৎকালীন মহাপরিচালক মনসুর মুসা মন্ত্রণালয়ে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে প্রকল্পে নিয়োজিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের অব্যহতি না দেয়ার জন্য চিঠি লিখলে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রের ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সেখানে কর্মরত থাকেন। ২০০৫ সালের সরকারি গেজেটে বলা হয়, ‘১৯৯৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত নেয়া সকল প্রকল্পের জনবল সরাসরি রাজস্ব খাতে নেয়া হবে।’ কিন্ত অজ্ঞাত কারনে সংস্থাপন মন্ত্রণালয় থেকে বেগম রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্র প্রকল্পটি ‘১৯৯৭ সালের ১ লা জানুয়ারী থেকে শুরু হলেও ‘১ জুলাই’ থেকে প্রকল্প শুরুর কথা উল্লেখ করে ট্রান্সফরের জন্য দরখাস্ত ইস্যু করা হয়।’

ওই সময় একই ধরনের ঢাকা শিল্পকলা একাডেমি, রাজশাহী উপজাতীয় কালচারাল একাডেমি, কক্সবাজার সংস্কৃতিকেন্দ্রসহ অন্যান্য সকল প্রকল্প রাজস্বখাতে স্থানান্তর হলেও বাদ পড়ে যায় শুধু রোকেয়া স্মৃতি কেন্দ্র । বিষয়টি অবগত হয়ে এখানকার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সঠিক তথ্য দিয়ে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি ডিও লেটার দেন। সেই ডিও লেটারের পর সংস্থাপন মন্ত্রণালয় তাদের রাজস্ব খাতে স্থানান্তর না করে ১৪ টি পদ সৃষ্টি করে। এই ফাইল অর্থমন্ত্রণালয়ে ২ বছর ধরে আটকে পড়ে অছে। এরমধ্যে ২০০৭ সালে ৬ জনকে অর্থমন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় বাংলা একাডেমিকে নিয়োগ কাযর্কর করার নির্দেশ দেয়। কিন্তু বাংলা একাডেমির তৎকালীন ডিজি আবুল কালাম মনজুর মোরশেদের অসহাযোগিতায় কারনে বিষয়টি ঝুলে থাকে। এখনও সেই একই অবস্থায় ঝুলে আছে মহিয়সী বেগম রোকেয়ার স্মৃতি চর্চা ও গবেষনার প্রকল্পের কার্যক্রম।

এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় সুপারিশপত্র চাওয়ায় রংপুরের তৎকালীন ডেপুটি কমিশনার খন্দকার আতিয়ার রহমান বাংলা একাডেমির তত্বাবধায়নেই স্মৃতিকেন্দ্রটি রাখার লিখিত সুপারিশ করেন। বাংলা এর পরও বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকে ২০০৮ সালের ২০ নভেম্বর স্মৃতিকেন্দ্রটি মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এর বিরোধিতা করে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রীট পিটিশন দাখিল করলে হাইকোর্ট একটি রুল জারি করে স্থানান্তর প্রক্রিয়া বন্ধের নির্দেশ দেন। 

অন্যদিকে ২০০৮ সালের ১৬ মার্চ স্মৃতি কেন্দ্রটির সেমিনার রুম, সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বেশ কয়েকটি রুমের জিনিসপত্র সরিয়ে সেনাবাহিনীর তত্বাবধায়নে বিকেএমইএ গার্মেন্টস প্রশিক্ষন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়। সরকার বদলের পর দাবী উঠে বিকেএমই’র প্রশিক্ষনকেন্দ্রটি সরানোর। ২০১২ সালের এপ্রিল মাসে জনস্বার্থে রোকেয়া স্মৃতিকেন্দ্রটি থেকে গার্মেন্টস প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সরানোর জন্য হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন দাখিল করেন হিউম্যান রাইট এন্ড পিচ নামের প্রতিষ্ঠানের প্রধান আইনজীবি মনজিল মোরেশদ। দীর্ঘ ৫ বছর পর একই বছরের ১ মে হাইকোর্টের রায়ের নির্দেশে বিকেএমইএ চর্চাকেন্দ্রটি থেকে প্রশিক্ষণ কেন্দ্র সরিয়ে নেন।

বিকেএমইএ চলে যাওয়ার পর গত প্রায় ৪১ মাস ধরে কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। সেখানকার পাঠাগার, গবেষনা কক্ষ, সেমিনার রুম, মিলনায়তন, সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে।
 
বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল বলেন, কার্যত স্মৃতিকেন্দ্রটি এখন অভিভাবকহীন। এটি সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় নাকি মহিলা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তা কেউ জানেন না। এ অবস্থার উত্তরণ না হওয়ায় স্মৃতি কেন্দ্রটির মুল উদ্দেশ্যের অপমৃত্যু হয়েছে।

রোকেয়ার মরদেহ আনায় প্রস্তাব ফাইলবন্দি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পাকিস্তান থেকে বীরশ্রেষ্ঠ জাহাঙ্গীরের মরদেহ চাঁপাইনবাবগঞ্জে আনার পর এই অঞ্চলের মানুষ রোকেয়ার মরদেহটিও পায়রাবন্দে এনে সমাহিত করার দাবিতে জোড়ালো আন্দোলনে নামেন। ২০০৯ সালের ৯ ডিসেম্বর রোকেয়া মেলায় রংপুরের তৎকালীন ডিসি বিএম এনামুল হক দাবিটির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করে উদ্যোগ নেয়ার ওয়াদা করেন। এরপর থেকে বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদ, বেগম রোকেয়া ফোরাম, বেগম রোকেয়া পাঠাগারসহ বিভিন্ন সংগঠন এই দাবি বাস্তবায়নে ডিসি ও সাম্প্রতিক সময়ে বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিক স্মারকলিপি প্রদান করেছে। চলছে সভা, সেম্পোজিয়াম, গোলটেবিল বৈঠকসহ নানা কর্মসূচি। সাংবাদিক সম্মেলন করে রোকেয়া অনুরাগীরা দাবিটি সরকারের ঊর্ধ্বতন মহলেও জানিয়েছে। ২০১০ সালে রংপুরের ডিসি বিএম এনামুল হক বলেছিলেন, মরদেহ পায়রাবন্দে আনার ব্যপারে পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন আবেদন করা হয়েছে। আগামী বছর রোকেয়া দিবসের আগে তার মরদেহ পায়রাবন্দে আসবে বলেও তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন। কিন্তু তার ঘোষণার পর ৯ বছর চলে গেছে। কিন্তু আজও এ ব্যপারে কোন উদ্যোগ নেয়নি জেলা প্রশাসন ও সরকারের।

পায়রাবন্দে বেগম রোকেয়া স্মৃতি সংসদের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম দুলাল এ প্রতিবেদককে জানান, ২০০৪ সালে বিবিসি পরিচালিত ২০ বিশ্বসেরা নারীর ৬ নম্বর তালিকায় স্থান পাওয়া বেগম রোকেয়ার মরদেহ ২০০৯ সালে ডিসি সাহেব ঘোষনা দিয়েছিলেন পায়রাবন্দে আসবে। কিন্তু সেই ঘোষনা ও সিদ্ধান্ত এখন ফাইলবান্দি। তিনি বলেন বেগম রোকেয়াকে নীতিনির্ধারক মহলে গুরুত্ব না দেয়ার কারণে এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে রোকেয়ার ভাতিজি রনজিনা সাবের বলেন, সরকারের কি এমন সমস্যা যে আমাদের এই সামান্য দাবীটুকুও পূরণ করতে পারছে না। অন্যদের মরদেহ যদি আনা যায়। তবে কেন রোকেয়ার মরদেহ আনতে সরকার এত টালবাহনা করছে। তা আমাদের বোধগম্য নয়।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি