বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর পতিসর নীরব

নওগাঁ প্রতিনিধি
৯ মে ২০২০, শনিবার
প্রকাশিত: ০১:৪১

বিশ্বকবির স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁর পতিসর নীরব

নীরব পতিসর। নির্জন প্রত্যন্ত পল্লী বিশ্ব কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নের (কালিগ্রাম পরগনা) পতিসর যেন আজ আরো নির্জন আরো নিস্তব্ধ। হবারই কথা ছিল (শুক্রবার ৮ মে) যে ২৫ বৈশাখ বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬০ তম জন্মজয়ন্তি। কৃষ্ণচূড়ায় ফুল এসেছে, সোনালু ফুলের হলদে রঙের চ্ছটা কাছারি বাড়ির বর্হিপ্রঙ্গণে এক কনে প্রকৃতির রুপের মেলা বসেছে। তবে এবার করোনার মহামারির কারণে পতিসরে নিরবে চলে গেল কবির জন্মজয়ন্তি। কবি প্রকৃত জমিদারি কালিগ্রাম পরগনা। কাছারি বাড়িটি এখন প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের যাদুঘর।

তবুও কবির প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসাকে বুকে বেধে সকল সমস্যাকে মেনে নিয়ে এক অদৃশ্য ভালবাসার টানে রবি ভক্তরা ছুটে আসেন পাখিডাকা নিভৃত পল্লী পতিসরে। আঁকাবাঁকা পাকা সড়ক চলে গেছে নিঝুম- নিস্তদ্ধ-নিভৃত পল্লী নওগাঁ জেলার আত্রাই উপজেলার মনিয়ারী ইউনিয়নে পতিসরে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছারী বাড়ি। কবির প্রিয় নাগর নদী কাছারীবাড়ির সীমানা ছুঁয়ে এঁকেবেঁকে চলে গেছে। প্রতি বছর আসতো পতিসরের পরিবার গুলোতে তাঁদের আত্নীয় স্বজন কবির জন্মজয়ন্তিকে ঘিরে। যেনো সব পার্বনকে ছাড়িয়ে যেতো। কিন্তু এবার করোনার কারনে নেই কোন আয়োজন। 

১৮৯১ সালের পর কবি বহুবার এসেছেন পতিসর কুঠিবাড়িতে নাগর নদী পথে বজড়ায় চড়ে। এই পতিসরে বসে কবি রচনা করেছেন কাব্য নাটিকা, বিদায় অভিশাপ, গোরা ও ঘরে বাহিরে উপন্যাসে অনেকাংশ। ছোট গল্পের মধ্যে প্রতিহিংসা, ঠাকুরদা, ইংরাজ ও ভারত বাসী প্রবন্ধ। গানের মধ্যে যেমন “তুমি সন্ধ্যার মেঘমালা/ তুমি আমার নিভৃত সাধনা,” বধূ মিছে রাগ করোনা, তুমি নব রুপে এসো প্রাণে সহ অনেক গান। দুই বিঘা জমি, তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে কবিতাসহ বিভিন্ন কবিতা। কবির স্মৃতি বিজড়িত মনিতলার পূজামন্ডপের সেই তাল গাছটি আজ আর নেই। ঝড়ে ভেঙ্গে গেছে অনেক আগে। সংগ্রহের মধ্যে রয়েছে কবির দেয়াল ঘড়ি, লোহার সিন্দুক, খাট, টি-টেবিল, টি-পট, আয়না, নাগর বোটের এ্যাংকর, ট্রাক্টরের ভগ্নাংশ, কবির স্নানের বাথটাব, কবির বিভিন্ন বয়সের ছবি, কবির স্বহস্তে লিখিত ৬ পৃষ্ঠার চিঠিসহ নানান সামগ্রী।

কবি তার পুত্রের নামানুসারে প্রতিষ্ঠা করেন “কালীগ্রাম রথীন্দ্রনাথ ইন্সটিটিউট।” ১৯১৩ সালের নবেল পুরস্কারের প্রাপ্ত টাকা থেকে ১ লাখ ৮হাজার টাকা তিনি কৃষকদের উন্নয়ন কল্পে প্রতিষ্ঠিত কৃষি ব্যাংকে জমা দেন। কবি রবীন্দ্র নাথ ঠাকুর পতিসর কাছারি বাড়িতে সব শেষ আসেন ১৯৩৭ সালে। কাছারি বাড়িতে সংরক্ষণ করা হয়েছে কবির নানান স্মৃতি সামগ্রী। কাছারি বাড়ির সামনে সিংহ দুয়ার। ওই দুয়ারের সামনে বিশাল প্রাঙ্গণ। সিংহ দুয়ার পেরোলেই কাছারি বাড়ির অভ্যন্তর, সামনে আঙ্গিনা। আঙ্গিনার তিন দিকে উঠে গেছে সিঁড়ি। সিঁড়ি পেরোলেই বারান্দা সংলগ্ন বিশাল বিশাল কক্ষ। এক কোন দিয়ে উঠে গেছে চিলে কোঠার সিঁড়ি।
গত ২০০৯ সালে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বহস্তে লিখিত ৬ পৃষ্ঠার একটি চিঠি উদ্ধার করেন স্থানীয় রবীন্দ্র সাহিত্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্র অনুরাগী এম মতিউর রহমান মামুন। এরপর রবি ঠাকুরের প্রতিষ্ঠিত পতিসর কৃষি ব্যাংকের একটি হিসাবের খাতা উদ্ধার করা হয়।

ব্রেকিংনিউজ/এমএইচ

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি