কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?

নাইমুল সিয়াম
২২ সেপ্টেম্বর ২০২০, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:০১ আপডেট: ০৫:১৩

কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?

যে মাটিতে শিকড় গেড়ে আমরা আকাশ পানে ডালপালা মেলি, সে মাটিই আমাদের মাতৃভূমি। এই মাটির সাথে আমাদের নাড়ির যোগ। মাতৃভূমি ছেড়ে আমরা যেখানেই যাই, সেখানেই মাতৃভূমির আলো-বাতাসকে খুঁজে বেড়াই।

পৃথিবীতে আমাদের প্রথম দিনগুলো কাটে মাতৃভূমির ছায়া শীতল আলো-বাতাসে। মাতৃস্নেহ দিয়ে মাতৃভূমি পরম মমতায় আগলে রাখে আমাদের। আমরা যখন আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠি, আমরা বিভিন্ন প্রয়োজনে মাতৃভূমি ছেড়ে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি। আমাদের চলে যেতে হয়। অনেকে আবার এমনও আছে- মাতৃভূমির প্রতি বিভিন্ন কারণে তাদের আক্ষেপ জন্মায়। মনে হয় অন্য কোথাও জন্মালেই বরং ভালো হতো। এসব কারণে আমাদের বিচ্ছেদ ঘটে মাতৃভূমির সাথে।
   
জীবন অনেক বিচিত্র। জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে আমরা এক সময় অনুভব করতে থাকি আমাদের মাতৃভূমিকে। আমরা স্মরণ করি মাতৃভূমিতে কাটানো প্রাণোচ্ছল সময়গুলো। সুযোগ পেলেই আমরা ফিরে আসতে চাই মাতৃভূমির কাছে। বুক ভরে নিশ্বাস নিয়ে নিজের প্রাণ জুড়াতে চাই। এ কারণে দেখা যায় বিদেশের উচ্চবিলাসী জীবন-যাপনের অনেক সুযোগ-সুবিধা ছেড়েও অনেকে ফিরে নিজের দারিদ্র্য পীড়িত মাতৃভূমির কাছে। জীবনের একটা পর্যায়ে এসে মানুষের কাছে প্রাণভরে বাঁচাটা অনেকবেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।

এই যেমন মাইকেল মধুসূদন দত্তের কথাই চিন্তা করুন। সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারে জন্মগ্রহণ করেও পাশ্চাত্য জীবনের প্রতি আকর্ষণ তাকে খ্রিষ্ট ধর্মে দীক্ষিত করে। ইংল্যান্ডে আইন পড়তে গিয়ে আবহাওয়া ও বর্ণবৈষম্যের কারণে সেখানে বেশিদিন স্থায়ী হতে পারেননি। ১৮৬০ সালে পাড়ি জমান ফ্রান্সের ভার্সাই শহরে। প্রবাস জীবনের নানাবিধ অভিজ্ঞতা কবিকে তীব্রভাবে মাতৃভূমিকে অনুভব করায়। কপোতাক্ষ নদের তীরে কাটানো শৈশবের দিনগুলোকে স্মরণ করে কবি লিখেন বাংলা সাহিত্যের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংযোজন, সনেট- ‘কপোতাক্ষ নদ’। কবি লিখেছেন-
           ‘‘বহুদেশ দেখিয়াছি বহুনদ-দলে
      কিন্তু এ স্নেহের তৃষ্ণা মিটে কার জলে?
      দুগ্ধ-স্রোতরূপী তুমি মাতৃভূমি-স্তনে।’’

এক সময় কবি নিজের মাতৃভূমিতে ফিরে আসেন। ইংরেজি সাহিত্য চর্চা যে কবিকে হতাশ করেছিলো, বাংলা ভাষায় সাহিত্য চর্চা তাকে দিয়েছে কিংবদন্তীর সম্মাননা। এই অকৃত্রিম ভালোবাসা দিয়ে বাংলা মা তার সন্তানকে জড়িয়ে নিয়েছিলো।

আমাদের সবারই শেষ ইচ্ছা থাকে প্রিয় মাতৃভূমির মাটিতে অন্তিম শয্যায় শায়িত হওয়া। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম লিখেছিলেন-
         ‘‘মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই
যেন গোরে থেকেও মোয়াজ্জিনের আজান শুন্‌তে পাই।’’

তার শেষ ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে নিউইয়র্কে মৃত্যুবরণ করা নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদও নুহাশ পল্লীর মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছেন। মাতৃভূমির প্রতি অন্তিম আবেদনটা তাই মাইকেল মধুসূদন দত্তের ‘বঙ্গভূমির প্রতি’ কবিতার চরণগুলোর মতোই-
      ‘‘রেখো মা দাসেরে মনে, এ মিনতি করি পদে
      সাধিতে মনের সাধ,
      ঘটে যদি পরমাদ,
      মধুহীন করোনা গো তব মনঃকোকনদে।’’


(লেখক- নাইমুল সিয়াম।  শিক্ষার্থী, সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়)

ব্রেকিংনিউজ/এসপি

breakingnews.com.bd
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা, ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫, ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
সম্পাদক ও প্রকাশক : মো: মাইনুল ইসলাম
 শারাকা ম্যাক, ২ এইচ-প্রথম তলা,
  ৩/১-৩/২ বিজয় নগর, ঢাকা-১০০০
 টেলিফোন : ০২-৯৩৪৮৭৭৪-৫,
 ইমেইল : breakingnews.com.bd@gmail.com
 নিউজরুম হটলাইন : ০১৬৭৮-০৪০২৩৮, ০২-৮৩৯১৫২৪
 নিউজরুম ইমেইল : bnbdcountry@gmail.com, bnbdnews.reporter@gmail.com
© ২০২০ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | ব্রেকিংনিউজ.কম.বিডি