bnbd-ads
bnbd-ads

বিঘা প্রতি ফলন ৪০ মণ ধান

জেলা প্রতিনিধি
১৪ মে ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০১:৫১

বিঘা প্রতি ফলন ৪০ মণ ধান

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জামান বলেছেন, ধানের নতুন জাত ব্রি ৮১ এবং ব্রি ৮৯ উদ্ভাবিত হওয়ায় ফলন অনেক গুণ বেড়ে যাবে। এতে কৃষক যেমন লাভবান হবেন, তেমনি দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সারাদেশের কৃষকদের মাঝে নতুন জাতের এই ব্রি৮১ ও ব্রি৮৯ ধানের বীজ পৌঁছে দেওয়া হবে।

সোমবার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের রাজস্ব খাতভুক্ত প্রদর্শনীর মাঠ দিবসে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটবাউর গ্রামে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি কৃষকদের এসব কথা বলেন।

সচিব বলেন, ধানের নতুন কোনো জাত কৃষকদের কাছে পুরোপুরি পৌঁছাতে প্রায় ১৫ বছর লেগে যায়। কিন্তু এবারের নতুন জাত ব্রি৮১ এবং ব্রি৮৯ কৃষকদের মাঝে তিন বছরের মধ্যেই পৌঁছানো সম্ভব হবে। তার জন্য প্রতিটি জেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের কৃষি বীজ কেনার জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে। সেই টাকা দিয়ে নতুন ব্রি৮১ এবং ব্রি৮৯ জাতের ধান বীজ কিনে উপজেলায় সংরক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পরের বছর বিনামূল্যে কৃষকদের মাঝে ওই বীজ বিতরণ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, এবার নতুন জাতের ব্রি৮১ এবং ব্রি৮৯ জাতের প্রদর্শনী দেখেছি। যাতে বিঘা প্রতি ৪০মণ পর্যন্ত ধান উৎপাদন হবে। তাতে বীজের ঘাটতি হবে না। আগামীতে সব কৃষকদের এই বীজ সরবরাহ করা হবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সরেজমিন উইং পরিচালক ড. আবদুল মুঈদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নাসিরুজ্জমান ছাড়াও অন্যান্যের মধ্যে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির, জেলা প্রশাসক এস. এম. ফেরদৌস, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মামুন সরদার, কৃষক ইউনুস আলী ও জহির উদ্দিন বক্তব্য রাখেন। এসময় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তা ও ভাটবাউর গ্রামের কৃষকরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউশনের মহাপরিচালক ড. মো. শাহজাহান কবির তার বক্তব্যে বলেন, সরকার কৃষকদের নিয়মিতভাবে কৃষি ভর্তুকি দিচ্ছে। বীজ, সার, ফসল কর্তনে মেশিন কেনাসহ দুর্যোগকালীন সময়ে কৃষকদের ভর্তুকি দিয়ে সহায়তা করছে। কারণ কৃষিকে টিকিয়ে রাখতে না পারলে সব ধরনের উন্নয়ন স্থবির হয়ে পড়বে। সকল অর্জনই সাময়িক হবে। তাই কৃষকদের নতুন জাত দেওয়ার পাশাপাশি ভাল ব্যবস্থাপনা দিতে পারলে কৃষকরা বেশি করে এই জাত চাষাবাদ করবে। ফলনও বেশি হবে।

তিনি বলেন, কৃষকরা এখন সাধারণত ব্রি২৮ ও ব্রি২৯ চাষাবাদ করছে। এতে বিঘা প্রতি ফলন হচ্ছে ২২ থেকে ২৫ মণ। কিন্তু ব্রি ৮১ এবং ব্রি ৮৯ চাষাবাদের বিঘা প্রতি ফলন হবে প্রায় ৪০মণ। এই নতুন জাতের ধান চাষাবাদে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতেই এই মাঠ দিবস পালিত হয়।

এর আগে ভাটবাউর গ্রামে কৃষি সচিবসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা নতুন জাতের ব্রি৮১ ও ব্রি৮৯ ধানের প্রদশর্নী পরিদর্শন করেন। এসময় ফলন ভাল হওয়ায় কৃষি সচিব মো. নাসিরুজ্জামান সন্তোষ প্রকাশ করেন।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি