তিস্তায় ডুবেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বাদাম

সোহেল রশীদ, রংপুর
২৫ জুন ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৫:২৪

তিস্তায় ডুবেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বাদাম
ফাইল ছবি

আষাঢ়ের শুরুতেই পানি বাড়তে শুরু করায় ভাঙন দেখা দিয়ে তিস্তা পাড়ে। এতে তিস্তা নদী বিধৌত রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া, পীরগাছা উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। ডুবে গেছে চরাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের বাদাম ক্ষেত। আর কদিন পর ঘরে তোলা যেতো এসব ক্ষেতের ফসল। এতে করে বাদাম চাষিদের বড় ধরণের লোকসানের সম্মুখীন হতে হবে।

মঙ্গলবার (২৫ জুন) রংপুরের গঙ্গাচড়া, পীরগাছা ও কাউনিয়া উপজেলার বেশ কয়েকটি বিস্তীর্ণ অঞ্চল ঘুরে এ দৃশ্য দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কাউনিয়ার ঢুষমাড়া, গদাই, বিশ্বনাথপুর, মধুপুর, ভূতছড়া, শাব্দি, ট্যাপামধুপুর, বুড়িরহাট, চরগনাই, পীরগাছার ছাওলা ও তাম্বুলপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা এবং গঙ্গাচড়ার মহিপুর, বালাপাড়া, নোহালি গ্রামের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব এলাকায় নদীর ধু-ধু বালুচরে ফলানো বাদাম পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে চাষিরা। চাষিদের দাবি, ফলন ভালো হলেও পানিতেই ভেসে গেছে তাদের স্বপ্ন।

গদাই গ্রামের কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, ‘এবার অনেক আশা নিয়ে বাদাম চাষ করেছি। কিন্তু ঘরে তোলার আগেই পানিতে সর্বনাশ হলো। এখন ঋণ পরিশোধ করা কষ্টকর হবে।’

একই এলাকার মর্জিনা বেগম বলেন, ‘বাদাম তোলা হইলো ন্যা, সোগ (সব) পানির তলোত ডুবি গেছে। সংসার চালাইতে কষ্ট হইবে। ছাওয়াগুল্যার (সন্তান) খরচা দিতে দেরি হইবে।’

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক ড. সরোয়ারুল হক জানান, রংপুরে প্রায় ৬৮০ হাজার হেক্টর জমিতে বাদাম চাষ হয়েছে। যার বেশির ভাগই নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চল। তবে তিস্তায় হঠাৎ পানি বাড়ায় চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

বাসদ মার্কসবাদীর রংপুরের সংগঠক ও  কৃষক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক পলাশ কান্তি নাগ জানান, বছরের পর বছর তিস্তা ভরাট হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে প্লাবিত হচ্ছে দুই পাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল। এতে বাদাম চাষিরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। এই সমস্যা সমাধানে তিস্তা নদী খনন ও নদী শাসন করা জরুরি হয়ে পড়েছে।

রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের মুখ্য সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাকিম জানান, কিছু জায়গায় ড্রেজিং করা হয়েছে। তবে পুরো তিস্তায় ড্রেজিং করার কাজ শিগগিরই শুরু হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এসআর/জেআই