ভর্তুকির টাকা নিচ্ছেন সেচ পাম্পের মালিকেরা, বঞ্চিত কৃষক

সোহেল রশিদ, রংপুর

৩ জুলাই ২০১৯, বুধবার
প্রকাশিত: ০৯:২৭

ভর্তুকির টাকা নিচ্ছেন সেচ পাম্পের মালিকেরা, বঞ্চিত কৃষক

ফসল চাষে উদ্বুদ্ধ করার জন্য সেচের বিদ্যুৎ বিলের ওপর কৃষককে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে সরকার। কিন্তু তারাগঞ্জ উপজেলায় কৃষক নয়, এই ভর্তুকি চলে যাচ্ছে সেচ পাম্পের মালিকদের পকেটে। উপরন্ত সেচ পাম্পের মালিকেরা এ বছর নানা অজুহাত দেখিয়ে সেচের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
 
উপজেলা কৃষি অধিদফতর ও পাগলাপীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির রংপুর-২ এর কার্যালয় সূত্রে জানাগেছে, তারাগঞ্জ উপজেলার বিদ্যুৎচালিত সেচ পাম্প আছে এক হাজার ৭টি। এসব সেচ পাম্পের মাধ্যমে সেচ সুবিধা নিয়ে উপজেলা কৃষকেরা এ বছর ৬ হাজার ২২০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করেছেন। 
 
উপজেলার সরকারপাড়া গ্রামের কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, ‘এমনি ধানের দাম নাই। প্রতিবিঘা জমি (৩৩শতকে) ধান চাষ করে ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হচ্ছে। তার উপর বিদ্যুতের দাম বেড়ে যাওয়ার কথা বলে গত বছরের তুলনায় এবার সেচ পাম্পের মালিকেরা বেশি টাকা নিয়েছেন। এলাকা ভেদে এই বৃদ্দির হার একরে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা।’
 
সরকারপাড়া গ্রামের কৃষক রাজু আহাম্মেদ অভিযোগ করেন, তিনি হাজীপাড়া গ্রামের খায়রুল হোসেনের সেচপাম্প থেকে পানি নিয়ে দোলাপাড়া মাঠে এক একর জমিতে বোরো চাষ করেন। গত বছর ওই জমিতে ধান চাষ করতে সেচ বাবদ খায়রুল হোসেন ৫ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। কিন্তু এবছর একই জমিতে সেচ দেয়া বাবদ ৫ হাজার টাকা দেয়ার পরও আরও ২হাজার টাকা বেশি দাবি করেছেন। 
 
বেশি টাকা দাবির কারণ জানতে চাইলে সেচ পাম্প মালিক খায়রুল হোসেন বলেন, ‘গত বছরের চেয়ে এ বছর রাজু আহম্মেদের জমিতে বেশি সেচ দিতে হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুতের দাম বাড়ায় একটু বেশি টাকা ধরা হয়েছে।’
 
বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কতৃপক্ষ তারাগঞ্জ অঞ্চলের সহকারী প্রকৌশলী মোশারফ হোসেন ও উপজেলা কৃষি অফিসার আশোক কুমার রায় জানান, এক একর জমিতে সেচ দিতে বিদ্যুৎ খরজ হবে এলাকা ভেদে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা। প্রতি একরে সেচ পাম্প চালকের মজুরি এক হাজার টাকা করে নিলেও প্রতি একরে খরচ পড়বে তিন থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা। আবার বৃষ্টি হলে খরচ আরও কমবে। 
 
উপজেলার খামার কাঁচনা গ্রামের প্রান্তিক কৃষক মানিক মিয়া বলেন, ‘তোমার মতন সবায় তো কয় বোরো খেতোত পানি দিতে, সরকার কারেন্ট বিলের ওপর ১০০ টাকার মধ্যে ২০ টাকা ভর্তকি দেয়। কিন্তু সেই ভর্তুকির টাকা হামরা কৃষকরা তো পাই না।’ 
 
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আবাদ করি তো হামার গুলার অবস্থা শ্যাষ। কনতো কোন খ্যাতটাত লস ছাড়া লাভ পাইছোল। হামার মতন কৃষকের কথা কায়ও শোনেনা।’
 
কথা হয় সেচ পাম্প মালিক একরামুল হকের সাথে। তিনি বলেন, ‘ভাইজান আমার তো দোষ ধরলেন, কিন্তু কৃষকেরা যে পানি নেয়, কয়জন নগদ টাকা দেয়? সবায় কয়, ধান কাটি দিমো। ধান কাটার পর টাকা চাইলে কয়, ধানের দামে নাই ধান না বেছাইলে তোমাক টাকা কোনটে থাকি দেও। তাহলে বুঝেন হামাও কোন জালাত আছি। তাহলে কন ওমাক ফির কোনটে থাকি ভর্তুকির টাকা দিই।’
 
পাগলাপীর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাব্যবস্থাপক আলী হোসেনের সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ‘প্রতিবছর কৃষকদের উৎপাদন বাড়াতে সরকার বিদ্যুৎ বিলের ওপর ২০ শতাংশ ভর্তুকি দিচ্ছে। কিন্তু পুরো সুবিধা ভোগ করছেন সেচপাম্পের মালিকেরা। তারাই সরকারের নির্দেশ মানছেন না। তবে চাষিদের উচিত তাদের কাছ থেকে ভর্তুকির টাকা আদায় করা।’
 
ব্রেকিংনিউজ/এসআর/জেআই