নীলফামারীতে মুক্তা চাষ করে সফল স্কুলশিক্ষক সেলিম

আব্দুল গফুর, নীলফামারী প্রতিনিধি
৭ জুলাই ২০১৯, রবিবার
প্রকাশিত: ০৬:০৬

নীলফামারীতে মুক্তা চাষ করে সফল স্কুলশিক্ষক সেলিম

নীলফামারীর ডোমারে মুক্তা চাষ করে সফল হয়েছেন সেলিম আল মামুন নামের এক শিক্ষক। তবে দেশে মুক্তা বিক্রির বাজার না থাকায় এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন তিনি।

ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের জামিরবাড়ী চাকধাপাড়া গ্রামের অমিজ উদ্দিনের ছেলে আঠিয়াবাড়ী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সেলিম আল মামুন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ থেকে ৪ দফায় প্রশিক্ষণ নিয়ে বাড়ির পাশে দুটি পুকুরে ঝিনুকে মুক্তা চাষ শুরু করেন। প্রথমে তিনি এলাকার জেলে এবং বিভিন্ন জায়গা থেকে ঝিনুক সংগ্রহ করেন। ঝিনুকগুলোকে প্রক্রিয়াজাত করে পুকুরে ছেড়ে দেয়া হয়। সেখানেই তৈরি হয় মুক্তা। 

শিক্ষক সেলিম আল মামুন বলেন, ‘মুক্তা চাষে প্রচুর শ্রম দিতে হয়। ঝিনুকগুলোকে প্রথমে প্রক্রিয়াজাত করতে আট থেকে দশ জন লোকের দরকার হয়। এ কাজে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে, ভাইসহ পরিবারের সদস্যরা সহযোগিতা করে থাকে। আমি  প্রথমে পঁচিশ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করি। এর মধ্যে দুই হাজার সাত’শ ঝিনুক অপারেশন করা হয়। ঝিনুকগুলোকে প্রথমে পরিস্কার করে এক ঘন্টা পর অপারেশন করে ঝিনুকের ভেতরে ইমেজ ঢুকিয়ে সেলাই করে জালের ঝুঁড়ির মধ্যে রাখা হয়। লম্বা ঝুঁড়িতে বারোটি এবং গোল ঝুড়িতে চারটি করে ঝিনুক পুকুরে রাখা হয়।

তিনি বলেন, ‘একুশ দিন পর ঝিনুকগুলো তুলে পুকুরে উন্মুক্ত করা হয়। আট থেকে নয় মাস পর সেখান থেকে মুক্তা পাওয়া যায়। ঝিনুক থেকে তিন প্রকার মুক্তা চাষ করা যায়। ইমেজ মুক্তা তৈরি হতে সময় লাগে আট থেকে নয় মাস, রাইজ মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে চব্বিশ থেকে ছত্রিশ মাস এবং নিউক্লি মুক্তা তৈরী হতে সময় লাগে আঠারো থেকে চব্বিশ মাস।’

মামুন বলেন, ‘মুক্তা বিক্রির আন্তর্জাতিক বাজার থাকলেও বর্তমানে আমাদের দেশে এর কোন বাজার নেই। ফলে মুক্তা উৎপাদন হলেও বিক্রি করতে দুশ্চিন্তায় পড়তে হয়।’ 

তিনি এ যাবত ওই প্রকল্পে তিনি দেড় থেকে দু লাখ টাকা ব্যয় করেছেন। উৎপাদিত এ মুক্তাগুলো তিনি কোথায় বিক্রি করবেন এর সঠিক কোন মাধ্যম না থাকায় বর্তমানে উৎপাদিত মুক্তা নিয়ে তিনি ঝামেলায় পড়েছেন বলে জানান।

তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট থেকে জানানো হয়, মুক্তাগুলোর গুণগত মান ভালো হলে একটি মুক্তার মূল্য পাঁচ হাজার থেকে এক লাখ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট তার উৎপাদিত মুক্তাগুলো বিক্রি করতে সহযোগিতা করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন বলেও জানান। 

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষনা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ থেকে প্রশিক্ষনণ নিয়ে একই এলাকার জুলফিকার রহমান বাবলা নামের অপর এক যুবক মুক্তা চাষ শুরু করেছেন। তিনিও পঞ্চাশ হাজার ঝিনুক সংগ্রহ করে সাত’শ ঝিনুক অপারেশন করেছেন। 

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. শারমিন আকতার জানান, ‘মুক্তাচাষ প্রকল্পটি পরিক্ষামূলক ভাবে চলছে। এখনো মাঠ পর্যায়ে এ প্রকল্প চালু হয়নি।’

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনষ্টিটিউট ময়মনসিংহ এর প্রকল্প পরিচালক মহসেনা বেগম তনু জানান, গোলাকার মুক্তার বাজার বাংলাদেশে রয়েছে। বিভিন্ন জুয়েলারীরিতে অলংকার তৈরীতে ব্যবহার করা হয়। ইমেজ মুক্তার বাজার পার্শ্ববর্তী দেশে রয়েছে। আমাদের দেশে একেবারে নতুন। দেশে এখনো এর বাজার তৈরি হয়নি।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই