বন্যার পানিতে রংপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: দিশেহারা কৃষক

সোহেল রশিদ, রংপুর
৩০ জুলাই ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০৩:৩৮

বন্যার পানিতে রংপুরে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: দিশেহারা কৃষক

চলতি বন্যায় রংপুর অঞ্চলে ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এবারের বন্যায় রংপুর, নীলফামারী, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম ও লালমনিহাটে জমির ফসল পানিতে তলিয়ে যায়। এর ফলে আউশ, আমন বীজতলা, রোপা আমন, পাট, শাকসবজি, মসলা জাতীয় ফসল, তিল, কলা, আখসহ শাক-সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। এছাড়াও পান বরজেরও  ক্ষতি হয়েছে। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকরা।

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় পানির নিচে রয়েছে রংপুরে আউশ ৩০ হেক্টর,আমন বীজতলা ২৮ দশমিক ৫, রোপা আমন ১৮ দশমিক ৫ এবং ২৮ হেক্টর জমির শাকসবজি, গাইবান্ধায় আউশ ২ হাজার ৭৫৭, আমন বীজতলা ২ হাজার ১৯৭, রোপা আমন ২৫, পাট ৫ হাজার ৯৫০, শাকসবজি ৮৭৬ এবং ৫০ হেক্টর জমির তিল পানির নিচে। কুড়িগ্রামে আউশ ৫ হাজার ৯৬৩, আমন বীজতলা ২ হাজার ৮৯১, পাট ৮ হাজার ১০৫, শাকসবজি ১ হাজার ৯৬২, মসলা জাতীয় ফসল ৫৪৭ এবং কলা ১৭০ হেক্টর পানির নিচে আছে। লালমনিরহাট জেলায় রয়েছে আমন বীজতলা ৩২৫ হেক্টর,  নীলফামারীতে আউশ ১২ দশমিক ৫, আমন বীজতলা ৭২ দশমিক ৭, রোপা আমন ৩, পাট ৭, শাকসবজি ২৫ এবং মসলা জাতীয় ফসল শূন্য দশমিক ৭ হেক্টর।

জানা গেছে, রংপুরের কাউনিয়া, গংগাচড়া, পীরগঞ্জ, পীরগাছা, তারাগঞ্জ, গাইবান্ধার সদর, সাদুল্লাপুর, পলাশবাড়ি, গোবিন্দগঞ্জ, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, কুড়িগ্রামের সদর, উলিপুর, চিলমারী, রৌমারী, রজিবপুর, ভুরাঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি, রাজারহাট, লালমনিরহাট জেলার সদর, আদিতমারী, কালিগঞ্জ, হাতিবান্ধা, পাটগ্রাম এবং নীলফামারী জেলার ডিমলা ও জলঢাকা উপজেলায় এবারের বন্যায় এসব ক্ষতি হয়েছে।

রংপুরের গঙ্গাচড়া উপলোয গিয়ে দেখা যায়, বন্যার পানি সরতে শুরু করলেও এখনো চারদিকে পানি আর পানি। জেগে ওঠা ধানক্ষেতের বেশির ভাগই ঢাকা পড়েছে স্রোতে ভেসে আসা বালুতে। 

গঙ্গাচড়ার মহিপুর গ্রামের কৃষক ছয়ফল হোসেন জানান, এ বছর তিনি এ বছর ৪৫ শতক জমিতে আমন ধানের চারা লাগিয়ে ছিলেন। প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেসে আসা পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় সব পানিতে তলিয়ে যায়।

একই গ্রামের আলী হোসেন জানান, ৫০ শতক, এবং মনা মিয়ার ৩০ শতক জমিতে লাগানো ধানের চারা সম্পূর্ণ পচে নষ্ট হয়ে গেছে। তিনি জানান, বালুতে ঢাকা পড়া ক্ষেতগুলোতে এ বছর আর ধানের চারা লাগানোর সুযোগ নেই। 

রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, রংপুর অঞ্চলে সৃষ্ট বন্যায় ৩২ হাজার ১১৬ দশমিক ৯ হেক্টর জমির ফসল পানির নিচে রয়েছে। এখনও পূর্ণাঙ্গ ক্ষয়ক্ষতির হিসাব জানানি। তবে কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত কৃষকদের নানাভাবে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।

ব্রেকিংনিউজ/জেআই