গোপালগঞ্জে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস শাপলা

গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি
২ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১২:৪১

গোপালগঞ্জে হাজারো মানুষের জীবিকার উৎস শাপলা

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলা হচ্ছে একটি বিল অধ্যুষিত অঞ্চল। বর্ষার সময় এসব এলাকার খাল-বিল ও জলাশয় পানিতে তলিয়ে যায়। এ পানিতে প্রাকৃতিক ভাবেই জন্ম নেয় শাপলা। এসব শাপলা বাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন এ অঞ্চলের হাজারো মানুষ।

বর্ষায় সময় কৃষকদের তেমন কোনো কাজ না থাকায় এলাকার অনেক কৃষক, বেকার ও অন্যান্য পেশার লোক বর্তমানে এ পেশায় জড়িয়ে পড়েছে। পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এই শাপলা একদিকে সবজির চাহিদা মেটাচ্ছে, অন্যদিকে বর্ষায় কাজ না থাকা বেকার মানুষের আয়ের পথ তৈরি করে দিচ্ছে।

উপজেলার সিংগা, রাহুথড়, হাতিয়াড়া, শিল্টাসহ বিভিন্ন বিলে খুব ভোরে নানান বয়সী নারী-পুরুষেরা নৌকা নিয়ে ঘুরে ঘুরে শাপলা সংগ্রহ করে। কোনো পুঁজির প্রয়োজন হয় না বলে এ পেশা বেশ লাভজনক। শাপলা ফুল সাধারণত বর্ষায় ডুবে যাওয়া বোরো ধানক্ষেত, পাটক্ষেত ও আমন ধান ক্ষেতে বেশি জন্মায়।

শাপলা বিক্রিকে কেন্দ্র করে উপজেলার রাহুথড়ে পাইকারী বাজার গড়ে উঠেছে। ভোরের আলো ফুটতেই এ বাজারে আশপাশের গ্রামসহ প্রত্যন্ত এলাকা থেকে শাপলা সংগ্রহকারীরা জড়ো হন। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে মুখরিত হয় এ বাজার। শাপলা ফুলের সাদা আভায় আচ্ছাদিত হয়ে যায় সড়কে বসা পুরো বাজার। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে জেলা সদরসহ পার্শ্ববর্তী যশোর, মাগুরা, ঝিনাইদহ, নড়াইল ও লোহাগড়ায় বিক্রি করে থাকেন।

রাহুথড় শাপলার পাইকারি আড়তের ইজারাদার সংকর কুমার বসু বলেন, প্রতিদিন সকালে বিভিন্ন এলাকা থেকে নারী-পুরুষেরা শাপলা নিয়ে নৌকায় করে পাইকারী বিক্রির জন্য এখানে আসেন। পাইকাররা এসব শাপলা কিনে ভ্যান, ইজিবাইক ও নছিমন করে কাশিয়ানী সদরসহ যশোর, খুলনা, আলফাডাঙ্গা ও ভাটিয়াপাড়া নিয়ে বিক্রি করে। প্রতিদিন প্রায় ২০/৩০ গাড়ি শাপলা এখান থেকে বিভিন্ন জেলায় যায়।

শাপলা সংগ্রহকারী গোবিন্দ বিশ্বাস বলেন, আমি দীর্ঘ ১০ বছর ধরে শাপলা বিক্রির সঙ্গে জড়িত। বর্ষার সময় প্রতিদিন প্রায় ছয়-সাতশো টাকার শাপলা বিক্রি করি।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি