নেত্রকোনায় হাওরে মাছের আকাল, বিপাকে জেলে পরিবার

কৃষি ডেস্ক
২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ০৫:১৬

নেত্রকোনায় হাওরে মাছের আকাল, বিপাকে জেলে পরিবার

কয়েক বছর আগেও নেত্রকোনার বৃহত্তম হাওর ডিঙিউথা ছিল মাছের রাজ্য। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে এখান থেকে বিপুল পরিমাণ মাছ চলে যেত রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলে গেছে সেই চিত্র।
 
আইন ভঙ্গ করে নিষিদ্ধ সময়ে পোনা ও মা মাছ ধরার কারণে কমে গেছে মাছের উৎপাদন। তাই ভরা মৌসুমেও জেলেদের জালে আসছে না পর্যাপ্ত মাছ। এতে স্থানীয় বাজারে মাছের ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাতে হাওরের মাছের ওপর নির্ভরশীল অসংখ্য জেলে পরিবার পড়েছে বিপাকে।
 
নেত্রকোনার ডিঙিউথা হাওর বর্ষার ছয় মাস পূর্ণ থাকে অথৈ জলে। স্থানীয়রা বলছেন, এই হাওরের দারকিনা, নানিদ, মাশুল, লাচো, কালিবাউশ, পাবদা, চিংড়ি, বাতাসি, বোয়াল, বাঁশপাতা, বাঁচা, বাঘাইড়, মাগুর, চাপিলা মাছ স্বাদে অনন্য। সেগুলোর চাহিদাও আকাশচুম্বী। বর্তমানে এসব মাছের দেখা মেলে না বললেই চলে।
 
এর কারণ জানতে চাইলে জেলেরা দায়ী করেছেন আধুনিক মাছচাষ পদ্ধতি, জমিতে যথেচ্ছভাবে সারের ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগ, জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়া, পোনা ও মা মাছ নির্বিচারে ধরা, জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরার মতো প্রবণতাকে। আর এ জন্য ভুগতে হচ্ছে তাদেরই।
 
জেলেরা বলছেন, অনেক প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে রয়েছে। এছাড়াও নতুন করে অন্য মাছের উৎপাদন কমে যাওয়ায় হাওর পাড়ের খুরশিমুল, সিয়াদার, বলদশি, রামপাশা, তেতুলিয়া, পুঁটিউগা, চেছরাখালি, শামপুরসহ প্রায় ২৫টি গ্রামের মানুষ  পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ পাচ্ছেননা। অন্যদিকে, মাছের না পাওয়ায় জেলে পরিবারগুলোও কর্মহীনতায় ভুগছে।
 
খুরশিমুল গ্রামের জেলে পরিতোষ বলেন, দেশি মাছ বাঁচানির লাইগা সরহারের সাহায্য দরহার (দেশি মাছ বাঁচাতে সরকারের সাহায্য দরকার)।
 
হাওর অঞ্চলে বিলুপ্ত হতে যাওয়া দেশীয় প্রজাতির মাছের অভয়াশ্রম স্থাপনসহ প্রচুর পরিমাণে পোনা মাছ ছেড়ে সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মনে করেন এলাকাবাসী। হাওরবাসী এলাকাটিকে পুনরায় দেশীয় মাছের ভাণ্ডার হিসেবে গড়ে তুলতে কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন।
 
এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা দীলিপ সাহা  বলেন, জেলেদের পরিচয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। পরিচয়পত্র পাওয়া জেলেদের মধ্যে অসহায় ও দুর্ঘটনায় পড়েছেন এমন জেলেদের সরকারিভাবে সহযোগিতা দেয়া হবে।
 
অবৈধভাবে পোনা ও মা মাছ ধরার বিষয়ে জানতে চাইলে এই মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা বন্ধ করার জন্য মোবাইল কোর্ট কাজ করছে। তবে পোনা ও মা মাছ ধরাসহ পানি শুকিয়ে মাছ ধরা এবং জমিতে যথেচ্ছভাবে সার ও কীটনাশকের ব্যবহার বন্ধে কৃষকদের সচেতন হতে হবে।

ব্রেকিংনিউজ/এম