বিষমুক্ত ফল চাষে সফল শিক্ষক শামছুল আলম

জেলা প্রতিনিধি
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, মঙ্গলবার
প্রকাশিত: ০২:৪৫

বিষমুক্ত ফল চাষে সফল শিক্ষক শামছুল আলম

শামসুল আলম পেশায় শিক্ষক। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গড়ে তুলেন বিষমুক্ত বিভিন্ন জাতের ফলজ গাছের বাগান। বর্তমানে তার ৭ একর জায়গা নিয়ে গড়া বাগানে বিষমুক্ত হরেক রকমের ৭৮টি ফলজ গাছ রয়েছে। 

শামছুল আলমের বাড়ী টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নের চাপড়ী গ্রামে। তিনি ঘাটাইল এস ই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী কৃষি শিক্ষক। কৃষি শিক্ষক হওয়ায় শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি হাতেকলমে শিক্ষাদানের জন্য একটি ফলের বাগান করেন। এ বাগান থেকেই তিনি বাণিজ্যিকভাবে কেমিক্যাল মুক্ত ফল চাষ করার উৎসাহ পান। 

পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ৭ একর জায়গায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলেন দেশি-বিদেশি ৭৮ প্রজাতির ফলদ বৃক্ষের বিশাল বাগান। তার বাগানে ৮ থেকে ১০ জন শ্রমিক কাজ করছেন। কেমিক্যাল মুক্ত হওয়ায় বাজারে তার ফলের চাহিদাও ব্যাপক।  

শিক্ষক শামছুল আলম বলেন, বাগান করা আমার শখ এবং এ কাজের মধ্য দিয়ে আমি নিজেকে খুঁজে পাই। আমাকে দেখে এখন অনেকেই গাছ লাগাতে উৎসাহী হচ্ছে। তবে বাগানের প্রধান সমস্যা হলো সেচ দেয়া। পাহাড়ী মাটি হওয়ায় পানি ধারণ ক্ষমতা কম, তাই শুষ্ক মৌসুমে বেশি সেচ দিতে হয়। ৭ একর জমি সেচের আওতায় আনার মতো আর্থিক সামর্থ আমার নাই। গত বছর সেচের অভাবে বাগানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। 
 
তিনি বলেন, সরকারিভাবে যদি একটি সেচ প্রকল্প পাওয়া যায়, তাহলে বাগানে বিভিন্ন ফলের অধিক ফলন সম্ভব। আমার বাগানটিকে জীবন্ত সংগ্রহ শালা বানাতে চাই। আমি এখান থেকে দেশী-বিদেশী উন্নত ফলের চারা উৎপাদন করে স্বল্প মূল্যে চাষীদের মাঝে ছড়িয়ে দিচ্ছি। সেপ্টেম্বর মাসের পর থেকে বাজারে দেশীয় ফলের অভাব দেখা যায়। তখন বিদেশী ফলের উপর নির্ভরশীল থাকে ফল বাজার। আমি চাই সারা বছর দেশীয় ফলে বাজার সয়লাব থাকবে। 

তিনি আরো জানান, আমার বাগানে এলাকাবাসীসহ বিভিন্ন জেলা থেকে 
উৎসাহী লোকজন বাগান দেখতে ও ফল কিনতে  আসছেন। অনেকে বাগান করার পরিকল্পনার ব্যাপারেও পরামর্শ চাইতে আসেন।
   
এ ব্যাপারে ঘাটাইল উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল মতিন বিশ্বাস বলেন, শামছুল আলম একজন  মিশ্র ফলচাষী, পাশাপাশি তিনি শিক্ষকও। তাকে আমরা নিরাপদ ফল উৎপাদনের জন্য বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে থাকি। তিনি নিরাপদ ফল উৎপাদনের লক্ষ্যে বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করছেন। আমিসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ তার বাগান পরিদর্শন করেছি। বাগানটির সেচ সমস্যার সমাধানের লক্ষ্যে আমরা সেচ প্রকল্পের মাধ্যমে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার কামরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষক শামসুল আলম বিষমুক্ত ফল চাষ করে যেভাবে সফল হয়েছেন। তার দেখাদেখি অনেক বেকার যুবকও এ ব্যাপারে উৎসাহী হচ্ছেন। এজন্য  প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে বলেও তিনি জানান। 


ব্রেকিংনিউজ/এম