bnbd-ads
bnbd-ads

প্রসঙ্গ প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর হঠাৎ আত্মহত্যা

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
৯ মে ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:৩০ আপডেট: ০৪:৩৫

প্রসঙ্গ প্রেমিক রবীন্দ্রনাথ ও কাদম্বরী দেবীর হঠাৎ আত্মহত্যা

বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে এখনও গবেষণার বিষয়- কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সত্যিই কি তার বৌদি কাদম্বরী দেবীর প্রেম ছিল? কাদম্বরী থেকে দূরে সরাতেই কি রবীন্দ্রনাথকে হঠাৎ মৃণালিনীর সঙ্গে বিয়ে দেয়া হয়েছিল? রবীন্দ্রনাথকে না পেয়েই কি আত্মগ্লানিতে সইতে না পেতে আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন কাদম্বরী? সাহিত্য গবেষকদের জন্য যুগ-যুগান্তরের গবেষণার এই রসদ রেখে গেছেন আমাদের বিশ্বকবি।  

বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৫৮তম জন্মবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে সাহিত্যরসিকদের জন্য এ প্রসঙ্গে একটি নিবন্ধ তুলে ধরা হলো। 

শুরুতেই জেনে নেয়া যাক কে এই কাদম্বরী দেবী? মোটা দাগে তার পরিচয়- তিনি ছিলেন বাঙালি নাট্যকার, সঙ্গীতস্রষ্টা, সম্পাদক এবং চিত্রশিল্পী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী, মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুত্রবধূ এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বড় ভাইয়ের স্ত্রী অর্থাৎ বৌদি। 

১৮৫৯ সালের ৫ জুলাই কলকাতায় কাদম্বরীর জন্ম। পৈতৃক নাম মাতঙ্গিনী। তিনি ছিলেন ঠাকুরবাড়ির বাজার সরকার শ্যাম গাঙ্গুলির তৃতীয় কন্যা। মাত্র নয় বছর বয়সে ১৯ বছর বয়সী জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে কাদম্বরীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুর তার শিক্ষার বন্দোবস্ত করেছিলেন। তাঁর পিতামহ জগন্মোহন গঙ্গোপাধ্যায় ছিলেন একজন গুণী সংগীতশিল্পী। তার থেকেই কাদম্বরী এবং রবীন্দ্রনাথ বাল্যকালে সংগীত শিক্ষা নেন। 

সমবয়সী হওয়ার সুবাদে কাদম্বরীর সাথে রবীন্দ্রনাথের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠে এবং তিনি রবীন্দ্রনাথের বিভিন্ন গল্প, কবিতা, নাটক আর গান রচনায় উৎসাহ যুগিয়েছেন তার সৃষ্টিশীল মতামত প্রদানের মাধ্যমে। রবীন্দ্রনাথ এবং কাদম্বরী ছিলেন খুবই ভালো বন্ধু এবং সহপাঠী। যার কারণে এই দুজনের সম্পর্ক নিয়ে সেই সময়ে সৃষ্টি হওয়া বিভিন্ন বিতর্ক এখনো বিদ্যমান রয়েছে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিবাহের (১৮৮৩ সালের ৯ ডিসেম্বর) চার মাস পরে ১৮৮৪ সালের ১৯ এপ্রিল কাদম্বরী দেবী আফিম খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলে কথিত আছে। এর দুদিন পরই ২১ এপ্রিল মাত্র ২৫ বছর বয়সে তার মৃত্যু হয়। কিন্তু কাদম্বরীর মৃত্যু নিয়ে  জোড়াসাঁকোর ঠাকুর পরিবার শুরু থেকেই নীরব ছিল।

মূলত পারিবারিক সমস্যার কারণে তার মৃত্যু হয়েছে বলে বিতর্ক রয়েছে। হিন্দু প্রথা অনুযায়ী তাকে মর্গে পাঠানো হয় নি, জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িতেই বসানো হয়েছিল করোনার কোর্ট। সাহিত্য গবেষকরা মনে করেন, স্বয়ং মহর্ষির উদ্যোগেই করোনার রিপোর্ট লোপ করা হয়, সঙ্গে লোপাট করা হয় 'সুইসাইড নোট'। ৫২ টাকা ঘুষ দিয়ে মুখ বন্ধ করা হয় সংবাদমাধ্যমের। তাই কাদম্বরীর মৃত্যু সংবাদ তখন কোনও পত্রিকায় ছাপা হয়নি।

কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং তার স্মৃতি নিয়ে মৃত্যুর দীর্ঘদিন পরেও একাধিক কবিতা, গান ও গল্প রচনা করতে দেখা যায় কবিগুরুকে।

জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে কাদম্বরী দেবীর বিয়ে হয়েছিল ১৮৬৮ সালের ৫ জুলাই। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ঠাকুরও ছিলেন  বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি তাঁর নানা কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার ফলে কাদম্বরী তাকে খুব একটা কাছে পেতেন না। তিনি কাদম্বরী দেবীকে সঙ্গ দিতে না পারলেও তিনি তার শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। জ্যোতিরিন্দ্রনাথ ছিলেন একজন আধুনিক মনষ্কা ব্যক্তি। তিনি কাদম্বরী দেবীর শিক্ষার সাথে সাথে তখনকার দিনে খোলা মাঠে তাকে ঘোড়ায় চড়া শেখানোর ব্যবস্থাও করেছিলেন। রবীন্দ্রনাথ তাঁর জীবনস্মৃতিতে লিখেছেন যে, “জ্যোতি দাদা ও বৌঠান চিৎপুরের রাস্তা দিয়ে ঘোড়ায় চড়ে গঙ্গার ধারে ইডেন গার্ডেনে বেড়াতে যেতেন।” 

কাদম্বরী দেবীর বিয়ের সময় রবির বয়স ছিল ৭ বছর ও কাদম্বরীর ৯ বছর অর্থাৎ দুজনে প্রায় সমবয়সী ছিলেন এবং সেই কারণেই কাদম্বরী দেবীর খেলার সাথী ছিলেন রবীন্দ্রনাথ।  রবীন্দ্রনাথের জীবনীকার প্রভাত কুমার মুখোপাধ্যায় লিখেছেন : "He had been her playmate and companion ever since her marriage." 

কাদম্বরী দেবী স্বামীকে খুব একটা কাছে পেতেন না, তিনি ছিলেন উপেক্ষিতা এবং একাকী। এমত অবস্থায় রবীন্দ্রনাথই ছিল তাঁর দিনযাপনের সঙ্গী। 
রবীন্দ্রনাথের ২২ বছর বয়সে হটাৎ এবং অপ্রত্যাশিত ভাবেই বিয়ে হয় ১১ বছর বয়সী ভবতারিণী দেবীর সাথে, ৯ ডিসেম্বর ১৮৮৩ সালে। বিয়ের পর নাম হয় মৃণালিনী দেবী। তিনি বাংলাদেশের খুলনার বেণীমাধব রায়চৌধুরীর মেয়ে। 

জীবনস্মৃতিতে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন- “কারোয়ার হইতে ফিরিয়া আসার কিছুকাল পরে ১২৯০ সালে ২৪ শে  অগ্রহায়ণে আমার বিবাহ হয়, তখন আমার বয়স বাইশ বৎসর।” তাঁর বিয়ের চারমাস কয়েকদিন পরে, কাদম্বরী দেবী ১৯ এপ্রিল ১৮৮৪ সালে আত্মহত্যা করেন। আত্মহত্যার কারণ জানা থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি। Biographer Mukhopadhyay writes of Kadambari Devi's death: "The reasons are shrouded in mystery. But that there was some family misunderstanding, it cannot be doubted."

কাদম্বরী দেবীর অকালমৃত্যু কবির মনে গভীর শোকের ছায়া রেখে যান। রবীন্দ্রনাথের নিজের ভাষাতেই তা চিঠি , গান বা কবিতার মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে পরোক্ষভাবে ব্যক্ত করেছেন। তাই কবির অনেক গানে ও কবিতায় কাদম্বরী দেবীর উপস্তিতি দেখতে পাই। জীবনস্মৃতিতে লিখেছেন - "কিন্তু আমার ২৪ বছর বয়সের সময় মৃত্যুর সঙ্গে যে পরিচয় হইল তাহা স্থায়ী পরিচয়। তাহা তাহার পরবর্তী  প্রত্যেক বিচ্ছেদশোকের সঙ্গে মিলিয়া অশ্রুর মালা দীর্ঘ করিয়া গাঁথিয়া চলিয়াছে। শিশুবয়সের লঘু জীবন বড়ো বড়ো মৃত্যুকেও অনায়াসেই পাশ কাটা ছুটিয়া যায়, কিন্তু অধিক বয়সে মৃত্যুকে অত সহজে ফাঁকি দিয়া এড়াইয়া চলিবার পথ নাই। তাই সেদিনকার সমস্ত দুঃসহ আঘাত বুক পাতিয়া লইতে হইয়াছিল।" 

কবিগুরুর একটি চিঠি থেকে বোঝা যায় কাদম্বরীর মৃত্যুতে তাঁর শোক কতটা গভীর ছিল। কবি অমিয় চক্রবর্ত্তীকে (পরবর্ত্তীকালে ইনি কবির সাহিত্য সহায়ক হয়েছিলেন) লিখেছিলেন - “আমি তোমারই বয়সে, তোমার মতো আমার জীবনেও এক গভীর শোক নেমে এসেছিলো। আমার এক অতি নিকট আত্মীয়া আত্মহত্যা করেছিলেন। তিনি ছিলেন আমার জীবনের, সেই বাল্যকাল থেকে, এক সম্পূর্ণ অবলম্বন। তাঁর অপ্রত্যাশিত মৃত্যুতে মনে হয়েছিল যেন আমার পায়ের নীচের মাটি সরে গেছে, আকাশ কালো মেঘে ঢেকে গেছে। আমার পৃথিবী শুন্যে পরিণত হয়েছে, আমার জীবনের মধুর স্বাদ জীবন থেকে বিদায় নিয়েছে।”

কবি তাঁর জীবন স্মৃতিতে লিখেছেন-  ছোটবেলায়  মাকে হারানোর  শোক  তিনি ততোটা বুঝতে পারেননি, কারণ কাদম্বরী দেবী মায়ের অভাবটা বুঝতে দেননি। যদিও কাদম্বরী তখন তাঁরই বয়সী এবং খেলার সঙ্গী। অনেক কবিতা ও গানে তাঁর ছায়া দেখা যায়। কাদম্বরী দেবীর মৃত্যুর চার বছর পর কবি ‘তবু মনে রেখো -- ’ গানটি লেখেন। এটা তাঁকে উদ্দেশ্য করেই লেখেন এতে কোনও সন্দেহ নেই। গানটি বুঝতে হলে, গানটি কাদম্বরী দেবীর মুখে বসিয়ে পড়তে বা শুনতে হবে।  

“তবু    মনে রেখো যদি দূরে যাই চলে।
যদি    পুরাতন প্রেম ঢাকা পড়ে যায় নবপ্রেমজালে।
             যদি   থাকি কাছাকাছি,
দেখিতে না পাও ছায়ার মতন আছি না আছি ---
                      তবু     মনে রেখো ।।
       যদি জল আসে আঁখিপাতে,
 এক দিন যদি খেলা থেমে যায় মধুরাতে,
                     তবু     মনে রেখো ।
এক দিন যদি বাধা পড়ে কাজে শারদ প্রাতে - মনে রেখো ।।
                   যদি       পড়িয়া মনে
 ছলোছলো জল নাই দেখা দেয় নয়নকোণে --
                   তবু    মনে রেখো ।।”

কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার ৩০ বছরেরও বেশি পরে রবীন্দ্রনাথ লিখেন- ‘প্রথম শোক’ (FIRST SORROW)

বনের ছায়াতে যে পথটি সে আজ ঘাসে ঢাকা ।
সেই নির্জনে হটাৎ পিছন থেকে কে বলে উঠলো,
‘আমাকে চিনতে পার না?’
আমি ফিরে তার মুখের দিকে তাকালেম।
বললেম, ‘মনে পড়ছে, কিন্তু ঠিক নাম করতে পারছি না।’
সে বললে, ‘আমি তোমার সেই অনেক কালের,
সেই পঁচিশ বছর বয়সের শোক।’
তার চোখের কোনে একটু ছল্‌ছলে আভা দেখা দিলে,
যেন দিঘির জলে চাঁদের রেখা। 
অবাক হয়ে দাঁড়িয়ে রইলেম ।
বললেম  ‘সেদিন তোমাকে শ্রাবণের মেঘের মতো কালো দেখেছি,
আজ যে দেখি আশ্বিনের সোনার প্রতিমা।
সেদিনকার সব চোখের জল কি হারিয়ে ফেলেছ।’
কোনো কথাটি না বলে সে একটু হাসলে;
বুঝলেম সবটুকু রয়ে গেছে ওই হাসিতে।
বর্ষার মেঘ শরতে শিউলিফুলের হাসি শিখে নিয়েছে।
আমি জিজ্ঞাসা করলেম, ‘আমার সেই পঁচিশ বছরের যৌবনকে  কি আজও  তোমার কাছে রেখে দিয়েছ ।’
সে বললে - ‘এই দেখো-না আমার গলার হার।’
দেখলেম, সেদিনকার বসন্তের মালার একটি পাপড়িও খসেনি।
আমি বললেম, ‘আমার আর তো সব জীর্ণ হয়ে গেল, কিন্তু তোমার গলায় আমার সেই পঁচিশ বছরের যৌবন  আজও ত ম্লান হয়নি।’
আস্তে আস্তে সেই মালাটি নিয়ে সে আমার গলায় পরিয়ে দিলে।
বললে ‘মনে আছে? সেদিন বলেছিলে তুমি সান্ত্বনা চাও না, তুমি শোককেই চাও’
লজ্জিত হয়ে বললেম ‘বলেছিলেম । কিন্তু তারপর অনেকদিন হয়ে গেল, তারপরে কখন ভুলে গেলেম।’
সে বললে ‘যে অন্তর্যামীর বর, তিনিতো ভোলেননি। আমি সেই অবধি ছায়া-তলে গোপনে বসে আছি। আমাকে বরন করে নাও।’
আমি তার হাতখানি আমার হাতে তুলে নিয়ে বললেম, ‘একি তোমার অপরূপ মুর্তি।’
সে বললে,  ‘যা ছিল শোক, আজ তাই হয়েছে শান্তি।’

সত্যাজিৎ রায় রবীন্দ্রনাথের ‘নষ্টনীড়’ গল্পটিকে  ‘চারুলতা’ সিনেমায় রূপান্তরিত করার আগে  রীতিমতো Research করেছিলেন বলেই শোনা যায়। এটাই স্বাভাবিক, কারণ তিনি সত্যজিৎ রায়। গল্পের চারুলতাই বাস্তবের কাদম্বরী।  Marie Seton, তার লেখা  (1971 )  'Portrait of a Director : Satyajit Ray' বইয়ে লেখেন -  Ray, when he was doing research on Tagore during the later 1950s in preparation for turning "The Fouled Nest" into film, came across, as Seton puts it, "Tagore's marginal notations linking the name of Rabindranath's sister-in-law . . . with that of Charu, the novel's central character." 

সত্যজিৎ ‘নষ্টনীড়’ পান্ডুলিপির মার্জিনে কাদম্বরী দেবীর Notation বা  স্কেচ দেখতে পান। যা থেকে অনুমান করা যায় যে গল্পের চারুলতা বাস্তবের কাদম্বরী দেবীরই প্রতিফলন। কবি তাদেরই গল্প লিখেছেন ‘নষ্টনীড়’ উপন্যাসে।

‘নষ্টনীড়’ গল্পটি লেখার সময়ও কবির মাথায় কাদম্বরী দেবী ছিলেন। তাইতো পান্ডুলিপির মার্জিনে কখনো দেখা যায় কাদম্বরীর ডাকনাম ‘হেকাটি’ (গ্রিক দেবতা) কখনো বা কাদম্বরীর স্কেচ। তাই কোন সন্দেহ নেই যে কবি নষ্টনীড়ের গল্পের মাধ্যমে কাদম্বরীর কথা, তার স্বামীর কথা এবং নিজের কথাই বলেছেন, তবে অন্য নামে।  

সাহিত্য গবেষকদের ধারণা, কাদম্বরী দেবীর আত্মহত্যার কারণ হঠাৎ রবি ঠাকুরের বিয়ে। যদিও এর কোনও প্রমাণ নেই, তবে সবদিক ভেবে দেখলে আপাতঃদৃষ্টিতে তাই মনে হয় । কারণ বাস্তবে হয়তো কাদম্বরী দেবী রবি বিয়ে করুক তা চাননি তাই তিনি যশোরে রবীন্দ্রনাথের জন্য উপযুক্ত মেয়ে খুঁজে পাননি। এই অবস্থায় হটাৎ রবির বিয়ে হয়ে গেল এক ১১ বছরের অশিক্ষিত ভবতারিণী নাম্নী মেয়ের সাথে। বিয়ের চারমাস কয়েকদিন পরেই কাদম্বরী দেবী আত্মহত্যা করেন। 

রবির হটাৎ বিয়ের কারণ জানা নেই। যে কারণেই হোক, হটাৎ করেই রবির বিয়ের ব্যবস্থা হয়। কিছু  ঘটনা বা সম্পর্কের সুত্রপাত পরিবারের গুরুজনেরা বুঝতে পারেন এবং তড়িঘড়ি রবির বিয়ের ব্যবস্থা হয়। কাদম্বরী মৃনালিণীর সাথে রবির বিয়ে হোক তা চান নি। তিনি গোপনে বাধা দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু কিছু ফল হয়নি। একদিন রবির বিয়ে হয়ে গেল। তাঁর সবচেয়ে কাছের এবং প্রিয়জন হটাৎ এক ১১ বছর বয়সী মেয়ের হয়ে গেল, এটা কাদম্বরী কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি। এই অবস্থায় কোনও উপায়ন্তর না দেখে কাদম্বরী মৃত্যুকেই বরণ করে নিলেন।

(তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট, ওয়েবসাইট)

ব্রেকিংনিউজ/এমআর