bnbd-ads
bnbd-ads

‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই’

বিনোদন ডেস্ক

২৫ মে ২০১৯, শনিবার
প্রকাশিত: ১০:২৬ আপডেট: ১২:২৭

‘এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই’

সাম্য ও মানবতার অমর কবি। কান্ডারি। প্রেমে পূর্ণ। দ্রোহের অগ্নিশিখা। তিনি আর কেউ নন, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম। ‘আমি যুগে যুগে আসি, আসিয়াছি পুনঃ মহাবিপ্লব হেতু...।’ পরাধীনতার যুগে তিনি এসেছিলেন মহাবিপ্লব হয়ে। তিনি একাধারে সাম্যের-মানবতার, প্রেমের-দ্রোহের, বিদ্রোহের কবি, তিনি আমাদের জাতীয় চেতনার প্রতিচ্ছবি।
আজ ১১ জ্যৈষ্ঠ শনিবার এই মহান বিদ্রোহী পুরুষের ১২০তম জন্মবার্ষিকী। 

১৩০৬ বঙ্গাব্দের এই দিনে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার আসানসোল মহকুমার চুরুলিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম নিজের সৃষ্টির মধ্য দিয়ে প্রেমের কথা বলেছেন। সবার উর্ধে তুলে ধরেছেন মানবতাকে। সাম্যের কবি নজরুল সমাজের নিচু তলার মানুষকেও কাছে টেনে নিয়েছেন। মেনে নেননি নারীর প্রতি উপেক্ষা। ধার্মিক মুসলমান সমাজ ও অবহেলিত জনগণের সঙ্গে তার বিশেষ সম্পর্ক থাকলেও সর্বক্ষণ সাম্প্রদায়িকতার নিন্দা করেছেন কড়া ভাষায়। 

বলেছেন, “বিশ্ব যখন এগিয়ে চলেছে, আমরা তখনও বসে- বিবি তালাকের ফতোয়া খুঁজেছি, ফিকাহ ও হাদিস চষে ”

স্বার্থান্ধ মৌলবাদীদের বিরুদ্ধে ছিলেন সদা সোচ্চার। সাম্রাজ্যবাদবিরোধী কবি তৎকালীন ভারতবর্ষে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় অসংখ্যবার জেল খেটেছেন। জেলে বসেই তিনি লিখেছেন তার বিখ্যাত ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী।’ ঘাত-প্রতিঘাতের মধ্য দিয়ে এভাবেই দুর্দম গতিতে এগিয়ে এসেছেন তিনি। হয়ে উঠেছেন বিদ্রোহী নজরুল।

নজরুল মানুষের কবি,- মানবতার কবি। তার কন্ঠে উচ্চারিত হয়েছে মানবতার সুর। মানবতার প্রতি অভ্রান্ত বিশ্বাসে তিনি কাব্য সাধনায় নিয়োজিত হয়েছেন। তাই তার কাব্যে মানব প্রত্যয় দ্বিধাহীনভাবে উচ্চারিত হয়েছে। নজরুল মানুষের প্রতি গভীর সহানুভূতি পোষণ করেন। মানুষের ব্যথা ও বেদনা তাকে গভীরভাবে অভিভূত করে।

“এই হৃদয়ের চেয়ে বড় কোন মন্দির কাবা নাই” কিংবা কারো মনে তুমি দিওনা আঘাত/ সে আঘাত লাগে কাবার ঘরে/ মানুষেরে তুমি যতো কর ঘৃণা/ খোদা যান তত দুরে সরে-/ মানবতার সাথে সাম্যের বাণী যাঁর সৃষ্টিতে বারে বারে উচ্চারিত হয়েছে-তিনি আমাদেরই নজরুল।

সাম্প্রদায়িক মনোভাব ছিল কবির কাছে কত ঘৃণার বিষয় সেটাও ছড়িয়ে আছে তার সাহিত্যজুড়ে। লিখেছেন, 

‘গাহি সাম্যের গান- 

যেখানে আসিয়া এক হয়ে গেছে সব বাধা-ব্যবধান

যেখানে মিশছে হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম-ক্রিশ্চান।

মানবতার এই কবি নিজের সম্পর্কে বলে গেছেন, ‘আমি কবি যত ইতরের মুটে মজুরের’ এমনি আরও অজস্র বিশেষণ রয়েছে তার সাহিত্যে। 

নজরুলের পূর্বসুরিরা যেখানে বলেছেন- ‘জাগো দেশ, জাগো জাতি’, সেখানে নজরুল বললেন-“জাগো নিপীড়িত, জাগো কৃষক, জাগো শ্রমিক, জাগো নারী”, স্বাধীনতার সাথে নির্যাতিত শ্রেণির মানুষের মুক্তি, এবং বুর্জোয়া সামন্ততন্ত্রের পরিবর্তে সাম্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠবে এক রাষ্ট্র- এটি ছিল তাঁর স্বপ্নকাব্যে-গানে-গল্পে বা উপন্যাসে বা প্রবন্ধে বা ভাষণে এই মানবতার বাণী উচ্চারণ করেছেন বারে বারে। এখানেই তাঁর স্বাতন্ত্র স্পষ্ট এবং এখানেই তিনি যুগোত্তর।

বাঙালির অফুরন্ত আবেগ, বাঁধনহারা উচ্ছ্বাস আর প্রবল প্রাণশক্তিকে আপন আত্মায় ধারণ করে তিনি দ্রোহ, প্রেম সাম্য ও মানবতার বাণী শুনিয়েছেন ফাঁসীর মঞ্চে দাড়িয়েও। তিনি মানবতার ও অসাম্প্রদায়িক চেতনায় সাম্যবাদের কথা বলেছেন-সব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে। অমর প্রতিদ্বন্দ্বী কাজী নজরুল ইসলাম মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ছিলেন নির্ভীক ও অসম সাহসী এক কবি। 

ব্রেকিংনিউজ/অমৃ

bnbd-ads
MA-in-English
bnbd-ads