পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে যা দেখেছিলেন শেখ সাদী

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
২৭ জুন ২০১৯, বৃহস্পতিবার
প্রকাশিত: ০৪:৪২

পায়ে হেঁটে বিশ্বভ্রমণে বেরিয়ে যা দেখেছিলেন শেখ সাদী

ফার্সি সাহিত্যে একটি প্রবাদ আছে— ‘সাত জন কবির সাহিত্যকর্ম রেখে যদি বাকি সাহিত্য দুনিয়া থেকে মুছে ফেলা হয়, তবু ফার্সি সাহিত্য টিকে থাকবে। এই সাতজন কবির অন্যতম শেখ সাদী।’ ফার্সি গদ্যের জনক মহাকবি শেখ সাদী দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাভাষী পাঠকের কাছে অতি প্রিয় কবি। শুধু বাঙালিই নয় বিশ্বজুড়ে তিনি অত্যন্ত সমাদৃত।

খালি পায়ে বিশ্বভ্রমণ: শেখ সাদী দৈহিকভাবে অত্যন্ত বলিষ্ঠ ছিলেন। পায়ে হেঁটেও বহু অঞ্চল তিনি ভ্রমণ করেছেন। অনেক সময় ফকির-দরবেশের মতো খালি পায়েই তাকে চলতে হয়েছে। 

তাঁর রচিত বিখ্যাত গ্রন্থ গুলিস্তাঁয় সাদী লিখেছেন, আমি কখনো কালের কঠোরতা ও আকাশের নির্মমতার ব্যাপারে অভিযোগ করিনি। তবে একবার নিজেকে ধরে রাখতে পারিনি। কারণ পায়ে তখন জুতা তো ছিলই না এমনকি জুতা কেনার মতো অর্থও ছিল না। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে ইরাকের মসজিদ আল কুফায় গিয়ে উঠলাম। তখন দেখি একটি লোক শুয়ে আছে যার একটি পা-ই নেই। তখন খোদাকে শোকর জানিয়ে নিজের খালি পা থাকাও সন্তুষ্ট হলাম। 

হাঁটতে হাঁটতেই তিনি দেখেছেন মুসলিম সাম্রাজ্যের শৌর্য-বীর্য, সঙ্গে সঙ্গে পতনের দৃশ্য। পায়ে হেঁটে তিনি চৌদ্দবার হজ পালন করেছেন। ভ্রমণের মধ্যে ছিল পারস্য সাগর, ভারত মহাসাগর, ওমান সাগর, আরব মহাসাগর পাড়ি।

কথিত আছে, ভারত সাগর ভ্রমণ বাদে সাদী আরও তিনবার ভারতবর্ষে পদার্পণ করেছিলেন। পাঠানরাজ আলতামাশের সময় তিনি কিছুকাল দিল্লিতে অবস্থান করেছিলেন। 

চতুর্থবার তিনি বিখ্যাত কবি ও গায়ক আমির খসরুকে দেখতেই ভারতে আসেন। সাদী পূর্বে ভারতের সিন্ধু প্রদেশ অবধি এসেছিলেন। এরপরে খ্রিষ্টীয় ১৩ শতাব্দির শেষভাগে মুলতানের শাসক যুবরাজ মুহাম্মদ খান শহিদ তার পিতা গিয়াসুদ্দিন বলবনের পক্ষ থেকে শেখ সাদীকে ভারতে আসতে দুবার আমন্ত্রণ জানান।

ব্রেকিংনিউজ/এমআর