ঢাকায় ‘মহাকবি ফেরদৌসী ও ওমর খৈয়াম’ স্মরণে সেমিনার

শিল্প-সাহিত্য ডেস্ক
১৫ জুলাই ২০১৯, সোমবার
প্রকাশিত: ১১:৪১

ঢাকায় ‘মহাকবি ফেরদৌসী ও ওমর খৈয়াম’ স্মরণে সেমিনার

পারস্যের মহাকবি ফেরদৌসী ও হাকিম ওমর খৈয়াম ছিলেন পৃথিবীর শক্তিমান কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে অন্যতম। আর ইরানকে বলা যায় পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপিঠ ও শিক্ষাকেন্দ্র। কারণ এখান থেকেই বিশ্বজুড়ে জ্ঞানের আলো ছড়িয়েছেন কবি ফেরদৌসি, শেখ সাদি, হাফিজ, ওমর খৈয়াম ও আল বিরুনির মতো সাহিত্যিক, শিক্ষাবিদ ও পণ্ডিত ব্যক্তিরা। 

সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তরা এসব কথা বলেন। 

আনজুমানে ফারসি বাংলাদেশ ও ফারসি প্রোগ্রাম, আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের সম্মানিত পরিচালক প্রফেসর ড. শিশির ভট্টাচার্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সম্মানিত চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. আবুল কালাম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকাস্থ ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের ভারপ্রাপ্ত কালচারাল কাউন্সেলর ড. মাহদী হোসেইনী ফায়েক। 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের প্রফেসর ড. শামীম বানুর উপস্থাপনায় অনুষ্ঠানে ‘ওমর খৈয়ামের কবিতায় আনন্দ ও মুহূর্তকে কাজে লাগানোর দর্শন’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট ফারসি গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ইরানি ভিজিটিং প্রফেসর ড. কাজেম কাহদূয়ী। এই প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. কে. এম. সাইফুল ইসলাম খান। আর মহাকবি হাকিম আবুল কাসেম ফেরদৌসী ও তার ‘শাহনামা’র ওপর প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষক প্রফেসর ড. মুহসীন উদ্দিন মিয়া। এই প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন বাংলাদেশের স্বনামধন্য কবি আল মুজাহিদী। 

অনুষ্ঠানে ওমর খৈয়াম সম্পর্কে বক্তারা বলেন, খৈয়াম এমন পরিস্থিতিতে জন্মগ্রহণ করেন, যে যুগে মানুষ চতুর্মুখী গোলযোগ ও অরাজকতায় আচ্ছন্ন ছিল। এমন পরিবেশ ও পরিস্থিতিতেই খৈয়াম তার ‘রূবাই’ রচনার মাধ্যমে মানুষকে মানবমুখী হওয়া ও জীবনের বর্তমান সময়টিকে কাজে লাগানোর দিকে আহ্বান জানান। খৈয়াম তার সময়ের জ্ঞান-বিজ্ঞান আয়ত্ত করার দিকে অমনোযোগী ছিলেন না। বুদ্ধিবৃত্তিক জ্ঞান, যেমন প্রজ্ঞান, গণিত, জোতির্বিদ্যা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানে যুগশ্রেষ্ঠ ছিলেন। সাহিত্য, বর্ণনাভিত্তিক জ্ঞান-বিজ্ঞান, যেমন তাফসীর, হাদীস, কুরআনের কেরাত সম্পর্কিত বিভিন্ন বর্ণনার ওপর তার পূর্ণ দখল ছিল। তার রচনার সবচেয়ে মুখ্য বৈশিষ্ট্য হল, ভাষার প্রাঞ্জলতা, সব ধরনের শব্দের যাবতীয় খেলা ও চাতুর্য, এমনকি কাব্যশিল্প থেকে মুক্ত হওয়া। 

অপরদিকে বিশ্বকবি ফেরদৌসি সম্পর্কে বক্তরা বলেন, ইরানের ঐতিহ্যমণ্ডিত জাতীয় ঘটনাবলি ও ইতিহাসকে পুনরুজ্জীবন দান এবং বিশুদ্ধ ফারসি ভাষা ও সাহিত্যের নব দিগন্ত উন্মোচনের প্রেক্ষাপট বিনির্মাণের সফল সৈনিক ইরানের মহকবি ফেরদৌসী। তিনি দেশমাতৃকার প্রতি অকৃত্রিম ভালবাসা, জাতীয়তাবোধ ও দেশাত্মবোধের অগ্নিমশাল জ্বালিয়েছেন তার কবিতার মাধ্যমে। এক সময়কার অন্যতম পরাশক্তি পারস্যের হারানো গৌরবকে নাড়া দিতে পরাজয়ের আত্মগ্লানিতে আচ্ছন্ন নির্জীব জাতীকে পুনঃশক্তি অর্জনের মন্ত্রণা যোগাতে ষাট হাজার শ্লোকের বিশাল কাব্যসৌধ নির্মাণ করেছেন তিনি। 

“ইরানের প্রাচীন গৌরবগাথাগুলো পুনরায় দৃষ্টিগোচরে আনতেনিজ দেহকানি মানষপটে যে সাহিত্যবীজ লালন করেছিলেন কবিতার পত্র-পল্লবে বিকশিত হয়ে তাই ধরা দিয়েছে ‘শাহনামা’ নামে। এর সাহিত্য সৌন্দর্য ও চিত্তাকর্ষক লালিত্যে মোহিত হয়নি এমন সাহিত্যবোদ্ধা খুঁজে পাওয়া ভার। বিশ্ব সাহিত্যের যে কয়েকটি কালজয়ী নিদর্শন স্বীয় রূপ-মাধুর্য দিয়ে সাহিত্যমোদীদেরতৃষ্ণা নিবারণ করছে, স্বীয় জাতির জন্য রেখে যাওয়া তার এ অনবদ্য সাহিত্যকর্ম ‘শাহনামা’তাকে ইরানের জাতীয় কবির মর্যাদায় অভিষিক্ত করেছে” বলেন বক্তারা।

ব্রেকিংনিউজ/এমজি

bnbd-ads